বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ফ্যাসিস্ট নূর মোহাম্মদে প্রভাবিত রেলওয়ে কর্মকর্তা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:২৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফ্যাসিস্ট নূর মোহাম্মদে প্রভাবিত রেলওয়ে কর্মকর্তা, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার

কিশোরগঞ্জে রেলওয়ের একটি রেল চেক (ক্রসিং রাস্তা) নির্মাণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও সরকারি সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, সরকারি জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে মানিকখালী রেলস্টেশনের কাছে এই রেল চেক তৈরি করা হচ্ছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান শেখ হাসিনার আমলে ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠা সাবেক পুলিশ প্রধান, পরবর্তীতে সচিব ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনকারী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ব্যক্তিগত যাতায়াত সুবিধার্থে। স্থানীয়দের দাবি, ফ্যাসিস্ট আমলের দোসর ও স্বৈরাচারের সহচর হিসেবে পরিচিত নূর মোহাম্মদ এখনও তার অবৈধ অর্থ ও পুরোনো ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ও রেল প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করছেন।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদি উপজেলার মানিকখালী রেলস্টেশনের নিকট সেকশন কি.মি. ২৬৫/৪–৫ এলাকায় রেল চেক নির্মাণ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, “সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়ার এমন দৃশ্য এই প্রথম দেখলাম।” এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান রাজনের বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় নূর মোহাম্মদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও দোসর সম্পর্কের কারণে সরকারি কাজকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

রেলওয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। তাদের দাবি, এই ধরনের রেল ক্রসিং নির্মাণে বাংলাদেশ রেলওয়ের General Instruction Book of Railway (GIBR) অনুযায়ী লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক এবং গেটম্যান নিয়োগ ছাড়া কোনো রেল চেক চালু করা যায় না।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (সি–ই) তানভীর আহম্মেদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন–২) আহসান হাবীব বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” উপসহকারী প্রকৌশলী (এইএন), ভৈরববাজার, জাহিদ হাসান জানান, “মানিকখালী এলাকায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।”

অভিযুক্ত ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) আনিসুজ্জামান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় মেরামতের কাজই করা হয়েছে।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কেউ অনিয়ম, অবৈধ অর্থের প্রভাব ও ফ্যাসিস্ট আমলের দোসরদের ছায়াশক্তির আশঙ্কা করছেন; কেউ আবার বিশ্বাস করছেন তদন্তের পর সত্য স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—নূর মোহাম্মদ তার পূর্বের ক্ষমতা ও সুবিধাভোগী নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করছেন এবং সরকারি সম্পদ নিজের সুবিধায় কাজে লাগাচ্ছেন।

হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী মো. নাজমুল ইসলাম হোসেনপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ আদালতের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আলোকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের মেচেড়া (আটকাপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম (৪৮) তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে দখল ও বসতঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় আবেদন করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, একই গ্রামের শহীদ মিয়া, সোহাগ মিয়া, মো. ফজলু গংসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

আরও বলা হয়, বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে দখল নেওয়া এবং বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশনায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। হোসেনপুর থানা থেকে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমিতে কেউ কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা, দখল বা অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, বিবাদীপক্ষ ওই নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতিরোধে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বিষয়টির স্থায়ী সমাধান ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।

হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের সন্তান মোশারফ হোসেনের সাটুরিয়া থানার ওসি হিসেবে পদায়ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ৬ নম্বর পুমদী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নান্দানিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোশারফ হোসেনকে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

তার এই গুরুত্বপূর্ণ পদায়নে পুমদী ইউনিয়নসহ হোসেনপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, মোশারফ হোসেন এর আগে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-তে ওসি (ডিবি) হিসেবে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।

পুমদী ইউনিয়নবাসী আশা প্রকাশ করেন, তিনি নতুন কর্মস্থল সাটুরিয়া থানায়ও দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

এ সময় তার সার্বিক সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ কর্মজীবনের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়।

অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ৬,৪৭৬ জনের নাম বাতিল

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুযায়ী এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিভিন্ন ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপাতত সম্মানি ভাতা বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য প্রতি বছর চার হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া কোনো মুক্তিযোদ্ধা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে, স্বীকৃত হাসপাতালের বিল মন্ত্রণালয় পরিশোধ করে থাকে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উপজেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে তা যাচাই করে।

অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১০৩টি সভার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।