সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানী ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানী ড্রোন হামলা, জ্বালানি ট্যাংকে আগুন

©aa

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত–এর প্রধান বিমানবন্দর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি জ্বালানি ট্যাংক ও একটি ভবনে আগুন ধরে যায়।

রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যেতে পারে) কুয়েত সরকার জানায়, ভোরে দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-আতওয়ান জানান, সশস্ত্র বাহিনী ভোরের দিকে আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী ড্রোনের একটি ঢেউ মোকাবিলা করেছে।

তিনি বলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংক, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত। হামলার পর বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক ও Public Institution for Social Security–এর প্রধান ভবনে আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই স্থানের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে নির্বাপন করেন।

কুয়েতের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। বিভিন্ন এলাকায় যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সময় ঘটে।

এর আগে শনিবার ভোরেও কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করা সাতটি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানায় দেশটির সামরিক বাহিনী। সেগুলো দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ধ্বংস করা হয়। তবে ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান–এর ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকে ইরানি বাহিনী ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।

নিকলীতে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
নিকলীতে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের নিকলী থানায় পুলিশের উদ্যোগে ওপেন হাউজ ডে-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় নিকলী থানা ভবনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম। ওসি (তদন্ত) আক্তার খানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তৃপ্তি মণ্ডল।

ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় ঈদকে সামনে রেখে বাজারে জাল টাকা বিনিময় প্রতিরোধ, যানজট নিরসন, মহিলা পকেটমারদের দৌরাত্ম্য রোধ, নিকলীর বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রি ও ভাসমান ইয়াবা বিক্রেতাদের প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধ দমনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় দৈনিক কিশোরগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক, নিকলী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ উবাইদুল হক সম্রাট সহ অন্যান্য সাংবাদিক উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।

বাজিতপুরে নদীর ওপর বহুতল ভবনের পাইলিং: পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে নদীর ওপর বহুতল ভবনের পাইলিং: পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হিলচিয়া বাজার সংলগ্ন কাদাঙ্গী নদীর ওপর নির্মিত গুরুই–নিকলী সড়কের ব্রিজের পাশ ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে পাইলিং কাজ চলায় পরিবেশ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই নদীর ওপর এ ধরনের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

জানা যায়, হিলচিয়া মৌজার ৭৮৩ নম্বর খতিয়ানের ৯৬২ নম্বর দাগের মৃত জগতীশ চন্দ্র সাহার ছেলে ঝুন্টু লাল সাহার ৯১ শতাংশ জমিতে নদী ও ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে সাততলা ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে পাইলিং কার্যক্রম চলছে। এলাকাটি হিলচিয়া বাজার থেকে নিকলী–বাজিতপুর সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো যানবাহন ও মানুষের চলাচল রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ অভিযোগ করে বলেন, “নদীর ওপর শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়া এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা না করেই ব্রিজের গা ঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পাইলিংয়ের কারণে ভবিষ্যতে ব্রিজের স্থায়িত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।”

একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ড্রাইভার রহমত আলী। তিনি বলেন, “নদীর ওপর এভাবে ভবন নির্মাণের ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক সময় হুমকির মুখেও পড়তে হয়। তাই অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।”

গুরুই ইউনিয়নের বাসিন্দা মতিউর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে এই নদীটি তিনটি উপজেলার পানি প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ। তিনি বলেন, “কটিয়াদী, বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার ভললার বিলের পানি কাদাঙ্গী নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঘোড়াউত্রা নদীতে গিয়ে মিশে। বর্ষা মৌসুমে শত শত নৌকা ও জেলেরা মাছ নিয়ে হিলচিয়া মাছের আড়তে আসে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে কৃষি, মৎস্য ও নৌ-যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

এ বিষয়ে হিলচিয়া ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সবুজ মিয়া বলেন, “বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমাদের জানা আছে এবং রেকর্ডপত্রে মালিকানার তথ্যও রয়েছে। তবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে আমি অবগত নই। ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে পাইলিংয়ের ফলে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

হিলচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাজহারুল হক নাহিদ জানান, “আমার পরিষদ থেকে এ ধরনের বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে জমির মালিক ঝুন্টু লাল সাহা বলেন, “জমিটি আমার নিজস্ব মালিকানাধীন। এখনো শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়নি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। আমি মূলত এলাকার উন্নয়নের কথা ভেবেই ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। যদি এলাকাবাসী এতে আপত্তি করে, তাহলে আমি কাজ বন্ধ করে দেব।”

তিনি আরও বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে মাটির সয়েল টেস্ট সম্পন্ন করার পর ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে নিয়ম মেনে শ্রেণি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। কোনোভাবেই ব্রিজ বা পরিবেশের ক্ষতি করার মতো কিছু করা হচ্ছে না। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা থাকলে আমরা তা মেনে চলব।”

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “বর্তমান সরকার নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। জমির মালিকের দাবি অনুযায়ী এটি তার নিজস্ব জমি হলেও বিষয়টি যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে মাপজোক ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নদীর ওপর বা গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে বহুতল ভবন নির্মাণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA), যথাযথ শ্রেণি পরিবর্তন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে সড়ক যোগাযোগ, নৌ-চলাচল ও জননিরাপত্তায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

হোসেনপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। সভায় দিবস দুটি যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসীন মাসনাদ, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. এহসানুল হক, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ হোসেনপুর শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা কারিমুল্লাহ, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, সঞ্জিত চন্দ্র শীল ও এস কে শাহীন নবাব।

এছাড়াও সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুষ্পস্তবক অর্পণ, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বক্তারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।