শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সহজ নয়, বললেন অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার সহজ নয়, বললেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। আমরা যে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি, সেটাকে পুনরুদ্ধার করা মোটেও সহজ নয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য হার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। তবে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছেন না এবং ব্যাংকের ঋণও ফেরত দিতে পারছেন না। বৈষম্য দূর করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। “ঘরে ঘরে বিএ, এমএ করে লাভ নেই, আমাদের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে,”—বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ কারণে ভোকেশনাল শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশ একটি কঠিন সময় পার করছে। ব্যবসা পরিচালনায় নানা ধরনের বাধা রয়েছে। এমনকি একটি সাধারণ রেস্টুরেন্ট চালাতেও এখন জটিলতা দেখা যায়। অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতির কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে দূর করার চেষ্টা চলছে।

টাকা ছাপানো ছাড়াই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সালিশ-দরবারে নিষেধাজ্ঞা সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সালিশ-দরবারে নিষেধাজ্ঞা সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুক রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সালিশ-দরবারে প্রভাব খাটানো থেকে নেতাকর্মীদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাম্য সালিশ-দরবার কিংবা স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীর কাজ নয়। এসব কার্যক্রম পরিচালনার একমাত্র আইনগত ও নৈতিক অধিকার স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের রয়েছে। তিনি করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

এতে আরও বলা হয়, কেউ যেন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে গ্রাম্য সালিশ বা দরবারের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও অনুরোধ করেন, সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে যথাযথভাবে সম্মান জানানো প্রয়োজন।

গত ২২ এপ্রিল সংসদ সদস্য তার দাপ্তরিক প্যাডে এ জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।

বিন্নাটী বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
বিন্নাটী বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ খাল খনন কাজের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ সদরের বিন্নাটী ইউনিয়নের বিন্নাটী বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ উদ্বোধনী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিন্নাটী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কিশোরগঞ্জ পৌর মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লুৎফুল বারী খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লুৎফুল হক টিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিন্নাটী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফজলুল আমীন উজ্জ্বল, বিন্নাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহীম মোল্লা, সদর উপজেলা বিএনপির যুব-বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শহীদুল্লাহ কায়সার এবং সদর উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগকে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, খালটি পুনঃখননের ফলে বিন্নাটী বাজার ও আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।

সরকারি উন্নয়ন নীতিমালায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষিজমি রক্ষা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে খাল, বিল ও জলাশয় পুনঃখননকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে সারাদেশে বহু খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খাল পুনঃখনন করলে শুধু জলাবদ্ধতা কমে না, বরং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উন্নত হয় এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিশোরগঞ্জের বিন্নাটী খাল পুনঃখনন উদ্যোগও সেই জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেরই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘বাঘা’ শরীফের হ্যাটট্রিক জয়, জব্বার বলীখেলায় টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
‘বাঘা’ শরীফের হ্যাটট্রিক জয়, জব্বার বলীখেলায় টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন

কুমিল্লার মো. শরীফ ওরফে ‘বাঘা’ শরীফ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলায় হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি একই এলাকার রাশেদকে পরাজিত করে এ শিরোপা জেতেন।

ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই বলীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়। প্রায় ২৪ মিনিটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দেননি। তবে শেষ পর্যন্ত রাশেদকে পরাজিত করে ‘বাঘা’ শরীফ আবারও চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেন।

এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও এই দুই বলী ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন। দুইবারই বিজয়ী হন শরীফ, আর রাশেদ রানারআপ হন। এবারও সেই ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটল।

বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে লালদীঘি মাঠে এবারের বলীখেলা শুরু হয়। মোট ১১৭ জন বিভিন্ন বয়সের বলী এতে অংশ নেন। উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বেলুন উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন।

লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ঢোলের তালে তালে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রতিবছর বাংলা ১২ বৈশাখে অনুষ্ঠিত এই বলীখেলাকে ঘিরে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসে লালদীঘির আশপাশে। এবারের ১১৭তম আয়োজন ঘিরেও বসে রঙিন মেলা, যেখানে রঙিন খেলনা, মাটির হাঁড়ি, বাঁশ-বেতের সামগ্রীসহ নানা ধরনের পণ্যের পসরা সাজানো হয়।

মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। মাটির তৈরি ঘর সাজানোর সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের গৃহস্থালি পণ্য, খেলনা, মুড়ি-মুড়কি, গাছের চারা ও ফুলঝাড়ুসহ নানা পণ্যের বিকিকিনি চলে।

মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জানান, এটি শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি জীবন্ত মিলনমেলা।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, দেশীয় ও টেকসই পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, যা এই মেলায় ভালোভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এদিকে আয়োজকরা জানান, জব্বার বলীখেলা ও বৈশাখী মেলা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাশাপাশি রয়েছে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি।

তবে এবার মেলার সময়সূচিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা বিবেচনায় নিয়ে ২৬ এপ্রিল ভোরের মধ্যেই মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী চেতনায় যুবসমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।