শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ১৯৯তম ঈদ জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১১টায় শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শোলাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী ঈদ জামাতকে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদগাহ মাঠসহ পুরো শহরকে ৮টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোতায়েন থাকবে ৬০০ জন পুলিশ সদস্য, ২ প্লাটুন বিজিবি এবং ৫৫ জন র‍্যাব সদস্য। এছাড়া ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে।

দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ৫০টি অস্থায়ী ওজুখানা, ২০টি অস্থায়ী টয়লেট এবং ২০টি ইউরিনালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া দুটি ভ্রাম্যমাণ খাবার পানির ভ্যান, মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্স, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হবে।

ব্রিফিংয়ে মুসল্লিদের প্রতি কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ, ছাতা, লাঠি বা ধাতব বস্তু মাঠে না আনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এসময় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে আগত প্রত্যেক মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।”

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ জামাত সম্পন্ন করতে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, পুলিশ, র‍্যাব, আনসারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

টেস্ট নিউজ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
টেস্ট নিউজ

টেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজটেস্ট নিউজ

হোসেনপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, সবুজায়নে নতুন প্রত্যয়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, সবুজায়নে নতুন প্রত্যয়

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্ভোধন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, এসময় সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ কিশোরগঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(উপসচিব) মোছাঃ মোস্তারী কাদেরী। এছাড়াও জেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও জনগণের উপস্থিতি ছিল।

শনিবার (১৩ জুন) উপজেলার একটি গ্রামীণ এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। এ সময় পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান গাছপালার সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তারা প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি গাছ রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

তারা আরও বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না; রোপণকৃত গাছের টেকসই পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা প্রতীকীভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকায় সবুজায়ন আন্দোলনের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি আরও বিস্তৃত আকারে অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলার পিএমখালির ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে রোপণকৃত চারার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সময়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।

সরকারের ঘোষিত ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’-এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, পরিবেশসচিব রায়হান কাওছারসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিক রোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং চারার পরিচর্যা ও টেকসই সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও ক্রীড়াভিত্তিক একাধিক পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়। একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।