বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হোসেনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আলিফ ও আহত পরিবারের পাশে ইউএনও

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আলিফ ও আহত পরিবারের পাশে ইউএনও

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আলিফ (১২)-এর পরিবার এবং একই ঘটনায় আহত অপর এক শিশুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা। শোকাহত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে সরকারি সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।

নিহত আলিফ উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের পিপলাকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত সোমবার বিকেলে বোর্ড বাজার এলাকায় একটি চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি অটোরিকশা পেছন দিক থেকে তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

একই দুর্ঘটনায় আলিফের চাচাতো বোন, মোশাররফ মিয়ার ছয় বছর বয়সী কন্যা গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা নিহত ও আহত শিশুর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি তাদের খোঁজখবর নেন এবং গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

এ সময় ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “একটি শিশুর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। আহত শিশুটির চিকিৎসা ও সার্বিক অবস্থার বিষয়েও আমরা খোঁজখবর রাখছি।”

পরিদর্শনকালে নিহত ও আহত শিশুর পরিবারের হাতে সরকারি সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আলীম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বোর্ড বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। ফলে পথচারী, বিশেষ করে শিশু ও শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তারা ওই এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, শিশু আলিফের অকাল মৃত্যুতে পিপলাকান্দি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আহত শিশুটির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা চলছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, যাতে আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হতে না হয়।

নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরের ফাইনালে উঠল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বুধবার ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোল করেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাগরিকা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সাগরিকার জয়সূচক গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ শিবির।

ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেও ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ প্রতিপক্ষের চাপ সামাল দিলেও শেষ পর্যন্ত গোল হজম এড়াতে পারেনি।

ম্যাচের ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সে সৃষ্ট জটলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে গিতা রানা বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নেপাল।

গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন ঋতুপর্ণা, সাগরিকা ও সামসুন্নাহাররা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের।

অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা। কর্নার কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে অসাধারণ এক ‘অলিম্পিক গোল’ করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার দুর্দান্ত এই গোলে ১-১ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে বিরতিতে যায় দল।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচকে আরও জমিয়ে তোলে। খেলার শুরুতেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। ফরোয়ার্ড রেখা গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে পরাস্ত করে বল জালের দিকে পাঠালেও ভাগ্য সহায় হয়নি। বল গিয়ে আঘাত হানে গোলপোস্টে।

অন্যদিকে বাংলাদেশেরও একাধিক সুযোগ তৈরি হয়। ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে সাগরিকার নেওয়া শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন নেপালের গোলরক্ষক সুব্বা। ফলে ম্যাচে সমতা বজায় থাকে।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। অতিরিক্ত সময়ের শেষ ভাগে আসে বাংলাদেশের বিজয়সূচক গোল। ডান প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণে সামসুন্নাহার জুনিয়রের বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল জালে পাঠান সাগরিকা। তার এই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সমর্থকরা। রুদ্ধশ্বাস এই জয় নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ উইমেনস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, এর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ দুই আসরেও ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, দুইবারই শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের মেয়েরা। সেই দুইবারই ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল নেপাল। এবারও নেপালকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

পথচারীদের স্বস্তি ফেরাতে কিশোরগঞ্জে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
পথচারীদের স্বস্তি ফেরাতে কিশোরগঞ্জে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সকাল ১১টায় শহরের বটতলা মোড় এলাকায় অভিযানের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে দোকানপাট, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। ফলে পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি যানজটও তীব্র করে তোলে।

অভিযানের প্রথম দিনে বটতলা মোড় থেকে একরামপুর মোড় পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রমে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও পৌরসভার কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান বলেন, শহরের যানজট দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বারবার নোটিশ ও সতর্কতা দেওয়ার পরও যারা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “শহরকে পরিকল্পিত ও জনবান্ধব করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।”

জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মন বলেন, ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পথচারীরা স্বস্তি ফিরে পাবেন এবং শহরের যানজটও অনেকাংশে কমে আসবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একাধিকবার নোটিশ, গণবিজ্ঞপ্তি এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে দখলদারদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রথম ধাপে স্থায়ী দোকানের বাইরে ফুটপাত দখল করে রাখা অতিরিক্ত অংশ উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “পরবর্তী ধাপে সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহর সবার। জনস্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জ শহরকে যানজটমুক্ত ও পথচারীবান্ধব নগরীতে পরিণত করতে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। উচ্ছেদকৃত স্থান পুনরায় দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি, নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে, পথচারীদের চলাচল সহজ হবে এবং যানজট সমস্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বিতায় ব্র্যাকের হাঁস পালন কর্মসূচি

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাবলম্বিতায় ব্র্যাকের হাঁস পালন কর্মসূচি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি (দাবি)-এর উদ্যোগে হাঁসের বাচ্চা বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০ জন উপকারভোগীর মাঝে হাঁসের বাচ্চা বিতরণের পাশাপাশি তাদের হাঁস পালন, পরিচর্যা ও রোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বুধবার ব্র্যাকের করিমগঞ্জ শাখা কার্যালয়ের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক করিমগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের করিমগঞ্জ এলাকার এলাকা ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. বাছির উদ্দিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সিনিয়র শাখা ব্যবস্থাপক মো. মোবারক হোসেন, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাজমুল হাসানসহ ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে হাঁস পালনকে লাভজনক ও টেকসই আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। উপকারভোগীদের হাঁসের সঠিক পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, বাসস্থান প্রস্তুতকরণ, রোগ প্রতিরোধ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ২০ জন উপকারভোগীর প্রত্যেককে ২০টি করে হাঁসের বাচ্চা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে প্রধান অতিথি উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁসের বাচ্চা তুলে দেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে হাঁস পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত। স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় বলে এটি দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। সঠিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে হাঁস পালন করে অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।

বক্তারা আরও বলেন, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। হাঁসের বাচ্চা বিতরণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও তারই অংশ। এ ধরনের উদ্যোগ উপকারভোগীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং পরিবারভিত্তিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করবে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমিতির সদস্য, উপকারভোগী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপকারভোগীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে উপকারভোগীরা হাঁস পালনকে একটি লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করতে সক্ষম হবেন, যা তাদের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।