শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ; জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ; জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি

কিশোরগঞ্জে এক হিন্দু পরিবারের বসতভিটা দখলের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোট, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।

রোববার (৭ জুন) দুপুরে জেলা শহরের কালীবাড়ি এলাকার সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে সংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ হিন্দু যুব মহাজোটের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন চন্দ্র সূত্রধর দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার নগুয়া এতিমখানা রোড সংলগ্ন এলাকায় নিজ মালিকানাধীন সম্পত্তিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি তার জমি ও বসতভিটার ওপর মালিকানা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নামমাত্র মূল্যে জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, উচ্ছেদের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিল, নামজারি (খারিজ), পৌর হোল্ডিং, বিদ্যুৎ সংযোগসহ সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র রিপন চন্দ্র সূত্রধরের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতে দেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন। একটি সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত কিশোরগঞ্জে এ ধরনের অভিযোগ উদ্বেগজনক। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের আড়ালে একটি পরিবারকে হয়রানি ও আতঙ্কের মধ্যে রাখা হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপই পারে পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিষয়টি আইনানুগভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

হোসেনপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, সবুজায়নে নতুন প্রত্যয়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, সবুজায়নে নতুন প্রত্যয়

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্ভোধন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, এসময় সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ কিশোরগঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা(উপসচিব) মোছাঃ মোস্তারী কাদেরী। এছাড়াও জেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও জনগণের উপস্থিতি ছিল।

শনিবার (১৩ জুন) উপজেলার একটি গ্রামীণ এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। এ সময় পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে পরিবেশগত ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান গাছপালার সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তারা প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি গাছ রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

তারা আরও বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না; রোপণকৃত গাছের টেকসই পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা প্রতীকীভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশাবাদী।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এলাকায় সবুজায়ন আন্দোলনের নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি আরও বিস্তৃত আকারে অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাঁকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ভৈরবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে সংঘর্ষ ও মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ বলেন, “ওসি আতাউর রহমান আকন্দকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।”

তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে ওসির প্রত্যাহারের খবরে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভৈরবে সংঘর্ষ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

পরীক্ষাভীতি দূর করা, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ‘জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী আড়াইশ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা। এমন অভিনব পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত পুরস্কার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পরিবেশবান্ধব ও বাস্তবমুখী চিন্তাধারা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজারের আমিন সেন্টার সংলগ্ন জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর, উপদেষ্টা আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সহকারী শিক্ষক আলাম নাশরাক নিলি, আব্দুল্লাহ আল সাদী লিয়ন, পান্না আক্তার, রিতা আক্তার, শাহীনা আক্তার ঝুনু, লামিয়া মীম, ইতি আক্তার, কণা আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শতাধিক অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর বলেন, “বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করি। এতে তারা যেমন ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত হয়, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হয়ে ওঠে। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নেও ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।”

বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা আল আমিন বলেন, “একজন শিশুর শিখন দক্ষতা গড়ে ওঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই কাজটিই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।”

দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমই অন্যদের থেকে আলাদা। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি তারা পরিবেশ, নৈতিকতা ও জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। পুরস্কার হিসেবে গাছের চারা পাওয়ায় তারা আনন্দিত এবং নিজেদের বাড়িতে চারা রোপণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাছের চারা উপহার শিক্ষার্থীদের শুধু পরিবেশ সচেতনই করবে না, বরং বিদ্যালয়মুখী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।