বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

১৯ দিনের মাথায় রায়, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামী সোহেল রানা-স্বপ্নার ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১:৩৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
১৯ দিনের মাথায় রায়, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামী সোহেল রানা-স্বপ্নার ফাঁসি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালতে উপস্থিত হয়ে রায় পাঠ শুরু করেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পাঠ শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয়। প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে এবং স্বপ্না আক্তারকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। গত ১৯ মে সংঘটিত ওই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা হলো।

মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা ও প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। এ সময় তিনি আদালতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যও উপস্থাপন করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার কিছু সময় আগেই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পরবর্তী সময়ে ১ জুন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন, যুক্তিতর্ক ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আইন অনুযায়ী এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে রায় প্রদান করেছেন।”

আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও রায় কার্যকরের পরই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটিতে এমপি ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটিতে এমপি ফজলুর রহমান

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডে ট্রাস্টি এবং নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড এবং ১৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউল।

পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, এমপিকে।

ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

অন্যদিকে, পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটিতে পদাধিকারবলে অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য-সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দুই সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দুই সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট (IUGIP)-এর অর্থায়নে মোট ৫০ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাকুন্দিয়া এলাকায় গামলা মুন্সীর বাড়ি থেকে সামাদ মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ৩৯১ মিটার সড়ক ইউনিব্লক (ইন্টারলকিং ব্লক) দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া পৌর সদর বাজারের পাঠমহাল এলাকায় ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট (RCC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সড়কটি সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একইভাবে পৌর সদর বাজারের পাঠমহাল এলাকার সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভা এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ হাতে নিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান খান, প্রকল্পের মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. তন্ময় জামান, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এরফান উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এ এম মিনহাজ উদ্দিন, পাকুন্দিয়া বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন ও আমিনুল হক জর্জ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল হক উজ্জ্বলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে পৌর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নিরাপদ হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরে আসবে।

পাকুন্দিয়ায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে শফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শফিকুল ইসলাম চরপলাশ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

নিহতের ভাতিজা মো. রমজান আলী জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে শফিকুল ইসলাম বাড়ির সামনের নিজ জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কৃষিকাজ না করার বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তারা।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41