১৯ দিনের মাথায় রায়, শিশু রামিসা হত্যা মামলায় দুই আসামী সোহেল রানা-স্বপ্নার ফাঁসি
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আদালতে উপস্থিত হয়ে রায় পাঠ শুরু করেন। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায় পাঠ শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার আগে সকালে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে দুই আসামিকে আদালতে আনা হয়। প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে এবং স্বপ্না আক্তারকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। গত ১৯ মে সংঘটিত ওই মর্মান্তিক ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা হলো।
মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা ও প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। এ সময় তিনি আদালতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মায়ের সাক্ষ্যও উপস্থাপন করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসা আক্তারের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার কিছু সময় আগেই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরবর্তী সময়ে ১ জুন ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন, যুক্তিতর্ক ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আইন অনুযায়ী এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে রায় প্রদান করেছেন।”
আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও রায় কার্যকরের পরই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন।













