বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, কারাদণ্ড ও জরিমানা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান, কারাদণ্ড ও জরিমানা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার চরিয়াকোনা মহল্লায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো. মুসা মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কটিয়াদী পৌরসভার চরিয়াকোনা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা।

অভিযানকালে চরিয়াকোনা এলাকার বাসিন্দা মো. আপ্তর উদ্দিনের ছেলে মো. মুসা মিয়াকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।

স্থানীয়ভাবে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। কমিটির উপদেষ্টা ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম ফারুক চাষী বলেন, “মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করে না, বরং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”

তিনি আরও বলেন, “তরুণ সমাজ যদি মাদকের ভয়াল থাবায় আক্রান্ত হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানা বলেন, “সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর এবং এ বিষয়ে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটিতে এমপি ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও নির্বাহী কমিটিতে এমপি ফজলুর রহমান

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডে ট্রাস্টি এবং নির্বাহী কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড এবং ১৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বকাউল।

পুনর্গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, এমপিকে।

ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যান্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

অন্যদিকে, পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী এবং নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ড ও নির্বাহী কমিটিতে পদাধিকারবলে অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়; শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য-সচিব এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাহী কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দুই সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়া পৌরসভায় দুই সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ইমপ্রুভিং আরবান গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্ট (IUGIP)-এর অর্থায়নে মোট ৫০ লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে দুটি সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর মধ্যে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাকুন্দিয়া এলাকায় গামলা মুন্সীর বাড়ি থেকে সামাদ মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ৩৯১ মিটার সড়ক ইউনিব্লক (ইন্টারলকিং ব্লক) দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া পৌর সদর বাজারের পাঠমহাল এলাকায় ১০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সড়ক রিইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট (RCC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা সড়কটি সংস্কার ও উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। একইভাবে পৌর সদর বাজারের পাঠমহাল এলাকার সড়কটিও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, জনসাধারণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পৌরসভা এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ হাতে নিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান খান, প্রকল্পের মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. তন্ময় জামান, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. তৌফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এরফান উদ্দিন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি এস এ এম মিনহাজ উদ্দিন, পাকুন্দিয়া বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল আলম ছোটন ও আমিনুল হক জর্জ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাজহারুল হক উজ্জ্বলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে পৌর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নিরাপদ হবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে স্বস্তি ফিরে আসবে।

পাকুন্দিয়ায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে শফিকুল ইসলাম (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শফিকুল ইসলাম চরপলাশ গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

নিহতের ভাতিজা মো. রমজান আলী জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে শফিকুল ইসলাম বাড়ির সামনের নিজ জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে কৃষিকাজ না করার বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন তারা।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41