হোসেনপুরে শিক্ষক দম্পতির বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, অচেতন অবস্থায় উদ্ধার স্কুলছাত্র
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় এক শিক্ষক দম্পতির বাসায় দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাসায় থাকা তাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকার ‘যমুনা-৪’ ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করেন পিতলগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদির (৪৬) এবং পিতলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শিরিন আক্তার (৪৪)। সোমবার সকালে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান। ওই সময় বাসায় তাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলে একাই ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাসার প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বাসার একটি কক্ষে শিক্ষক দম্পতির ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরির সময় বাধার আশঙ্কায় দুর্বৃত্তরা শিশুটিকে অচেতন করে দেয়। তবে তাকে কীভাবে অচেতন করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অভিযোগ করেছে, দুর্বৃত্তরা বাসার বিভিন্ন কক্ষ তছনছ করে আলমারি, ড্রয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তারা বাসা থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া সম্পদের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণে পরিবারের সদস্যরা তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাসার বেশ কয়েকটি কক্ষ এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। আলমারির লকার ভাঙার চিহ্ন এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি আবাসিক এলাকায় দিনের বেলায় এমন দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বাসায় থাকা একটি শিশুকে অচেতন করে চুরি করার অভিযোগ অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা-শঙ্কা তৈরি করেছে।
একাধিক বাসিন্দা বলেন, সরকারি আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
খবর পেয়ে হোসেনপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তদন্ত কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজও চলছে।
হোসেনপুর থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তার জ্ঞান সম্পূর্ণ ফিরে এলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত করছে।
এদিকে শিক্ষক দম্পতির বাসায় সংঘটিত এ চুরি ও শিশুকে অচেতন করার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষকমহল, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।










