সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে শুরু ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলার পিএমখালির ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে রোপণকৃত চারার কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সময়ে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।

সরকারের ঘোষিত ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’-এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, পরিবেশসচিব রায়হান কাওছারসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধু আনুষ্ঠানিক রোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং চারার পরিচর্যা ও টেকসই সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি ও ক্রীড়াভিত্তিক একাধিক পাইলট কর্মসূচি চালু করা হয়। একই সঙ্গে ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশের সবুজায়ন বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

মাদক পাচারের পথে ইটনায় ধরা পড়ল গাঁজার চালান, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
মাদক পাচারের পথে ইটনায় ধরা পড়ল গাঁজার চালান, গ্রেপ্তার ২

কিশোরগঞ্জের ইটনা থানা এলাকায় বিশেষ পুলিশি অভিযানে ১৫ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জব্দ করা হয়।

জেলা পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১৪ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইটনা থানা পুলিশ জানতে পারে, একটি চক্র বড় ধরনের মাদকের চালান নিয়ে থানা এলাকার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছে।

সংবাদের ভিত্তিতে ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সম্ভাব্য স্থানে অবস্থান নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। একপর্যায়ে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. সাগর মিয়া (৩৯), পিতা: মো. দুলাল মিয়া, স্থায়ী ঠিকানা শাহাবাজপুর, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ; বর্তমানে মাধবপুর, হবিগঞ্জে বসবাসরত। অপরজন মনির হোসেন (২০), পিতা: মৃত নাসির মিয়া, বেজোড়া দক্ষিণপাড়া কসবাহাটি, মাধবপুর, হবিগঞ্জের বাসিন্দা।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিলেন বলেও দাবি পুলিশের। এছাড়া অধিকতর অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ইটনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অষ্টগ্রামে ‘অস্ত্রের বদলে আস্থা’ কর্মসূচি, পুলিশের কাছে জমা পড়ল দেশীয় অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
অষ্টগ্রামে ‘অস্ত্রের বদলে আস্থা’ কর্মসূচি, পুলিশের কাছে জমা পড়ল দেশীয় অস্ত্র

সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অস্ত্রের বদলে আস্থা, সহিংসতার বদলে সম্প্রীতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছায় হস্তান্তর করেন।

রোববার (১৪ জুন) সকালে অষ্টগ্রাম থানা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ ব্যস্ততার কারণে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি দেশীয় অস্ত্র স্বেচ্ছায় জমা দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ায় এলাকাবাসীর প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণকে পুলিশের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দারা তাদের হেফাজতে থাকা দেশীয় অস্ত্র পুলিশের কাছে জমা দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, “অষ্টগ্রামকে একটি সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। আজকের এই কর্মসূচি প্রমাণ করে, অষ্টগ্রামের মানুষ শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা এ উদ্যোগকে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, অপরাধপ্রবণতা হ্রাস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে, স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দেওয়ার মতো উদ্যোগ সমাজে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে উপস্থিত সবাই সম্মিলিতভাবে শপথ গ্রহণ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা: কিশোরগঞ্জে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:০৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা: কিশোরগঞ্জে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার এক ব্যক্তি

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার (১৪ জুন) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতার মধ্যে সদর মডেল থানার একটি মোবাইল টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, চর শোলাকিয়া এলাকায় এক ব্যক্তি তার নিজ বাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন।

এ তথ্যের ভিত্তিতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে মাদক সংগ্রহ করে কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে।