সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

মালয়েশিয়া-চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও নতুন চুক্তির প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মালয়েশিয়া-চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: শ্রমবাজার, বিনিয়োগ ও নতুন চুক্তির প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার (২১ জুন) তিনি দুই দিনের সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানকার সফর শেষে চীনে যাবেন তিনি। দুই দেশ মিলিয়ে মোট ছয় দিনের এই সফরকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতা প্রদান এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে। হালাল পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকেলে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে ২২ জুন।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, সোমবার দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমবাজার পুনরায় সচল করাই হবে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই বাজার স্থবির রয়েছে। চলমান সফরের মাধ্যমে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এ সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, সফরের মাধ্যমে বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় চালু, সিন্ডিকেটমুক্ত কলিং ভিসা ব্যবস্থা, অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতার সুযোগ এবং দূতাবাস-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে।

কুয়ালালামপুরে কর্মরত প্রবাসী জাহিদ বলেন, দুই দেশের সরকার যদি সরাসরি ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করে, তাহলে সাধারণ শ্রমিকরা কম খরচে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আরেক প্রবাসী জাকারিয়া বলেন, কলিং ভিসা চালু হলেও যদি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত উপকার হবে না। তাই জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন কারণে অনিয়মিত অবস্থায় রয়েছেন। কেউ নিয়োগকর্তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন, আবার কেউ কর্মসংস্থানের অভাবে বৈধ অবস্থান হারিয়েছেন। তাদের আশা, নতুন বৈধকরণ কর্মসূচি চালু হলে তারা আইনগত স্বীকৃতি পেয়ে অধিক আয় ও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে সক্ষম হবেন।

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই সফরের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটির গবেষক আলমগীর চৌধুরী আকাশ বলেন, মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী মহল আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে হালাল শিল্প, কৃষি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ও মালয়েশিয়া বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক কাজী সালাহউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাঁর মতে, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগ এবং প্রবাসীবান্ধব নীতিমালা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া সফরকালে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও তিনটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশে রওনা হবেন। কূটনৈতিক মহলে এই সফরকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এই সফরে স্পষ্ট হতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বেইজিং সফর করে চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য কর্মসূচি, চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সফরসঙ্গী থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী দালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এ অংশগ্রহণ করবেন। সেখান থেকে ২৪ জুন বুলেট ট্রেনে বেইজিংয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সফরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা, চীনা শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তর, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং গুয়াংজু-চট্টগ্রাম ও সাংহাই-চট্টগ্রাম সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে।

এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আরসিইপি, ব্রিকস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে (এসসিও) বাংলাদেশের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ ছাড়া মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজসহ বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।

বজ্রপাতে নরসিংদীতে নিহত কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
বজ্রপাতে নরসিংদীতে নিহত কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী

এআই ছবি

বৈরী আবহাওয়া ও বজ্রপাতের ভয়াল থাবায় নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রাণ হারিয়েছে কিশোরগঞ্জের তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। মর্মান্তিক এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন শিক্ষার্থী।

রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের পাঁচকান্দী দক্ষিণপাড়া মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জহিরুল হক (১৫), আবু রায়হান (১৪) ও আবু জাফর (১৫)। আহত অপর শিক্ষার্থী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসার অজুখানায় অজু করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে চার শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত একজনকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জজুড়ে, বিশেষ করে হোসেনপুর উপজেলায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসঙ্গে তিন কিশোর শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুতে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে বজ্রপাতের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয়, হাওর ও উন্মুক্ত স্থানে অবস্থানকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা মাঠ, জলাশয়, হাওরাঞ্চল ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পাশাপাশি বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য: ট্রাইব্যুনালে বডিগার্ডের বিস্তৃত জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য: ট্রাইব্যুনালে বডিগার্ডের বিস্তৃত জবানবন্দি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত কথিত গুম ও হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর সাবেক বডিগার্ড ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

রোববার (২১ জুন) বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর সেনানিবাসে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত। এ সময় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস দাবি করেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে মেজর জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ ও সাইফসহ মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তবে কাকে গাড়িতে তোলা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে অবস্থানকালে জিয়াউল আহসান বিভিন্ন স্থানে ফোন করে ‘টার্গেট’ কখন আসবেন, সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আসবেন না। এরপর তিনি জিয়াউল আহসানকে বাসায় পৌঁছে দেন এবং পরদিন নয় দিনের ছুটিতে বাড়ি চলে যান।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ছুটিতে থাকা অবস্থায় ১৮ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন।

সাক্ষ্যে তিনি আরও দাবি করেন, ২৩ এপ্রিল ছুটি শেষে র‌্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে অস্বাভাবিক পরিবেশ লক্ষ্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টায় রোল-কল হতো, সেখানে ১৮ এপ্রিলের পর কয়েক দিন সকাল ৭টায় রোল-কল অনুষ্ঠিত হয় এবং জিয়াউল আহসানও নিয়মিত ভোরে অফিসে আসতেন।

তিনি আরও দাবি করেন, একদিন জিয়াউল আহসান ফোনে কথা বলার সময় আরেকটি কল আসে এবং পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়।

ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন, ওই ফোনালাপের একপর্যায়ে জিয়াউল আহসান বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন।”

এ ছাড়া তাঁর অভিযোগ, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র‌্যাব সদর দপ্তরের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় এক বছর তিন-চার মাস জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন ঘটনায় “১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে” বলে প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত সাক্ষ্য ও দাবি, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে।

জবানবন্দি শেষে ইমরুল কায়েস আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো বিচারাধীন হিসেবে বিবেচিত হবে।

নিকলীর হাওরে বজ্রপাতে স্টিলবডি নৌকার মাঝির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
নিকলীর হাওরে বজ্রপাতে স্টিলবডি নৌকার মাঝির মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বজ্রপাতে বাবুল সরকার (৪৫) নামে এক নৌকার মাঝির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবুল সরকার নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার নারাজ গ্রামের বাসিন্দা এবং কাছু মিয়ার ছেলে। তিনি একটি স্টিলবডি নৌকার মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল সরকারসহ কয়েকজন যাত্রী আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে স্টিলবডি নৌকায় নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। পথে হাওরে প্রবেশের পর আকস্মিক বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে নৌকায় থাকা অন্য যাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন।

তবে নৌকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মাঝি বাবুল সরকার নৌকার ওপরেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে নৌকার গতিবিধি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাত্রীরা ওপরে উঠে বাবুল সরকারকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে একজন নৌকার মাঝির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নৌযান চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।