ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভৈরব, আহত ১৩; গ্রেপ্তার ৩
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের তুলাকান্দি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের স্বজনরা উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার জানান, আহতদের মধ্যে সেলিম মিয়া, দুলাল মিয়া, মগল মিয়া, আলাল মিয়া, সুমন মিয়া ও অপর এক দুলাল মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জালাল মিয়া ও রশিদ মিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ জুন বিকেলে তুলাকান্দি গ্রামের যুবকদের মধ্যে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের দুটি দলের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে হার-জিতকে কেন্দ্র করে দুই কিশোরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করলেও ঘটনাটি পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে এলাকায় দুটি পক্ষ গড়ে ওঠে। একটি পক্ষ বাদুর শেখের বাড়ির, যার নেতৃত্বে ছিলেন নীল মিয়া ও সালাউদ্দিন মিয়া। অপর পক্ষ জুলার বাড়ি (বারিক চেয়ারম্যানের বাড়ি) এলাকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোয়াজ্জেম মিয়া ও বাছির মিয়া।
অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই নীল মিয়া বাজার থেকে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মোয়াজ্জেম মিয়া (৫৫), সেলিম মিয়া (৪০) ও তার ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।
পরদিন শনিবার এক যুবককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের লোকজন ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।
বাদুর শেখের বাড়ির নীল মিয়া বলেন, “দুই কিশোরের তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। পরে আমাকে কেন মারধর করা হয়েছে, তা আমি জানি না। এ বিষয়ে আমি আইনি সহায়তা নিয়েছি।”
অন্যদিকে জুলার বাড়ির লিটন মিয়া দাবি করেন, “দুই কিশোরের মারামারির জের ধরেই দুই বংশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে আমিও আহত হয়েছি।”
ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, “১৯ জুনের ঘটনার পর নীল মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন একই বিরোধকে কেন্দ্র করে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”










