বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

গোলের খোঁজে রোনালদো, নকআউটের পথে জিততেই হবে পর্তুগালকে

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গোলের খোঁজে রোনালদো, নকআউটের পথে জিততেই হবে পর্তুগালকে

হতাশাজনক ড্র দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা পর্তুগাল এবার মাঠে নামছে প্রথম জয়ের লক্ষ্যে। ‘কে’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া উজবেকিস্তান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১১টায় হিউস্টনে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই।

আসরে এটি দুই দলেরই দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পর্তুগাল, অন্যদিকে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় উজবেকিস্তান। ফলে নকআউট পর্বের আশা জিইয়ে রাখতে উভয় দলের জন্যই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) দীর্ঘদিন ধরে গোলখরায় ভুগছেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে নিজের সর্বশেষ ১০ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি রোনালদো। এই সময়ে তিনি মোট ৩৩টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছেন ১১টি, কিন্তু একবারও জালের দেখা পাননি।

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, পেনাল্টি বাদ দিলে বড় টুর্নামেন্টে টানা ১৩ ম্যাচ ধরে গোলহীন রয়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। এ সময় গোলের উদ্দেশ্যে তিনি নিয়েছেন ৪২টি শট।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। তাই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

পর্তুগালের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। বিশ্বকাপে এশিয়ান কনফেডারেশনের দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে জয় পায়নি তারা। ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় ইউরোপের দলটি।

উজবেকিস্তানের রেকর্ডও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। উয়েফাভুক্ত দেশগুলোর বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ ২৩ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে তারা। বাকি ২২ ম্যাচের মধ্যে ১০টি ড্র এবং ১২টিতে হারতে হয়েছে। একমাত্র জয়টি আসে ২০২২ সালের নভেম্বরে কাজাখস্তানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলের ব্যবধানে।

সব মিলিয়ে, ম্যাচটি যেমন পর্তুগালের জন্য প্রথম জয়ের মিশন, তেমনি রোনালদোর জন্যও ব্যক্তিগত গোলখরা কাটানোর বড় সুযোগ। অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে বিশ্বকাপের নবাগত উজবেকিস্তান।

মিথ্যা অপপ্রচার ও মাদক ব্যবসায়ী সাজানোর অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
মিথ্যা অপপ্রচার ও মাদক ব্যবসায়ী সাজানোর অভিযোগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য প্রচার করে একজন নির্দোষ ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কাদির জঙ্গল ইউনিয়নের খিরাচর এলাকার মো. আবু হানিফ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে খিরাচর এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবু হানিফ অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ফেসবুকসহ কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে তাঁকে জড়িয়ে মাদক ব্যবসা-সংক্রান্ত মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। তার দাবি, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আবু হানিফ জানান, কাদির জঙ্গল ইউনিয়নের খিরাচর গ্রামের বাসিন্দা তাঁর চাচা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে প্রতিবেশী মো. লাল মিয়ার বিরোধের জেরে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গত ২৭ আগস্ট কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন বলে জানান।

আবু হানিফের দাবি, ওই মামলার সূত্র ধরে গত ১ সেপ্টেম্বর পুলিশ লাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাঁকে ফাঁসাতে এবং মামলার বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে প্রচার শুরু করে।

সংবাদ সম্মেলনে আবু হানিফ আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রেখে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পাশাপাশি অপপ্রচার চালিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার এবং তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

আবু হানিফ বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে আবু হানিফ সাংবাদিকদের প্রতি কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আবু হানিফের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলা, গ্রেপ্তার এবং অপপ্রচারের অভিযোগ—এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে স্পষ্ট হবে।

কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে সেভ দ্য চিলড্রেন-ইউনিসেফ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে সেভ দ্য চিলড্রেন-ইউনিসেফ

কিশোরগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা সুমির প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের POWER প্রকল্পের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তা, শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ রোডের উকিলপাড়ায় অবস্থিত ‘নারী উদ্যোক্তা সুমি’ প্রতিষ্ঠানে এ পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি বাড়ি থেকে কেন্দ্রে আসা-যাওয়ার পথে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয় কি না, রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়েও জানতে চান। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

এ সময় প্রশিক্ষণার্থী কানিজ ফাতেমা জানান, অর্থের অভাবে তিনি এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর আর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

তার কথা শুনে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফের কর্মকর্তারা তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। সরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তারা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নিজেদের দক্ষতা ও শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীকেও উৎসাহিত করেন তারা।

পরিদর্শনকালে বেকার ও অসহায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, প্রশিক্ষণ শেষে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নারীরা যাতে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২০১৯ সাল থেকে সরকারি নিবন্ধিত ‘নারী উদ্যোক্তা সুমি’ প্রতিষ্ঠানটি নারীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫৩/২৪।

প্রতিষ্ঠানটিতে কম্পিউটার, সেলাই, কেক বেকিং, বিউটিশিয়ান, শোপিস তৈরি, হ্যান্ড স্টিচ, কুশিকাঁটা, ব্লক, এমব্রয়ডারি, বাটিক, হ্যান্ডপ্রিন্ট ও স্ক্রিন প্রিন্ট, আইসক্রিম তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড প্রস্তুতিসহ মোট ১২টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক নারী ইতোমধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। কেউ প্রতিষ্ঠানটিতেই কাজ করছেন, আবার কেউ নিজ বাড়িতে বসে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে অনলাইনে বিক্রির মাধ্যমে আয় করছেন। প্রশিক্ষণ ও সনদ নিয়ে কয়েকজন নারী দেশ-বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তারা।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নারী উদ্যোক্তা সুমি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ সম্পন্ন করেছি। বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জে জেন্ডার প্রমোটার শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছি। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালে কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা অ্যাওয়ার্ড এবং ২০২৫ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার অর্জন করেছি। বর্তমানে ১২টি বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। পাশাপাশি জাতীয় যুব পুরস্কারের বিচারক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছি।’

সুমি বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক বেকার, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই তার লক্ষ্য।

পরিদর্শন শেষে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের POWER প্রকল্পের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তারা।

নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ বাড়ি থেকে সিদ্দিক মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সিদ্দিক মিয়া ওই গ্রামের মৃত সৈয়দ লাল মাহমুদের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক এবং পেশায় একজন ভ্রাম্যমাণ আইসক্রিম বিক্রেতা ছিলেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে বাড়ির লোকজন সিদ্দিক মিয়াকে বাড়ির একটি গাছের ওপর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁকে দ্রুত নিচে নামিয়ে আনা হয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সিদ্দিক মিয়া কয়েক বছর ধরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপন করছিলেন না। তাঁর আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা ছিল বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান জোয়ারদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।