ভৈরবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার অভিযোগে জিয়া উদ্দিন (৪৮) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার জিয়া উদ্দিন উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের কালিকাপ্রসাদ দক্ষিণপাড়া এলাকার সায়েদ মেম্বারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলার ঘটনায় জিয়া উদ্দিনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী বলেও জানা যায়।
ওসি আরও বলেন, আন্দোলনে আহত পৌর শহরের জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা মামুন মিয়া বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার এজাহারে জিয়া উদ্দিনের নাম না থাকলেও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত এবং তদন্তে সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে জিয়া উদ্দিনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, মামলার এজাহারে তাঁর নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায়ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত মামুন মিয়া ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ নাজমুল হাসান পাপনকে প্রধান আসামি করে ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।













