সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে মাকাল ফল, নতুন প্রজন্মের কাছে এখন অচেনা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে বিলুপ্তির পথে মাকাল ফল, নতুন প্রজন্মের কাছে এখন অচেনা

“গুরুমশায় বলেন তারে- বুদ্ধি যে নেই একেবারে, দ্বিতীয় ভাগ করতে সারা ছয় মাস ধরে নাকাল। রেগেমেগে বলেন, ‘বাঁদর, নাম দিনু তোর মাকাল।’” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিশুতোষ কবিতা ‘মাকাল’-এ এভাবেই ফলটির নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে যে ফলটি একসময় বাংলার গ্রামীণ জনপদে পরিচিত ছিল, আজ সেটিই নতুন প্রজন্মের কাছে প্রায় অচেনা।

উদ্ভিদবিদদের তথ্যমতে, মাকালের প্রাচীন নাম ছিল ‘মহাকাল’। সময়ের ব্যবধানে নামটি পরিবর্তিত হয়ে ‘মাকাল’ রূপে প্রচলিত হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Trichosanthes tricuspidata

টকটকে লাল রঙের মাকাল ফল দেখতে অনেকটা ছোট আপেলের মতো হলেও এর ভেতরের অংশ তিতা এবং কালচে বর্ণের। কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক স্থানে একে ‘কাওয়াকাঁদি’ নামেও ডাকা হয়। অতীতে এ ফলের বীজ ও অন্যান্য অংশ থেকে তৈরি প্রাকৃতিক বিষ কৃষিকাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে পরিবেশগত পরিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস এবং রাসায়নিক কীটনাশকের বিস্তারের কারণে মাকাল গাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

মাকাল একটি বহুবর্ষজীবী লতাজাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণত বন-জঙ্গল কিংবা বড় গাছকে আশ্রয় করে এটি ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পাতার কক্ষে সাদা ফুল ফোটে এবং বর্ষা মৌসুমে ফুল ও ফল ধারণ করে। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং গাঢ় সবুজ, পরবর্তীতে হলুদ এবং সম্পূর্ণ পাকলে উজ্জ্বল লাল হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমী মো. নবী হোসেন বলেন, মাকাল শুধু একটি ফল নয়; এটি একটি মূল্যবান ভেষজ উদ্ভিদ। এর শিকড় কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কফ, শ্বাসকষ্ট, নাক ও কানের ক্ষত, জন্ডিস, শরীরে পানি জমা, স্তনের প্রদাহ, প্রস্রাবজনিত সমস্যা, বাতব্যথা, কাশি এবং শিশুদের অ্যাজমাসহ নানা রোগের লোকজ চিকিৎসায় মাকালের বিভিন্ন অংশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তিনি আরও জানান, মাকালের বীজ থেকে প্রাপ্ত তেল সাপ ও বিছার কামড়, আমাশয়, ডায়রিয়া, মৃগীরোগসহ বিভিন্ন সমস্যার লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। একই সঙ্গে সাবান উৎপাদন এবং চুলের পরিচর্যাতেও এ তেলের ব্যবহার রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাকাল ফলের বীজ ও আঁশ শুকিয়ে গুঁড়া করে পানিতে মিশিয়ে তৈরি দ্রবণ দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর অঞ্চলের কৃষকেরা একসময় ফসলের পোকামাকড় ও ইঁদুর দমনে মাকালের বিষ ব্যবহার করতেন। এটি ফসলের জন্য তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব বলে পরিচিত ছিল।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন বনাঞ্চল ও পরিত্যক্ত স্থানে একসময় মাকাল গাছ প্রচুর দেখা যেত। তবে গত এক যুগে এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, আগের তুলনায় বর্তমানে এর উপস্থিতি প্রায় দশ ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ অধ্যাপক এবিএম ছিদ্দিক চঞ্চল বলেন, “অবাধ বন উজাড়, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে মাকাল গাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় কৃষকেরা প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে মাকালের বিষ ব্যবহার করলেও এখন বাজারে এর চাহিদা প্রায় নেই। দেশীয় এ মূল্যবান উদ্ভিদ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

পরিবেশবিদদের মতে, দেশীয় বিরল উদ্ভিদ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কেবল বইয়ের পাতাতেই মাকাল ফলের নাম খুঁজে পাবে।

হোসেনপুরে জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ দাওয়াতী গণসংযোগ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে জামায়াতে ইসলামীর বিশেষ দাওয়াতী গণসংযোগ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৩০ দিনব্যাপী ‘দাওয়াতী দশক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষ গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আমিনুল হকের আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক জৈনউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডিএম মুহিবুল্লাহ, হোসেনপুর পৌরসভা সভাপতি রহমত আলী মাস্টার, যুব বিভাগের সভাপতি মো. আরফান হোসেন বাবরসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জৈনউদ্দিন বলেন, একটি সৎ, চরিত্রবান ও মানবিক সমাজ গঠনে দাওয়াতী কাজের বিকল্প নেই। সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে সত্য ও সুন্দর পথে আসার আহ্বান জানানোর লক্ষ্যেই এ দাওয়াতী দশকের আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবেশ শেষে হোসেনপুর উপজেলার কুড়িঘাট মোড় থেকে হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। এ সময় পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ইসলামী জীবনদর্শনের পরিচিতিমূলক লিফলেট ও বই বিতরণ করা হয়।

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এ দাওয়াতী দশকের মাধ্যমে হোসেনপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংগঠনের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও গণসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন রেনু মিয়া নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রেনু মিয়া ওই এলাকার ইল্লাত মিয়ার ছেলে। তিনি ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে কুলিয়ারচর থানায় করা একটি মামলার আসামি রেনু মিয়া। মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে রেনু মিয়াকে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। তবে এ সময় কোনো ধরনের হট্টগোল হয়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় রেনু মিয়া কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউপি নির্বাচন হবে আগামী ১২ নভেম্বর।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় তিনটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, এ দুই জেলায় উপজেলার সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া যেসব জেলায় ১০টি বা তার বেশি উপজেলা রয়েছে, সেসব জেলার দুটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে ভোট হবে। এসব মিলিয়ে প্রথম ধাপে মোট ৮০টি উপজেলা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আদালতের রায়ের কারণে দুটি উপজেলায় নির্বাচন করতে হবে। আর বাকি উপজেলাগুলো বেশি সংখ্যক উপজেলা থাকা জেলাগুলোতে আনুপাতিক হারে সমন্বয় করে প্রথম ধাপে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপকে অপেক্ষাকৃত হালকা রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, দ্বিতীয় ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে।