শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সমুদ্রের রূপে হাওর, কিশোরগঞ্জে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সমুদ্রের রূপে হাওর, কিশোরগঞ্জে ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড়

বর্ষার বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল। চারদিকে অথৈ জলরাশি, মাথার ওপর নীল আকাশ, পানির বুকজুড়ে উড়ে বেড়ানো সাদা বকের ঝাঁক আর জলবেষ্টিত ছোট ছোট গ্রামের নয়নাভিরাম দৃশ্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসু মানুষকে। বর্ষার এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসছেন নিকলী, মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রামের হাওরাঞ্চলে।

বর্ষাকালে কিশোরগঞ্জের হাওরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে জল আর আকাশের অপূর্ব মেলবন্ধন। দিগন্তজোড়া জলরাশি যেন বিশাল সমুদ্রের অনুভূতি সৃষ্টি করে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, জল আর আকাশ একাকার হয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়।

নিকলী উপজেলার ছাতিরচরের জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) বর্ষা মৌসুমে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা হিজল ও করচ গাছের সারি অনেক দর্শনার্থীর কাছে সিলেটের রাতারগুল জলাবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সবুজ গাছপালা, শান্ত জলরাশি এবং নৌকাভ্রমণের অভিজ্ঞতা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ এনে দেয়।

পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক। হাওরের বুক চিরে নির্মিত এই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার কিংবা মাইক্রোবাসে ভ্রমণ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ জলরাশি আর মাঝখানে সরু সড়ক বর্ষাকালের ভ্রমণে অন্যরকম রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে। অনেক পর্যটক এই সড়কে থেমে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

ভোর থেকেই নিকলীর বালিখলা ঘাট, বেড়িবাঁধ, হাসানপুর সেতু ঘাটসহ বিভিন্ন নৌঘাটে পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়। ট্রলার, স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে তারা হাওরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়ান। ট্রলারের ছাদে বসে গান, শীতল বাতাস উপভোগ, দলবেঁধে আড্ডা এবং সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় কাটান ভ্রমণকারীরা।

স্থানীয় মাঝিরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে যে হাওরজুড়ে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত দেখা যায়, বর্ষা এলেই সেই একই এলাকা বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়। এ সময়ই হাওরের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। তাই বর্ষা মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের আগমন ঘটে।

হাওর ভ্রমণের আরেকটি বড় আকর্ষণ এখানকার টাটকা দেশীয় মাছ। বোয়াল, চিতল, আইড়, পাবদা, রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির মাছ দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ঘাটসংলগ্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অস্থায়ী খাবারের দোকানগুলোতে প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যবসায়ও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রলার ও স্পিডবোটে ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া গতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল ঠেকাতে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষাকেন্দ্রিক এই পর্যটন কার্যক্রম হাওরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পর্যটকদের আগমনে নৌযান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্থানীয় পরিবহন এবং বিভিন্ন সেবাখাতে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক পরিবারের মৌসুমি আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে এই পর্যটন।

পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ নৌ-যোগাযোগ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কিশোরগঞ্জের হাওর কেবল দেশের নয়, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে পাকুন্দিয়ায় যুবক দণ্ডিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে পাকুন্দিয়ায় যুবক দণ্ডিত

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের দায়ে মোশারফ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে বুধবার সকালে উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের আগরপাট্টা এলাকা থেকে মোশারফকে আটক করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত মোশারফ হোসেন আগরপাট্টা এলাকার আলম মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, বুধবার ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের পাশাপাশি রিপন নামে এক ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে মোশারফের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসাইন রকি ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আটক করেন।

পরে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মোশারফকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

কুলিয়ারচরে নিজের ছেলের ফাঁসি চেয়ে মায়ের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে নিজের ছেলের ফাঁসি চেয়ে মায়ের আকুতি

‘আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। না হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।’- নিজের বড় ছেলে ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের রুবিনা বেগম। তাঁর অভিযোগ, মাদকের টাকার জন্য ছেলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও নির্যাতন করে আসছেন। সর্বশেষ বুধবার রাতে মা ও বোনকে মারধরের পর নিজের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আগুনে ঘরের আসবাব, কাপড়চোপড়, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে গেছে। ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় ভেতরে থাকা ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগিও পুড়ে মারা গেছে বলে দাবি করেছে পরিবার। তাঁদের ভাষ্য, পরনের কাপড় ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড়খারচর মহল্লায়, হাবিব কাউন্সিলরের বাড়িসংলগ্ন আবু বক্করের বাড়িতে।

রুবিনা বেগম জানান, তাঁর ছেলে প্রায় প্রতিদিন নেশা করে বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া ও মারধর করতেন। কখনো দা নিয়ে তাঁদের কোপাতে আসতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবিনা বলেন, ‘আমি আমার ছেলের ফাঁসি চাই। যদি ফাঁসি দিতে না পারেন, অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নয়তো আমার এই ছেলে আমার বাকি চার ছেলেকে মেরে ফেলবে, আমাদেরও মেরে ফেলবে।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে বাড়ির সামনে এক দোকানদারের সঙ্গে ফুল মিয়ার মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে কেন দোকানদারকে মারধর করা হয়েছে, তা জানতে চাইলে ফুল মিয়া আমাকেও দা দিয়ে কোপাতে আসে। তখন আমি পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে স্থানীয়দের ডাকি।’

রুবিনার ভাষ্য, পরে স্থানীয়দের নিয়ে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখতে পান, ঘরে আগুন জ্বলছে। ঘরের দরজাগুলো বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার আগে বাড়ির সামনে একটি দোকানে বাকি চান ফুল মিয়া। দোকানদার আবুল হোসেন (৬০) বাকি দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফুল মিয়া তাঁকে রড দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ। আবুল হোসেন সম্পর্কে ফুল মিয়ার দাদা।

পরে দোকানদারকে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে বাবা আবু বক্করের সঙ্গে ফুল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় মা ও বোনের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে বোনকে মারধরের পর ফুল মিয়া ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে পরিবারের অভিযোগ।

আগুন লাগার পর স্থানীয়রা তা নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে যায়।

পরিবারের দাবি, আগুনে আসবাব, কাপড়চোপড়, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পাশাপাশি ঘরে থাকা ১৫টি হাঁস ও প্রায় ৪০টি দেশি মুরগি পুড়ে মারা গেছে। দরজা তালাবদ্ধ থাকায় হাঁস-মুরগিগুলো বের হতে পারেনি বলে জানান তাঁরা।

ফুল মিয়ার ছোট ভাই দিপু বলেন, ‘আমরা চার ভাই বাড়িতে থাকি না, ঢাকায় কাজ করি। বড় ভাই প্রতিদিন মাদকের টাকার জন্য বাবা-মাকে নির্যাতন করে। গত রাতে সে আমাদের একেবারে নিঃস্ব করে দিয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা এ ঘটনার কঠিন বিচার চাই।’

ফুল মিয়ার বাবা আবু বক্কর বলেন, ‘নিজের ছেলে আমাদের এভাবে শেষ করে দেবে, কখনো ভাবিনি। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়ই আমাদের সঙ্গে ঝগড়া ও মারধর করে। গত রাতের ঘটনায় ঘরবাড়ি, কাপড়চোপড়, আসবাব সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি বাবা হয়ে তার শাস্তি চাইতে বাধ্য হচ্ছি।’

তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পুলিশের হেফাজতে থাকা ফুল মিয়া পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তাঁকে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং তিনি কাজ করেন না বলে বকাঝকা করেন।

ঘরে আগুন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘরে তাঁরও অংশ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বকাঝকা করায় তিনি এমন করেছেন বলে জানান।

কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইলিয়াস ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, অভিযুক্ত ফুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদকের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট, তরুণকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
মাদকের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট, তরুণকে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করার পর কিশোরগঞ্জের এক তরুণকে ফোন করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে মারধর এবং মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া ওই ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের হাজিরগল এলাকার বাসিন্দা শাহীন (২২) পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি অভিযোগটি দেন। অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন হাজিরগল এলাকার সুলতানের ছেলে আহাম্মদ (৩৫), বিপ্লবের ছেলে রোমন (২০), জয়নাল (৪১), আব্দুল বারিকের ছেলে সাইদুল (৩৫) এবং জয়নালের ছেলে শফিকুল (১৯)।

শাহীন অভিযোগে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করেন। প্রায়ই তাঁর বাড়ির সামনে মাদক বিক্রি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়ির সামনে আহাম্মদকে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহীন।

পরে মাদক বিক্রির দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন শাহীন। অভিযোগে তিনি বলেন, ওই ভিডিও ফেসবুক থেকে সরিয়ে নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। ভিডিওটি মুছে না ফেললে তাঁকে ‘ছাড় দেওয়া হবে না’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

শাহীন অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আহাম্মদ ও রোমন তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে রাউতের বাজার এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। পরে তাঁরা লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে ওই ফোন থেকে ফেসবুকে পোস্ট করা মাদক বিক্রির ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মাদক বিক্রিতে বাধা না দিতে এবং এ বিষয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ না করতেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শাহীন।

শাহীন আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে কারও কাছে অভিযোগ করলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পান বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।