বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

‘জুলাই কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সমগ্র জাতির’- এডভোকেট জালাল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘জুলাই কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সমগ্র জাতির’- এডভোকেট জালাল

‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ জন জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “জুলাই কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়, এটি সমগ্র জাতির। জুলাই কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একক সম্পদ নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার নাম নয়; এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। এই চেতনাকে ধারণ করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।”

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। সেই আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে জাতির অঙ্গীকার।

নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, “২০১৪ সালে প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে হয়েছে এবং ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

দেশের জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে তেল ও গ্যাস খাতে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরে দেশে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হওয়ায় সংকট আরও প্রকট হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার মালয়েশিয়া, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা ও অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ জন জুলাই যোদ্ধার হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা তাঁদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা, কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল, সিনিয়র সহসভাপতি ডা. জহর লাল সাহা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মিজানুর রহমান স্বপন, জসিম উদ্দিন মেনু, মো. আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিটু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান খলিল, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান ওবায়দুর, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মাসুদ, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. জিল্লুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তসরিফুল হাসিবসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধনাপ্রাপ্ত ২০ জন জুলাই যোদ্ধার হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেন অতিথিরা। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কামনায় দোয়া করা হয়।

‘জামায়াতের অধঃপতনের কারণ তাদের ইতিহাস’- কাদের সিদ্দিকী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
‘জামায়াতের অধঃপতনের কারণ তাদের ইতিহাস’- কাদের সিদ্দিকী

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাসই দলটির বর্তমান অধঃপতনের প্রধান কারণ। তাঁর দাবি, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত দলটি ব্রিটিশদের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও স্বাধীনতার পক্ষে না দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নেয়। এ কারণেই দলটি আজকের অবস্থায় এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম তারেকের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি দুর্ভাগা দল। তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসই তাদের অধঃপতনের প্রধান কারণ।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের হৃদয়। যে দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, ইতিহাস তাদের সেই অবস্থানের মূল্যায়ন করেছে।”

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি। এ সময় তিনি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ড. ইউনূস দেশের যে ক্ষতি করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুতর। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই দিবসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ড. ইউনূসকে যে সম্মান দেখিয়েছেন, সেটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারকে একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এরপরও তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার অধ্যাপক ইউনূসের সময়ের তুলনায় অনেক ভালোভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, “জাতীয় সংকট তো আছেই, আন্তর্জাতিক সংকট তার চেয়েও বড়। তারপরও বর্তমান সরকার পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিচ্ছে।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়েও মন্তব্য করেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি পরিকল্পিতভাবে দেশে ফেরার ঘোষণা দিতেন, তাহলে দেশের ভেতরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণার ফলে উল্টো সাধারণ ও নিরীহ নেতাকর্মীরাই বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, যারা কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তাঁদের অনেকেই এসব ঘোষণার কারণে আইনি জটিলতায় পড়ছেন এবং কারাগারে যেতে হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে দলের জন্য ইতিবাচক নয়।

তাড়াইলের ২ এইচএসসি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীপিছু দায়িত্বে ১৭ জন

তাড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
তাড়াইলের ২ এইচএসসি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীপিছু দায়িত্বে ১৭ জন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দুটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র দুজন পরীক্ষার্থী। তবে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৭ জন করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ফলে দুটি কেন্দ্রেই দেখা গেছে ব্যতিক্রমী চিত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৭০৫ জন। তবে এদিন ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বিমা প্রথম পত্র পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। তিনি হাজী মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলগঞ্জের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ এলাকায়।

একজন পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র করেই শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। এ কেন্দ্রে হল সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনেয়ার হোসেন। এছাড়া ছিলেন দুইজন সহকারী হল সুপার, দুইজন কক্ষ পরিদর্শক, পাঁচজন সহায়ক কর্মচারী, তিনজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার এবং ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

অন্যদিকে তাড়াইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই বিষয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন পরীক্ষার্থী। তিনি প্রিয় রঞ্জন বর্মন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার দামসুর এলাকায়।

এ কেন্দ্রেও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী একজন পরীক্ষার্থীর জন্য ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষা গ্রহণ, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের শিথিলতা রাখা হয়নি।

পরীক্ষা চলাকালে উপজেলার দুটি কেন্দ্রই পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী। তিনি কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও শিক্ষা বোর্ডের বিধি-বিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় কেন্দ্র পরিচালনার নিয়মে কোনো ব্যত্যয় ঘটানো হয়নি।

কুলিয়ারচরে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ১৬ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে অটোরিকশার চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ৯টার মধ্যে উপজেলার ষোলরশি ও বড় ছয়সূতী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তি মো. সজিব মিয়া (৩৫)। তিনি ভৈরব থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে আসছিলেন। পলাতক চালকের নাম মো. জিলানী মিয়া (৩৪)।

কুলিয়ারচর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, ভৈরব থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বিপুল পরিমাণ গাঁজা ময়মনসিংহে নেওয়া হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল উপজেলার ষোলরশি কবরস্থানসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেয়।

সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে চালক নির্দেশ অমান্য করে দ্রুত বড় ছয়সূতীর দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ ধাওয়া করলে বড় ছয়সূতী এলাকার আরব আলী চক বাজারে অটোরিকশাটি রেখে চালক ও এক যাত্রী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় স্থানীয় লোকজন মো. সজিব মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে চালক মো. জিলানী মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে অটোরিকশার পেছনের অংশে তল্লাশি চালিয়ে আটটি পৃথক পুটলায় রাখা মোট ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কিশোরগঞ্জ-থ-১১-০৫১৪ নম্বরের সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা গাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সজিব মিয়া উদ্ধার হওয়া গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পলাতক চালক মো. জিলানী মিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় আটক ও পলাতক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কুলিয়ারচর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে কুলিয়ারচর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41