হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০ বারের মতো পেছাল
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ২০তম বারের মতো পিছিয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা এদিন প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট ছিল না ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির দিন মামলার বাদী ও সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এতে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে গণসংযোগ করতে বিজয়নগর এলাকায় গেলে তিনি হামলার শিকার হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে একটি চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা ব্যক্তি গুলি করেন।
গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর রাতেই তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। থানা পুলিশ ও ডিবির হাত ঘুরে মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরির উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে তাঁকে গুলি করা হয়।
অভিযোগপত্রে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের নাম রয়েছে। তাঁর পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, সহযোগী এবং ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।













Disqus comments are not configured yet.