তিন মাসে ৫ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বাজারে পণ্যের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় তদারকি জোরদার করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে ৫ হাজার ৯৭টি বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে অধিদপ্তর। এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৫ হাজার ৫৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে মোট ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ওজন ও পরিমাপে কারচুপিসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করতে অভিযানের সময় লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন প্রচারণাও চালানো হয়।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় নিয়মিত এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত দামে বিক্রি, অযৌক্তিক মজুদ কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। পণ্যের গুণগত মান, মেয়াদ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অভিযানকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করা এবং বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
হোটেল ও রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তাও যাচাই করে অধিদপ্তর। ভোক্তাদের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য আদায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রচলিত আইন মেনে চলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের সময় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলেই জরিমানা করা হয়। এসব অভিযান শুধু জরিমানা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না; পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণার মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন করা হয়।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে বারবার জরিমানা করার পরও অনিয়ম অব্যাহত রাখলে সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
মহাপরিচালক আরো বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করে সবকিছু নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীদেরও নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। সবার সম্মিলিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকলেই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।







Disqus comments are not configured yet.