হোসেনপুরে সবুজ মিয়া হত্যা মামলা: আসামিদের হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার
মৃত সবুজ মিয়া
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার উত্তর গোবিন্দপুর গ্রামের সবুজ মিয়া হত্যা মামলার আসামিদের ধারাবাহিক হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিহতের পরিবার। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ৯ এপ্রিল বিকেলে সবুজ মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী লুৎফুর রহমান ওরফে গফুর মাস্টার এবং আবুল হাশেমের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল সবুজ মিয়ার। প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি ২০২৩ সালের ৮ জুলাই কিশোরগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭ ও ১১৪ ধারায় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু এতে প্রতিপক্ষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ঘটনাদিন বিকেল তিনটার দিকে আসামিরা সবুজ মিয়ার বাড়ির সামনে এসে গালাগালি করতে থাকে। প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার ছোট ভাই হারেছ মিয়াকে মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হলে সবুজ মিয়া বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। আহত হারেছ মিয়াকে ভর্তি করা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পরে দশজনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত দুই–তিনজনকে আসামি করে হোসেনপুর থানায় মামলা করা হয়।

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী শান্তি আক্তারের অভিযোগ, ঘটনার দিন রুহুল আমিন ও তার দুই ছেলে শরীফ এবং আবদুল্লাহ আল নোমান হামলায় সক্রিয় অংশ নিলেও রহস্যজনক কারণে তাদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মৌখিক ও লিখিত আবেদন করার পরেও পুলিশ তাদের নাম বাদ দেয়। এ সিদ্ধান্তের পেছনে পুলিশ বিভাগে কর্মরত এক আত্মীয়ের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
পরে আটজনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দিলে বাদী না–রাজি জানিয়ে আদালতে আবেদন করেন। আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিলে সিআইডিও একই ধরনের চার্জশিট দেয়। বাদী অভিযোগ করেন, তিনজন নতুন আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ঘুষ দাবি করেছিলেন।
বর্তমানে চার্জশিটভুক্ত আট আসামিই জামিনে রয়েছে। শান্তি আক্তারের দাবি, জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকেই আসামিরা ও তাদের স্বজনেরা নিয়মিত মোবাইলে এবং বাড়িতে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের নিরাপত্তায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন দাখিল করা হবে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array