মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্টসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক অন্তর

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্টসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক অন্তর

কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক শাহরিয়ার রশিদ অন্তরের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা, দায়িত্বহীনতা, কাঁচামাল সংক্রান্ত অনিয়ম, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে।

এ সম্পর্কিত অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বললেও তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) করিমগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী পরিচয়ে উল্টো টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাভেদ রহিমের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্র জানায়, গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনকালে অন্তর বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এছাড়া ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য কাঁচামাল ক্রয় ও সরবরাহসংক্রান্ত ব্যয়ে অফিসিয়াল ইমেইলে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ও কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফলাফলের নথিতে দেখা যায়, এপ্রিল–জুন ২০২৫ সেশনে অন্তরের ট্রেডে ২৯ জনের মধ্যে কম্পিটেন্ট হয়েছে মাত্র ৯ জন—যা প্রতিষ্ঠানের গড় মানের তুলনায় অনেক কম। টিটিসির একজন সিনিয়র প্রশিক্ষক মন্তব্য করেন, এমন কম্পিটেন্সি রেট শুধু প্রশিক্ষণার্থীদের নয়, প্রশিক্ষকের দক্ষতা ও মনোযোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

শাহরিয়ার রশিদ অন্তর ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রেরিত একটি ইমেইলে ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের ইনস্ট্রাক্টর ও ট্রেড ইনচার্জ মিজানুর রহমানকে যোগ্যতাহীন, মানহীন, অদক্ষ বলাসহ গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন ভাষা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।

সাম্প্রতিক প্রশিক্ষণ শেষ করা রবিউল আউয়াল বলেন, “আমি এখানে প্রশিক্ষণে আসলে অন্তর স্যার ১০ হাজার টাকা দাবি করে বলেন—কিছুই করতে হবে না, তিনি সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে দেবেন। এছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত একটি প্রশিক্ষণ সেন্টারে ভর্তি হতে জোর করেন। পরে আমি রাজি হইনি।”

কাটাবড়িয়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী আ. রাশিদ বলেন, “অন্তর টিটিসিতে চাকরির সুবাদে পাসপোর্ট দালালি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, নিজের ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ করছে। এতে টিটিসির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

অন্য এক স্থানীয় জানান, “অন্তর এনসিপির নেতা। অধ্যক্ষ, পরিচালক তার কাছে কিছুই না। সে প্রকাশ্যে বর্তমান সরকারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। প্রিন্সিপালকে নিয়েও বাইরে সমালোচনা করে। বলে—প্রিন্সিপালকে না সরালে তার শান্তি নেই।”

মহিনন্দন ইউনিয়নের সৌদি–ফেরত প্রবাসী মো. কামরুজ্জামান সজিব মিয়া বলেন, “আমি টিটিসিতে ট্রেনিং করতে গেলে অন্তরের সঙ্গে পরিচয় হয়। সে আমাকে ভালো ভিসা বলে অফার করে এবং ভিসা বাবদ ৭ লাখ টাকা চায়। টিটিসির চাকরি করার কারণে তাকে বিশ্বাস করে টাকা দিলেও তার কথা–কাজের কোনো মিল পাইনি। তিন মাস পর দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। এখন ১০ লাখ টাকা ঋণ মাথায় নিয়ে ঘুরছি।”

অন্তরের এলাকার বাসিন্দা রেজাউল কবির রেজা বলেন, “অন্তরের বাবা করিমগঞ্জের পরিচিত কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন এবং যুদ্ধপরাধ মামলার সাক্ষী ছিলেন। হতে পারে, অন্তরও তার বাবার মতো প্রতিবাদী হওয়ার চেষ্টা করছে। না হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আবার সরকারের সমালোচনা—এটা কেমন বিষয়!”

অভিযোগের বিষয়ে শাহরিয়ার রশিদ অন্তর বলেন, “আমি কোনো সরকারি চাকরি করি না যে, সরকারি চাকরি বিধির পরিপন্থী কোনো কাজ করেছি। আমি যে আইডি দিয়ে সমালোচনা করেছি—সেটা আমার রাইটস আছে। বর্তমানে সেই ফেসবুক আইডি ডিজেবল করা আছে। সার্টিফিকেট বাণিজ্যের কথা সঠিক নয়। কাউকে বিদেশ পাঠিয়েছি—তার প্রমাণ থাকলে নিউজ করুন।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর অধ্যক্ষ মো. জাভেদ রহিম বলেন, “তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তিনি ঠিকভাবে জবাব দিতে পারেননি। পরে আমি বিএমইটির পরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।”

হোসেনপুরে সমবায় ব্যবস্থাপনা ও আয়বর্ধন বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে সমবায় ব্যবস্থাপনা ও আয়বর্ধন বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সমবায় সমিতির টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন এবং আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা সমবায় কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতির সদস্য, কর্মকর্তা ও সংগঠকরা অংশ নেন।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১০টায় হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী চলা এ কর্মশালায় সমবায় ব্যবস্থাপনা, আর্থিক স্বচ্ছতা, আয়বর্ধনমূলক প্রকল্প গ্রহণ, সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শাহেনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নবীউল ইসলাম।

প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা সমবায় অফিসার অলকা আক্তার। তিনি সমবায়ের মূলনীতি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা, আর্থিক জবাবদিহিতা এবং আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমবায় সমিতিগুলোকে কীভাবে আরও শক্তিশালী ও লাভজনক করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, সমবায় সমিতিকে টেকসই ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে সঠিক হিসাবরক্ষণ, স্বচ্ছতা, সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমবায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রশিক্ষকরা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন এবং নতুন আয়বর্ধনমূলক প্রকল্প গ্রহণে উৎসাহিত করেন।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমবায় সমিতিগুলোর সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

কটিয়াদীতে তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন

“কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা হবে না”- এমপি জালাল উদ্দিন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
“কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা হবে না”- এমপি জালাল উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের ঝিড়ারপাড় থেকে বাহেরচর ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে লোহাজুরী ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “কোনো ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা হবে না। জনগণের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “এ সরকার সকল দল, মত ও ধর্মের মানুষের সরকার। আমরা এমন সরকার চাই না, যে সরকার জনগণের সম্পদ লুটপাট করে। অতীতে অনেক লুটপাট হয়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে।”

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় এ খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাইফুল মতিন জুয়েল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জায়দুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক চান মিয়া মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন সরকার, সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঞা শরীফ, সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঞা বাবুল, জসিম উদ্দিন মেম্বার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ রুবেল, ইউপি সদস্য মো. খোকন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং লোহাজুরী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোহাম্মদ আলীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার আবারও খাল পুনঃখনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

তিনি বলেন, “এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া খালে মাছ চাষ এবং খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের সুযোগও তৈরি হবে।”

কটিয়াদীতে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ আটক দুই মাদক বিক্রেতা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ আটক দুই মাদক বিক্রেতা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশ।

আটকরা হলেন উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাগবেড় গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২৮) এবং সহশ্রাম ধূলদিয়া ইউনিয়নের কৈতরীপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মো. সুমন মিয়া (২৬)।

পুলিশ জানায়, রোববার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাগবেড় গ্রামের মোহাম্মদ আলী চৌকিদারের বাড়ির উত্তর পাশের পাকা সড়ক থেকে রুবেল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পৃথক আরেক অভিযানে গচিহাটা-কৈতরীপাড়া ইটের সলিং সড়ক এলাকায় সুমন মিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তার পরিহিত জিন্স প্যান্টের পকেটে থাকা সাদা পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি কটিয়াদীতে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এলাকাবাসী মাদক নির্মূলে পুলিশের চলমান অভিযানের প্রশংসা করে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কটিয়াদী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “পৃথক দুইটি অভিযানে ইয়াবাসহ রুবেল মিয়া ও সুমন মিয়াকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”