শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে যে আট গ্রাউন্ডে আপিল করলো প্রসিকিউশন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে যে আট গ্রাউন্ডে আপিল করলো প্রসিকিউশন

জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আটটি গ্রাউন্ডে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে এ আপিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত যেকোনো রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। তবে এর আগেই আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আপিলে আনা আটটি গ্রাউন্ড হলো-

১. আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন-১৯৭৩ এ যে শাস্তির কথা বলা আছে, তার প্রথমেই ডেথ পেনাল্টি (মৃত্যুদণ্ড) দিয়ে বর্ণনা রয়েছে। এরপর গ্রাভিটি অব দ্য অফেন্সের (অপরাধের ভয়াবহতা) কথা বলা আছে। যেহেতু আইনে একটি শাস্তি প্রেসক্রাইভ (বিধান) উল্লেখ রয়েছে, এজন্য সব চার্জেই ডেথ পেনাল্টি পাওয়ার যোগ্য।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা ভায়োলেশন অব সিরিয়াস হিউম্যান রাইটস (গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন)। সেখানে হেনিয়াস অফেন্স (নিষ্ঠুরতম অপরাধ) হয়েছে, যার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই হওয়া উচিত।

৩. নিরস্র-নিরীহ মানুষের ওপর স্কেল অব অ্যাটাক হয়েছে, তার ব্যাপকতা ছিল মারাত্মক। এর কারণে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি দেওয়া আইনত সঠিক হয়নি।

৪. গ্রাভিটি অব দ্য অফেন্স তথা আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত।

৫. শুধুমাত্র আসামির অধিকার দেখলেই হবে না। এখানে রাইটস অব দি ভিকটিমস এবং সোসাইটির রেজনেবল এক্সপেক্টেশনটাও দেখতে হবে। একটা সমাজ এ ধরনের অপরাধের কি ধরনের শাস্তি প্রত্যাশা করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বন্ধ করার জন্য আদালতে কি ধরনের শাস্তিপ্রাপ্ত হলে বা প্রদত্ত হলে সমাজ এ ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত হবে। সেই সোশ্যাল এক্সপেক্টেশনটাও আদালতের দেখা উচিত ছিল। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত ছিল।

৬. আসামিরা জেনেছেন যে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা চলছে। সাজা হচ্ছে। আপিলের মেয়াদও ৩০ দিন। এসব জেনেই তারা নিজেদের পলাতক রেখেছেন। পলাতক থেকে বিভিন্ন ট্রায়ালে বাধা দেওয়ার জন্য বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে তাদের শাস্তি কমানোর কোনো সুযোগ নেই।

৭. আসামিদের সরাসরি আদেশ বা নির্দেশে যে ধরনের হত্যাযজ্ঞ হয়েছে, তা পৈশাচিক। তাদের নির্দেশে সারাদেশে ১৪০০ এর অধিক মানুষ শহীদ ও ২৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

৮. চার্জ-১ এ আবু সাঈদ, যিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পাইওনিয়র (অগ্রদূত) ছিলেন। আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডেও তারা জড়িত। অতএব চার্জ-১ এ তাদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই ছিল ন্যায়বিচার।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, গত ১৭ নভেম্বর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম রায় ঘোষণা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজা পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এর মধ্যে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও আরেকটিতে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে আমৃত্যু দণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে পরিণত করতে আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আজ আপিল করেছি। আপিলের ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। আশা করছি এর মধ্যেই এই আপিলটি নিষ্পত্তি হবে।

দাম বাড়লোঃ অকটেন ১৪০; পেট্রোল ১৩৫; ডিজেল ১১৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
দাম বাড়লোঃ অকটেন ১৪০; পেট্রোল ১৩৫; ডিজেল ১১৫ টাকা

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাবে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দরের তুলনায় এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলে উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে।

নতুন সমন্বয়ে ডিজেল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, যা লিটারে ১৮ টাকা বেশি। অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, এতে ২০ টাকা বৃদ্ধি দেখা গেছে। আর পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, যা লিটারে ১৯ টাকা বেশি।

ফলে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ের ব্যয়ে নতুন করে চাপ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

করিমগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বড় হাওর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষকের নাম হলুদ মিয়া (৩৭)। তিনি উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে হলুদ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভৈরবে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২২ মামলার আসামিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২২ মামলার আসামিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ভৈরব-এ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২২ মামলার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকার বালুর মাঠ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. আসিফ মিয়া ওরফে ‘ক্যাপ্টেন আসিফ’ (২৪), আরকান (১৯), মো. আমিন মিয়া (২০), জালাল মিয়া (২৪) ও বাদশা মিয়া (২৭)। তাদের মধ্যে আসিফ মিয়ার নামে হত্যা মামলাসহ মোট ২২টি মামলা ও ৬টি ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভৈরব থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকাতির প্রস্তুতির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকার বালুর মাঠে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দা, ছুরিসহ একাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, “ভৈরব এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আসিফ মিয়া ওরফে ক্যাপ্টেন আসিফ একজন শীর্ষ ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলা ও ৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও একাধিক চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে কিছু অপরাধী পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।