বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ল ১১৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ল ১১৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমলেও দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি বেড়েছে ১১৩ শতাংশের বেশি।

নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব, জ্বালানি ও কৃষিপণ্য আমদানি এবং ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্য আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আমদানি হয়েছিল ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য।

এপ্রিল-জুন সময়ে আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখনো নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৫৩৯ কোটি ডলারে নেমেছে।

তবে আগস্টে একক মাসের হিসাবে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

ফলে একদিকে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ওই দেশ থেকেই বাড়ছে জ্বালানি, তুলা, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিন মাসে আমদানি দ্বিগুণের বেশি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, বিটুমিনসহ খনিজ জ্বালানি ও তেলজাত পণ্য। এ খাতে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

এ ছাড়া এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলা, ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলারের লোহা ও ইস্পাত, ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য এবং ৭ কোটি ২৯ লাখ ডলারের সয়াবিন ও পশুখাদ্য আমদানি হয়েছে।

এ সময় ২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পরিমাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি, ১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের প্লাস্টিক সামগ্রীও আমদানি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধির পেছনে নতুন বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি পণ্যের মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে।

বাণিজ্য চুক্তির পর আমদানি বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির পর দেশটি থেকে আমদানি বাড়ার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, কৃষিপণ্য, তুলা ও অন্যান্য পণ্য কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘এটা তো হওয়ারই কথা ছিল। ফেব্রুয়ারিতে চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় এখন দেশটি থেকে পণ্য আমদানি হচ্ছে। চুক্তির পর জুন মাস পর্যন্ত যে তথ্য আমরা দেখছি, তাতেই অনেক বেড়েছে। আগামীতে কী হবে, উড়োজাহাজ আমদানি শুরু হলে কী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’

তার মতে, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোও জরুরি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়ে ৩৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল প্রায় ২৭২ কোটি ডলার।

বড় আমদানি উড়োজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি আরও বাড়ার বড় কারণ হতে পারে উড়োজাহাজ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।

এর মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজের জন্য করা চুক্তির মূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। পরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে উড়োজাহাজ আমদানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য লেনদেনে বড় অঙ্ক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবার আমদানিও বাড়তে পারে।

পোশাক রপ্তানিতে বিপরীত চিত্র

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির চিত্র তেমন ইতিবাচক নয়। ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে গড়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এই সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির মূল্য কমেছে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ভারত থেকে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান থেকে কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম থেকে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া থেকে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং পরিমাণের হিসাবে কমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চাহিদা কমার পাশাপাশি সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। তবে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ১১ শতাংশের বেশি বাড়া ইতিবাচক সংকেত।’

আমদানি বাড়ছে, ভারসাম্য কোথায়

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে আমদানি ব্যয় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার। ফলে এ সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর বড় কারণ জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি। এ সময়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ কোটি ডলার। তবে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

চীন-ভারতের বিকল্প নয়, বাড়ছে বৈচিত্র্য

বাংলাদেশের আমদানি বাজারে এখনো চীন ও ভারতের আধিপত্য রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। ভারত থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে ২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।

তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়লেও অল্প সময়ের মধ্যে চীন ও ভারতকে পেছনে ফেলে দেশটি বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস হয়ে উঠবে—এমন সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘সাধারণ শিল্পপণ্য ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের অবস্থান শক্তিশালী। তবে এলএনজি, তুলা, কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বাড়তে পারে।’

অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন এলেও তা চীন বা ভারতের জায়গা পুরোপুরি দখলের চেয়ে আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার দিকেই বেশি এগোতে পারে।

তবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার পাশাপাশি দেশটির বাজারে রপ্তানিও বাড়ানো। আমদানি দ্রুত বাড়লেও রপ্তানি সে অনুপাতে না বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১০ অক্টোবর)। এর আগে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ২২ দিনের জন্য সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ সময়ে দেশব্যাপী ইলিশ মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে। এর মধ্যে এখনও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। ফলে এ বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

অন্য বছরগুলোতে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই ভারতে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর ভারতে ইলিশ রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ।

গত আগস্টে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠায় পশ্চিমবঙ্গ মাছ আমদানিকারক সমিতি। একই সময়ে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও এ বছর ইলিশের উৎপাদন পর্যালোচনা করে রপ্তানির বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয়।

জানতে চাইলে গতকাল বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ থাকবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অফিসে গিয়ে বিষয়টি খোঁজ নেবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন বা নাকচের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি শাখা সূত্র জানায়, মতামত পাওয়ার পর রপ্তানির অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে। এরপর বিষয়টি আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে (সিসিআইই) পাঠাতে হয়। ফলে হাতে থাকা সময়ের মধ্যে এ বছর পূজায় ভারতে ইলিশ রপ্তানি সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা ও আসামেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চড়া দাম হলেও এসব অঞ্চলের মানুষ বাংলাদেশের ইলিশ কিনতে আগ্রহী। বিশেষ করে পদ্মার ইলিশের চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের পর থেকে প্রতি বছর গড়ে পাঁচ হাজার টন ইলিশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয়েছে। তবে ২০১২ সালে সরকার ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। পরে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্দিষ্ট এক মাসের জন্য বিশেষ অনুমতিতে ভারতে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

২০১৯ সালে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং পুরোটা ভারতে রপ্তানি হয়। ২০২০ সালে ১ হাজার ৮৫০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে পুরোটাই রপ্তানি হয়। ২০২১ সালে ৪ হাজার ৬০০ টন অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯০০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টন অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৪২০ টনের অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৫৭৭ টন। সর্বশেষ গত বছর ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫০ টন।

১৩ বছরের বেতন বৈষম্য কাটছে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
১৩ বছরের বেতন বৈষম্য কাটছে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের

পদমর্যাদায় দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হলেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এতদিন বেতন পাচ্ছিলেন ১১ ও ১২তম গ্রেডে। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা এই বৈষম্যের অবসান হতে যাচ্ছে। প্রায় ১০ মাস আগে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে পদমর্যাদা অনুযায়ী তাঁদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত হলেও এতদিন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি চূড়ান্ত না হওয়ায় সেই অনুযায়ী বেতন পাননি তাঁরা। অবশেষে দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++ সফটওয়্যারে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

গত মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। তবে বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।

প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ফল। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করা এবং গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন—উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত। পরে হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে আদালতে রিট করা ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ। তিনি সমকালকে জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরে রায় দেন।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার। একই দিন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও বেতন নির্ধারণে এর প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম গ্রেডে রাখা হয়।

বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী দশম গ্রেডে মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। এর আগে দশম গ্রেডের পুরোনো বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

সপ্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের বেতন গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

উন্নয়ন পরিকল্পনায় আগামী দিনের জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন পরিকল্পনায় আগামী দিনের জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনার তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় না নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সুফল টেকসই হবে না। তাই বর্তমানের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত সিদ্ধান্তে আগামী কয়েক দশকের জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি) নলেজ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁরা এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশি-বিদেশি পাঁচ শতাধিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিসিডিপি ওয়েব পোর্টালের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। নতুন এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রকল্প ও বিনিয়োগের তথ্য ব্যবস্থাপনা, রিয়েল-টাইম প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, প্রকল্পের পাইপলাইন তৈরি এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে বলে জানান আয়োজকরা।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, জাতীয় জলবায়ু নীতি ও পরিকল্পনাকে সমন্বিত কর্মসূচি, মানসম্মত প্রকল্প, উপযুক্ত অর্থায়ন এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফলে রূপ দেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, অভিযোজনমূলক বিনিয়োগের অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বাণিজ্যিক মুনাফা থাকে না। তবে এসব বিনিয়োগ মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার ও আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জলবায়ু অর্থায়নের কাঠামো তৈরি করতে হবে।

জলবায়ু প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণে নারী, তরুণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ছে, ফসল উৎপাদন কমছে এবং মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর চাপ বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। খাল খনন ও বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি কম কার্বন নিঃসরণকারী পরিবহন এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিসিডিপির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজনের অভিজ্ঞতা সাহস ও মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের গল্প। অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব ও মালিকানা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি সহজলভ্য ও ন্যায্য অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন, স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক অভিযোজনের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে বিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি।

এডিবির নির্বাহী পরিচালক সত্যা শ্রীনিবাস লোল্লা বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাত থেকেই বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ সম্মেলনের সাফল্য শুধু আলোচনায় নয়; বরং সম্মেলন শেষে কী ধরনের পদক্ষেপ ও বিনিয়োগ আসে, তার ওপর নির্ভর করবে।

সম্মেলনের প্রথম দিনে তিনটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এসব অধিবেশনে জলবায়ু সহনশীলতা ও নিম্ন কার্বন প্রবৃদ্ধি, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ বাস্তবায়ন এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ৩.০ বাস্তবায়নে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

আলোচনায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন, খাতভিত্তিক ব্যয় নির্ধারণ এবং জাতীয় বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সরঞ্জাম এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে এনডিসি ৩.০ বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জ্বালানি রূপান্তর, কম কার্বন নিঃসরণকারী পরিবহন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি অধিবেশন এবং বিশেষায়িত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সচিব মুনিরা সুলতানা।