প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান আজ, নিয়োগপত্র না পেয়ে অপেক্ষায় অনেকে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের যোগদান শুরু হয়েছে আজ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে প্রার্থীদের যোগদান করতে বলা হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দিতে ভিড় করছেন নিয়োগপ্রাপ্তরা।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে কর্মস্থলের পথে ছুটছেন অনেকে। তবে একই নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও এখনো নিয়োগপত্র পাননি কেউ কেউ। তাদের মধ্যে কেউ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনশন করছেন, আবার কেউ অজানা কারণে বাদ পড়ার কষ্টে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের কথা বলা হয়।
তবে সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে জারি করা আদেশের মাধ্যমে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। আবার অনেকে গতকাল পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজে আবেদন করেননি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে চূড়ান্ত আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৫৪ জনে। তাদের মধ্যে এখনো শতাধিক প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এখনো ৮১৭ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই বাকি রয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে অনেকে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ কারণে নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে তাদের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা যাচাই শেষে নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ প্রক্রিয়া ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এরপর চূড়ান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীরা ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। যথাসময়ে তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। যোগদানের পর ৪ অক্টোবর পদায়ন করা হবে। এরপর তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে।
এদিকে, প্রাথমিকভাবে নিয়োগপত্র না পেয়ে হতাশ হয়েছেন অনেক প্রার্থী। তবে তাদের বড় একটি অংশ পরে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বস্তির হাসি নিয়ে অনেকে চাকরিতে যোগ দিতে বের হয়েছেন।
তবে নিয়োগপত্র না পেয়ে জামালপুরে এখনো ৫১ জন অনশন করছেন বলে জানা গেছে। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কয়েকজন। এছাড়া বিভিন্ন জেলার আরও কিছু প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি।
তাদের মধ্যে কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কী কারণে আমার নিয়োগপত্র দেওয়া হলো না, আজও জানি না।’
তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ে আন্দোলন করেছি। সম্মুখসারির নেতৃত্ব দিয়েছি। তারপরও আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হয়নি, আমার অপরাধ কী—যদি একটু জানতে পারতাম, তবুও মনকে বোঝানো যেত।’
অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ২০২৫ সালের ব্যাচের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’-এর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নিয়োগপ্রাপ্তদের শুভকামনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এখনো যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করা হয়েছে।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array