প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ পেয়েও বঞ্চিত ২৭০০ প্রার্থী
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি শত শত চাকরিপ্রার্থী। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে অনেকের নিয়োগ আটকে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে দেশের ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। আগামী ১ অক্টোবর তাঁদের যোগদানের কথা রয়েছে। তবে নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া অনেক প্রার্থীর নাম নিয়োগপত্রপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই।
চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মোর্চার দাবি, ৬১ জেলার মধ্যে ৫৫ জেলার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
তবে এই সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, ১১ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব জেলায় অন্তত ৫৫৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মো. জাহিদ হাসানও চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের একজন। ৮৩ জনের তালিকায় তাঁর মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটায় সুপারিশ পেলেও তিনি এখনো নিয়োগপত্র পাননি।
জাহিদের অভিযোগ, যাচাই-বাছাইয়ের নামে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপত্র না পাওয়ার খবরে তাঁর পরিবারও ভেঙে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, পুলিশের পাশাপাশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেও প্রার্থীদের যাচাই করা হয়েছে। ওই সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সুপারিশপ্রাপ্তদের একটি অংশকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা পরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া বৈষম্যমূলক।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিয়োগপত্র পাওয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে বিষয়টি পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাই একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
সরকারি চাকরিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়ার মতে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। পুলিশের যাচাইয়ে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলে তা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, “গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় চাকরিপ্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতি জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।”
চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের আশঙ্কা, যাচাই-বাছাইয়ের নামে বাদ পড়লে ভবিষ্যতেও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
এদিকে সুপারিশপ্রাপ্তদের বাদ পড়ার কারণ, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।














Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array