রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হোসেনপুরে ৭০টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে ৭০টির বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশাসনিক সংকট। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌর এলাকার ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিরও বেশি বিদ্যালয়ে ২০১৮ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

শূন্য পদযুক্ত এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—হোগলাকান্দি, চর হাজিপুর, বীর হাজিপুর, ধলাপাতা, তারাপাশা, হারেঞ্জা, ধনকুড়া, মধ্য গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ৪৫টি বিদ্যালয় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অপরদিকে, হোসেনপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুলিহর, গড় মাছুয়া, কাওনা, কুড়িমারা, দক্ষিণ পিপলাকান্দি, বিল চাতল, বীর পাইকশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকরা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে বিদ্যালয় পরিচালিত হওয়ায় ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার গুণগত মান এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়রা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্তদের পূর্ণাঙ্গ প্রধান শিক্ষক হিসেবে মানতে অনাগ্রহী। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের কারণে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন না।

একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “স্থায়ী প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত অভিভাবক সভা, শিক্ষার মানোন্নয়ন কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে।”

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দিলে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এমদাদুল হক খান বলেন,
“শূন্য পদের চাহিদা আমরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে মহাপরিচালক (ডিজি) মহোদয়ের কাছে পাঠিয়ে আসছি। কিছু ক্ষেত্রে চলতি দায়িত্বে নিয়োজিতদের মামলা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে।”

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।