শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ ১৪৩২
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৪ ১৪৩২

কাশ্মীরের সবচেয়ে আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিলেন ভারতীয় গুপ্তচর—বিস্ফোরক দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কাশ্মীরের সবচেয়ে আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিলেন ভারতীয় গুপ্তচর—বিস্ফোরক দাবি

কাশ্মীরের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি হাই কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় মালিক দাবি করেছেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি ভারতের একাধিক প্রধানমন্ত্রী ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। পাকিস্তানি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকও ভারতীয় সরকারের অনুমোদিত শান্তি প্রচেষ্টার অংশ ছিল।

২০১৫ সালে জেকেএলএফের চেয়ারম্যান হিসেবে আলোচনায় আসা মালিক প্রথমবার পরিচিত হন ১৯৮৭ সালের বিতর্কিত কাশ্মীর বিধানসভা নির্বাচনের পর। ভোট কারচুপির অভিযোগে তিনি এবং তার সঙ্গীরা পাকিস্তানে চলে যান এবং অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে জেকেএলএফের নেতৃত্ব নিয়ে ১৯৮৯ সালে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করেন।

তবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়। মালিক চেয়েছিলেন স্বাধীন কাশ্মীর, পাকিস্তানের সঙ্গে একীকরণ নয়। ১৯৯০ সালে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে মালিক দাবি করেন, তিহার জেলে বা দিল্লির অতিথিশালায় ভারতের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা হতো এবং সশস্ত্র পথ ত্যাগ করতে উৎসাহ দেওয়া হতো।

মুক্তির পর ১৯৯৪ সালে তিনি সশস্ত্র লড়াই পরিত্যাগ করে অহিংস প্রতিবাদের মাধ্যমে স্বাধীন কাশ্মীরের দাবি জানান। বারবার গ্রেপ্তার হলেও জনপ্রিয়তা বজায় থাকে। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর আবারও গ্রেপ্তার হন, এবং ২০২২ সালে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ একাধিক সাজা দেন।

হলফনামার বিস্ফোরক দাবি:
মালিক দাবি করেছেন, নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানি জঙ্গি হাফিজ সাঈদের সঙ্গে বৈঠকও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার উদ্যোগে। এছাড়া ২০১৬ সালে বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরের বিক্ষোভ প্রশমনে গোপন ভূমিকা নিয়েছিলেন।

প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক:
মালিকের দাবিতে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মালিক দুই দিকেই খেলেছেন। অন্যদিকে সাংবাদিকদের ধারণা, মালিকের দাবি বিশ্বাসযোগ্য।

এই হলফনামা একদিকে ভারতের কাশ্মীর নীতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের চরিত্র নিয়েও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে। মালিক কি সত্যিই শান্তির জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, নাকি পরিস্থিতি সামলাতে তাঁকে হাতিয়ার বানানো হয়েছিল—এখন সেটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ময়মনসিংহ বিভাগে ইংরেজি বক্তৃতায় সেরা ভৈরবের প্রিয়ন্তী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ময়মনসিংহ বিভাগে ইংরেজি বক্তৃতায় সেরা ভৈরবের প্রিয়ন্তী

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ইংরেজি বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী রানী পোদ্দার।

প্রিয়ন্তী ভৈরব বাজারের ব্যবসায়ী রতন কুমার পোদ্দার ও গৃহিণী সেতু রানী পোদ্দারের কন্যা। তার একমাত্র ছোট বোন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই প্রিয়ন্তী মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছেন। ২০১৯ সালে ভৈরব সরকারি কেবি পাইলট মডেল হাই স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে একই বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ–৫ লাভ করেন। এরপর ভৈরব সরকারি মহিলা কলেজে ইংরেজি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হয়ে প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় ফার্স্ট ক্লাস অর্জন করেন। দ্বিতীয় বর্ষের ফলাফল প্রকাশ না হলেও ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী। বর্তমানে তিনি তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

উল্লেখ্য, অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে প্রিয়ন্তী বৃত্তি লাভ করেন। শিক্ষার পাশাপাশি তিনি আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, ছবি আঁকা ও সংগীতচর্চায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছেন। ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি জেলা পর্যায়ে একাধিকবার পুরস্কার লাভ করেন। বিভাগীয় পর্যায়ে এটিই তার প্রথম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন।

এই সাফল্যে প্রিয়ন্তীর পরিবার, কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও সহপাঠীরা আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি প্রাইভেট পড়ানো, গান শোনা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সময় কাটান। রবীন্দ্রসংগীত তার বিশেষ প্রিয়।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রিয়ন্তী। তার এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের পাশাপাশি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম সেকুল, শিক্ষক খাদিজা ইয়াসমিন ও অপূর্ব বণিকের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্যে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে ছুরিকাঘাত: একজন নিহত, দুজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীকে ছুরিকাঘাত: একজন নিহত, দুজন আটক

নিহত নজরুল ইসলাম

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছুরিকাঘাতে নজরুল ইসলাম (৪৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার রামসিংহপুর এলাকার হাজী মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় এরশাদ বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান সাহেল প্রিন্সের সমর্থকরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ছুরিকাঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আপিলে কিশোরগঞ্জ-২ এর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবুল বাশারের মনোনয়ন বৈধ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
আপিলে কিশোরগঞ্জ-২ এর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবুল বাশারের মনোনয়ন বৈধ

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে চরমোনাই পীর মনোনীত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি)-এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ান আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সপ্তম দিনে আপিল শুনানি  শেষে মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এর আগে আয়কর সংক্রান্ত লিখিত বিবরণী যথাযথভাবে দাখিল না করায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বাতিল করেন।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে আবুল বাশার রেজওয়ান বলেন, “নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে আমি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।”
শুনানিকালে প্রার্থীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বরকত উল্লাহ লতিফ এবং দপ্তর সম্পাদক শওকত আলী হাওলাদার।
উল্লেখ্য, একই দিনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোট চারজন প্রার্থী আপিলের মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।