বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে, নিহত অন্তত ৫৪ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে, নিহত অন্তত ৫৪ বাংলাদেশি

পরিবারের অভাব ঘোচাতে চেয়েছিলেন তাঁরা। বিদেশে ভালো বেতনের চাকরি করে স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাশিয়ায়। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে যে দেশে গিয়েছিলেন, সেখানেই তাঁদের ঠেলে দেওয়া হয় যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যে। যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলে কেউ কেউ জানিয়েছিলেন, হয়তো আর দেখা হবে না। এরপর থেকে তাঁদের আর কোনো খোঁজ নেই। পরিচিতজনের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর পেলেও পরিবার নিশ্চিত হতে পারেনি, সত্যিই কি শেষ হয়ে গেছে তাঁদের স্বজনের জীবন।

এভাবে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন বহু বাংলাদেশি। কারও কাছে বিদেশযাত্রা ছিল ভাগ্য বদলের শেষ চেষ্টা, কারও কাছে ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির স্বপ্ন। কিন্তু চাকরির প্রতিশ্রুতি আর মোটা বেতনের প্রলোভন অনেকের জীবনকে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর মুখে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশিদের একটি অংশকে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় নিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়েছে।

গত তিন বছরে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে অন্তত ৫৪ বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেকের মৃত্যুর খবর মিললেও মরদেহ দেশে আসেনি। কেউ নিখোঁজ, কেউ গুরুতর আহত, আবার কারও পরিবার জানে না তাঁদের স্বজন জীবিত আছেন, নাকি যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক প্রমাণ না থাকায় আটকে যাচ্ছে ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তাও।

চলতি বছরের ৭ মে ভালো বেতনের চাকরির আশায় ঢাকা থেকে ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাঁদের পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত কাজের পরিবর্তে তাঁদের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) অনুসন্ধান অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই ৩০ জন রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে মাত্র ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, এই দলের অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের অনেকে ১২ ও ১৩ জুনের দিকে মারা যান বলে জানা গেছে। আহত দুজন পরে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন।

১৪ অক্টোবর রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এসব তথ্য জানান। সংস্থাটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পর্যাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশিদের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়েছিল। প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য তাঁদের একধরনের ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলেও অনুসন্ধানে ধারণা করা হয়েছে।

রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়া এক বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। পেটে স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে তাঁকে মস্কোর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর প্রায় দেড় মাস বিছানায় কাটাতে হয় তাঁকে। দুই মাস হাসপাতালে থাকার পর সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে যান তিনি। পরে ভ্রমণের বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবর রাশিয়ার পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রকাশ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের নিখোঁজ হিসেবে দেখানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে স্বজনের মৃত্যুর খবর পেয়েও নিশ্চিত হতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। কারও কাছে রয়েছে সহকর্মীর ফোনে পাওয়া সংবাদ, কারও কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য। কিন্তু মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক সনদ কিংবা মরদেহ না থাকায় শোকের মধ্যেও তাঁদের কাটাতে হচ্ছে অনিশ্চয়তায়।

রাশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। গত ২৫ মে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে কর্মীদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া পাঠানোর বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়।

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠান ৭০ জন কর্মী পাঠানোর অনুমতি চাইলেও দূতাবাস তাদের সত্যায়ন করেনি। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ১০ জন কর্মী নেওয়ার বিষয়েও সন্দেহ দেখা দেওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে এক কর্মীর পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে দূতাবাস জানতে পারে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় গেছেন এবং তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।

দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সত্যায়ন না পাওয়ায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কর্মীদের পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি যাচাই করার পাশাপাশি তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে এনে নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা কাজে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

এদিকে, মানব পাচারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের দুজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় পাঠিয়ে যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত চার-পাঁচ মাস ধরে যুদ্ধক্ষেত্রে নিখোঁজ ও নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে রাশিয়া থেকে তথ্য আসছে। দেশটি ৪০ জনের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে কতজন নিহত এবং কতজন নিখোঁজ, তা আলাদা করে জানানো হয়নি। সর্বশেষ ৩০ জনের দলের অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়েও রাশিয়ার পক্ষ থেকে তখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, তাঁর জানা অনুযায়ী, ৯০ শতাংশের বেশি কর্মী নিজেরাই যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ ৩০ জনের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও একই দাবি করা হয়েছে। দেশটির কাছে এ বিষয়ে লিখিত প্রমাণ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মরদেহ হস্তান্তর না করায় সেগুলো বাংলাদেশে আনা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেওয়া শতাধিক বাংলাদেশির মধ্যে গত মার্চ পর্যন্ত ৩৪ জন নিহত হয়েছিলেন। পরে ১৪ অক্টোবর এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে ৩০ জনের একটি দলের অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

বিদেশে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি মারা গেলে তাঁর মরদেহ দেশে আনা এবং পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। দেশে আনা প্রতিটি মরদেহের দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী সময়ে তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জীবনবিমার সুবিধাও পাওয়া যায়। বিদেশে বকেয়া বেতন বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া যায়।

কিন্তু রাশিয়ায় নিহতদের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর প্রমাণ। মরদেহ দেশে না আসায় এবং আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র না পাওয়ায় পরিবারগুলো সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারছে না। কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে মরদেহ আনার জন্য তখন পর্যন্ত কোনো আবেদনও জমা পড়েনি।

বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় কর্মী যাওয়ার প্রবণতা ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাড়তে থাকে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাশিয়া যাওয়ার ছাড়পত্র নিয়েছিলেন ৩৭ জন। ২০২৪ সালে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৯৫ জনে। ২০২৫ সালে তা আরও বেড়ে হয় ৪ হাজার ৭২৫। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩ হাজার ১০৫ জন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধানের মতে, মানব পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত কিছু এজেন্সি রাশিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছে। কতজন সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুত চাকরি পেয়েছেন, কতজন নিখোঁজ বা কোথায় আছেন—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই। মৃত্যুর পরও মরদেহ না পাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় পরিবারগুলো আরও অসহায় হয়ে পড়ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিশ্চিত চাকরির তথ্য যাচাই ও সত্যায়ন ছাড়া কর্মীদের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন দেশ ঘুরে যারা রাশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে দূতাবাসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের পরও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। চাকরির আশায় ঋণ করে বিপুল অর্থ ব্যয় করছেন অনেকে। অথচ বিদেশে পৌঁছানোর পর তাঁদের নিয়তি হয়ে উঠছে অনিশ্চিত। কেউ আহত হয়ে দেশে ফিরছেন, কেউ নিখোঁজ, আবার কারও মৃত্যুর খবর জানা গেলেও পরিবার পাচ্ছে না প্রয়োজনীয় প্রমাণ।

পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া মানুষগুলোর অনেকেই আর ফিরছেন না। কেউ ফিরছেন ক্ষতবিক্ষত শরীরে, কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন যুদ্ধের ধোঁয়ায়। আর দেশে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের কাছে বিদেশের চাকরির স্বপ্ন এখন উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা আর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার ব্যাকুল আকুতি।

কুমিল্লায় কর্ণফুলী কমিউটার লাইনচ্যুত, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
কুমিল্লায় কর্ণফুলী কমিউটার লাইনচ্যুত, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

কুমিল্লার লাকসামে নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর। তিনি জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ওসি আরও জানান, লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কাজ শুরু হবে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গুজব ও উগ্রতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে তরুণদের: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
গুজব ও উগ্রতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে তরুণদের: রাষ্ট্রপতি

তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে।

আজ সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দেশ সবার। সবাইকে মিলেই দেশ গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছেন। এটি দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি বাংলাদেশের শক্তি ও অস্তিত্বের অংশ, যা যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণকে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়।

ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হওয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

এর আগে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

পরে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রায় ৮ হাজার শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ণ
সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রায় ৮ হাজার শিশু

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই ঝরছে শিশুর প্রাণ। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু। নিহতদের মধ্যে ৩৭ শতাংশের বেশি ছিল মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। এ ছাড়া পথচারী হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ২ হাজার ৮১২ শিশুর।

বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের ৩৪ শতাংশের বেশি প্রাণ হারিয়েছে গ্রামীণ সড়কে। বয়সভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে। এ বয়সসীমায় নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৭ জন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথেও নিরাপদ নয় শিশুরা। এই সময়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াতের পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৫১৩ শিশু। অর্থাৎ, শিক্ষার জন্য ঘর থেকে বের হয়েও অনেক শিশু আর পরিবারের কাছে ফিরতে পারেনি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শিশুদের জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে না পারা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অসচেতনতা এবং অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে শিশুদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা যানবাহন ব্যবহারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বয়স অনুযায়ী চালনার বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ শিশুর মৃত্যু ফুটপাত, নিরাপদ পারাপার ও সড়ক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এনেছে।

গ্রামীণ সড়কে শিশুদের বেশি মৃত্যুর তথ্যও উদ্বেগজনক। সড়কের নকশা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সতর্কসংকেত এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকলে শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমাতে সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, আইন লঙ্ঘনকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

এ ছাড়া শিশুদের নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত নিশ্চিত করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরযান চালানো প্রতিরোধ এবং পথচারীবান্ধব সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাড়ে ছয় বছরে প্রায় আট হাজার শিশুর প্রাণহানির এই পরিসংখ্যান সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তুলেছে। কার্যকর আইন প্রয়োগ, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো এবং সম্মিলিত সচেতনতার মাধ্যমে শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো জরুরি।