রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সংকটে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে কোটি মানুষ

দারিদ্র্য শুধু আয় কমে যাওয়ার নাম নয়। এর অর্থ একটি পরিবারের শিশুর পুষ্টিকর খাবার না পাওয়া, অসুস্থ হলে চিকিৎসা করাতে না পারা, পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা জীবিকার তাগিদে বসতভিটা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যেতে বাধ্য হওয়া।

বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্যবিষয়ক আলোচনায় উঠে এসেছে, বিভিন্ন সংকটের সম্মিলিত প্রভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ‘আরও চার কোটি মানুষ’—এমন শিরোনামে প্রকাশিত তথ্যটি সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন। তবে এই সংখ্যাটি কোন নির্দিষ্ট প্রতিবেদন, সময়সীমা ও দারিদ্র্যের সংজ্ঞার ভিত্তিতে বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের জন্য দারিদ্র্যের এই ঝুঁকি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট ও জ্বালানির ঘাটতি মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা বেড়ে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন করে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।

এই সংকটের বড় শিকার নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। তাঁদের আয় বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সেই আয় দিয়ে আগের মতো সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। চাল, ডাল, তেল, মাছ, সবজি, ওষুধ, বাড়িভাড়া ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে মাসের শেষ দিকে অনেক পরিবারকে ধারদেনা করতে হচ্ছে।

কোনো পরিবার হয়তো এখনো দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে রয়েছে। কিন্তু পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ হলে, চাকরি চলে গেলে কিংবা বাড়িভাড়া বেড়ে গেলে সেই পরিবারও নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে

দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।

একজন দিনমজুরের দৈনিক আয় যদি ৭০০ টাকা হয়, অথচ খাবার, বাসাভাড়া ও যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে ৮০০ টাকা প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রতিদিনই তাঁকে ঘাটতি নিয়ে সংসার চালাতে হবে। আয় বাড়ার সুযোগ না থাকলে এই ঘাটতি ধীরে ধীরে ঋণে পরিণত হয়।

অন্যদিকে, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্থরতা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নারীরা কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।

কর্মসংস্থান শুধু আয় উপার্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের আত্মমর্যাদা, পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি। তাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হলে দারিদ্র্য কমানোর প্রচেষ্টাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে দারিদ্র্যের সঙ্গে পরিবেশগত সংকটের সম্পর্ক গভীর।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে দিতে পারে। কৃষক ফসল হারান, জেলেরা মাছ ধরতে পারেন না, দিনমজুর কাজ হারান। অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে শহরে এসে নতুন করে জীবন শুরু করতে বাধ্য হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সম্পদহানিতে সীমাবদ্ধ নয়। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়, পানীয় জলের সংকট দেখা দেয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এবং অভিযোজনের সীমিত সুযোগ অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বে অতিরিক্ত ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারেন।

এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়। তবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দারিদ্র্য মোকাবিলায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, খাদ্যসহায়তা ও বিভিন্ন নগদ সহায়তা কর্মসূচি দরিদ্র মানুষের জীবনধারণে সহায়তা করে। তবে এসব সহায়তা প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের প্রায় অর্ধেক কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। অর্থাৎ, যাঁদের সহায়তা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাঁদের একটি বড় অংশই প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উপকারভোগী নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে নগদ সহায়তার পরিমাণ এমন পর্যায়ে নিতে হবে, যাতে তা পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে বাস্তব ভূমিকা রাখতে পারে।

দারিদ্র্য মোকাবিলায় শুধু সাময়িক সহায়তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের নিয়মিত কাজের সুযোগ থাকবে, আয় বাড়বে এবং মৌলিক সেবাগুলো সবার জন্য সহজলভ্য হবে।

এ জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।

  • কর্মসংস্থান সৃষ্টি: কৃষি, শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবা খাতে নতুন কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিতে হবে।
  • মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: খাদ্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বাজার তদারকি এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ: প্রকৃত দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে সময়মতো সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ: দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দারিদ্র্যের চক্র পরবর্তী প্রজন্মেও চলতে না থাকে।
  • জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি: কৃষি, অবকাঠামো, নিরাপদ পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

দারিদ্র্য কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; অনেক সময় এটি অর্থনৈতিক বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অপর্যাপ্ত সামাজিক সুরক্ষার সম্মিলিত ফল।

নতুন করে চার কোটি মানুষ দরিদ্র হওয়ার আশঙ্কা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সবার কাছে পৌঁছানো কতটা জরুরি। দেশের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন একজন শ্রমজীবী মানুষ তাঁর আয় দিয়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে পারবেন।

দারিদ্র্য কমানোর লড়াই তাই শুধু অর্থনীতির লড়াই নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লড়াই।

কিশোরগঞ্জে র‍্যালি-আলোচনা সভায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে র‍্যালি-আলোচনা সভায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে র‍্যালি, আলোচনা সভা, ঋণের চেক ও সনদ বিতরণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কালীবাড়ি মোড়সংলগ্ন নজরুল চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিদ্দিক উল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাজমুল করিম, কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা। এ ছাড়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা, প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তাঁরা যুবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ঋণের চেক ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবসের প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ হয়।

নিকলীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
নিকলীতে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে যুব র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নিকলী উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা। সঞ্চালনা করেন মো. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ইরফানুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল মামুন, উপজেলা যুব কাউন্সিলের সদস্য আবদুল মান্নান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম লিটন, সদস্যসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাকির হুসাইন, নারী উদ্যোক্তা শায়লা আক্তার, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের যুব উন্নয়নকর্মীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা নিকলীতে একটি যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হলে উপজেলার তরুণেরা দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন এবং সঠিক পথে নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তুলতে পারবেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শামীম আরা বলেন, যুবকদের নিজেদের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। মনোভাব, কর্মদক্ষতা, সহনশীলতা ও কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে নিজ নিজ দক্ষতা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নিজের ইচ্ছাশক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ দেশের মূল শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় তিনি যুবকদের মাদক ছেড়ে কর্মমুখী হওয়ার আহ্বান জানান।

কুলিয়ারচরে পুলিশের গুলিতে দুই নেতা নিহতের তিন বছর, বিচারের দাবিতে বাবার কান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের গুলিতে দুই নেতা নিহতের তিন বছর, বিচারের দাবিতে বাবার কান্না

‘আমার ছেলে তো আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তার হত্যাকারীদের বিচার হলে অন্তত বুকের ভেতরের কষ্টটা কিছুটা হলেও কমবে।’ তিন বছর ধরে সন্তানের হত্যার বিচারের আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানো এক বাবার কণ্ঠে এভাবেই ঝরে পড়ে আক্ষেপ আর আকুতি।

গত ৩১ অক্টোবর ছিল ছাত্রদল নেতা রেফায়েত উল্লাহর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্তানের হত্যার বিচার পাননি তাঁর বাবা। ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন বিএনপির অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রেফায়েত উল্লাহ ও কৃষক দল নেতা বিল্লাল হোসেন।

তাঁদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩১ অক্টোবর শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের বড় ছয়সূতী গ্রামের কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. ছিদ্দিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, ছয়সূতী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজাহার উদ্দিন লিটন, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম বিপ্লব, ছয়সূতী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান সজীব ও সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কবর জিয়ারত শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন বড় ছয়সূতী আরব আলী খান ফুরকানিয়া ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদ হাসান।

কবর জিয়ারতের আগে নিহত রেফায়েত উল্লাহর বাবা মো. কাউসার মিয়া ও দলীয় নেতারা দ্রুত বিচার দাবি করেন। কাউসার মিয়া জানান, ছেলেকে হারানোর পর তাঁর লাশ দাফন করতেও চরম কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল পরিবারকে। সে সময় পরিবার ও স্বজনদের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দুর্বিষহ পরিস্থিতির স্মৃতি এখনো তাঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তাঁর অভিযোগ, তখন পুলিশি বাধার কারণে আত্মীয়স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্য এলাকায় স্বাভাবিক চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়েছিল।

দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ পালন করা হচ্ছিল। এ সময় পুলিশ নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালায়। এ ঘটনায় তৎকালীন কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফার নির্দেশনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

সম্প্রতি এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে অর্থ লেনদেন ও স্বার্থ হাসিলের গুঞ্জন ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার মতো অসত্য অভিযোগও তোলা হচ্ছে শোকাহত পরিবারটির বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাউসার মিয়া বলেন, ‘একজন বাবা কি এতটাই লোভী হতে পারে যে, নিজের সন্তানের লাশের বিনিময়ে টাকা নেবে? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার সন্তানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে যদি কেউ কোনো ধরনের অর্থ লেনদেন করে থাকে, তবে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য বের করা হোক।’

বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি। নিহত রেফায়েত উল্লাহ ছিলেন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। এরপরও তিন বছরেও বিচার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তাঁর পরিবার প্রশ্ন করেছে, ‘কেন আজও আমাদের মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে? আমার ছেলের হত্যার বিচার কি আমি জীবিত থাকতেও দেখে যেতে পারব না?’

সন্তান হারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী মা এবং এক বাবার দীর্ঘদিনের বিচারপ্রার্থনার লড়াই যেন থামছেই না। এ অবস্থায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপির কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন কাউসার মিয়া। তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমার সন্তানের হত্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন। সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করুন। আমি একজন অসহায় বাবা হিসেবে আপনার কাছে ন্যায়বিচার চাই।’

নিহত রেফায়েত উল্লাহ ও বিল্লাল হোসেনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।