কটিয়াদীতে নবাগত জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
দুই দিনের ব্যবধানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বাতিলের ঘটনায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পর নির্বাচিত সরকারের সময়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সংস্কৃতি অঙ্গনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় শিল্পী, আয়োজক ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বৈধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা এবং কোনো পক্ষের আপত্তির ভিত্তিতে অনুষ্ঠান বাতিলের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি বলেন, ‘সংস্কৃতি আমাদের প্রধান পরিচয়। সে জায়গা থেকে এভাবে কনসার্ট বাতিল হওয়ার ঘটনা মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘এখানে প্রশাসনের বড় ভূমিকা রয়েছে। তারা কী ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতে কী করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কোনো একটি পক্ষ আপত্তি করল আর তার কারণে প্রশাসন অনুষ্ঠান বাতিল করে দিল—এমনটা তো হতে পারে না। এটি সরাসরি সংস্কৃতির ওপর হুমকি।’
ন্যান্সির ভাষ্য, ‘ধরলাম, কোনো একটি গোষ্ঠী কোনো একটি অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপত্তি করল। কিন্তু সেই আপত্তির যদি কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকে, তাহলে তাদের ভালো না লাগার কারণে অন্যদের অধিকারেও তো আঘাত করা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারও বা কোনো গোষ্ঠীর কোনো কিছু ভালো না-ও লাগতে পারে। কিন্তু দু-একজনের ব্যক্তিগত চিন্তা বা অপছন্দের কারণে একটি দেশের সংস্কৃতি এভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে না। এখানে প্রশাসনেরই বড় ভূমিকা পালন করা উচিত।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সংগীতশিল্পী বলেন, কোনো বৈধ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি থাকলে তার যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে আইন ও বিধিবিধান মেনে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। তবে অযৌক্তিক আপত্তির কারণে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয় বলে মনে করেন তিনি।
ন্যান্সি বলেন, ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়েরও এ বিষয়ে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে কেন একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাতিল করতে হবে? আমরা তো কোনো জঙ্গি রাষ্ট্রে বাস করছি না। আমাদের পরিস্থিতি পাকিস্তানের মতোও নয়।’
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো অনুষ্ঠানে সমস্যা বা হুমকি তৈরি হলে তা মোকাবিলা করে শিল্পী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের দায়িত্ব।
কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন ইউনিটের অর্ডিনারি জেনারেল মিটিং (ওজিএম) ও নির্বাচন কিশোরগঞ্জ রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনার রুহুল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
তফসিল অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। পরদিন ২৯ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে। ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
৩১ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হবে। ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্রের মূল্য ৮ হাজার টাকা, সেক্রেটারি পদে ৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ফি অফেরতযোগ্য। একজন প্রার্থী একাধিক পদের জন্য মনোনয়নপত্র ক্রয় বা জমা দিতে পারবেন না।
১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল এবং একই দিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত লিখিত আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে।
৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় চূড়ান্ত বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভাইস চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও সদস্য পদে মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনের সচিবের কার্যালয়, রেড ক্রিসেন্ট ভবন, ৩২ কিশোরগঞ্জ থেকে নগদ অর্থে অথবা যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে কেনা যাবে। ভোটার তালিকা সংগ্রহের জন্য ৬০০ টাকা অফেরতযোগ্য ফি দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম ইউনিট কার্যালয় থেকে বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুর্বৃত্তদের হামলায় মো. আল আমিন সৈকত (৪০) নামে পৌরসভার সাবেক এক কাউন্সিলর নিহত হয়েছেন। তিনি পৌর যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভৈরব শহরের টিনপট্টি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন আল আমিন সৈকত। পরে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে টিনপট্টি এলাকার গোপাল জিউর মন্দিরের সামনে আল আমিন সৈকতের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আল আমিন সৈকত ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। পাশাপাশি তিনি ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাতে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আল আমিন সৈকত গুরুতর আহত হন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তবে হামলার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array