রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিয়ের ফাঁদে সর্বস্ব লুট: এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক নারীর প্রতারণার অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ  প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিয়ের ফাঁদে সর্বস্ব লুট: এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক নারীর প্রতারণার অভিযোগ
কিশোরগঞ্জে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোটি টাকার কাছাকাছি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) তিনজন ভুক্তভোগী নারী এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল ডুবাইল এলাকার গৃহবধূ জেসমিন আক্তার (৩৮) অভিযুক্ত রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী জেসমিন আক্তার পিতা মৃত আঃ মামুন ভূইয়া। তিনি পেশায় একজন গৃহিণী।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মো. রুহুল আমিন (৪০) এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে কখনো আইনজীবী, কখনো সাংবাদিক, আবার কখনো সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তের প্রলোভনে পড়ে তিনি আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে রুহুল আমিনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ব্যবসার কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কাছ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার গ্রহণ করেন, যার আনুমানিক মূল্য আরও প্রায় ৬ লাখ টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে সংসার গড়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জেসমিন আক্তারের নামে থাকা জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিজের নামে নেন। পরে ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ওই জমি ২৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে পুরো অর্থ আত্মসাৎ করেন। টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে যান।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রুহুল আমিন এর আগেও একাধিক নারীকে একই কৌশলে বিয়ে করে সর্বস্ব লুট করে পালিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, রুহুল আমিন ভুয়া এনজিওর কাগজপত্র দেখিয়ে তাকে চাকরি দেন এবং তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় উত্তোলন করে প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। বর্তমানে অভিযুক্তের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। ওই নারী বলেন, মানুষের টাকা ফেরত দেওয়ার চাপে তিনি সুদে টাকা পরিশোধ করে নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছেন।
অপর আরেক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে সময় লাগায় অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
নিয়ামতপুরে দুই মাদক কারবারিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের আইজুদ্দিনের ছেলে সাফায়েতুল (২১) এবং দেহন্দা ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে রাব্বুল (২০)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।

তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির শতভাগ বাস্তবায়নে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী (কেরানি) মো. মস্তোফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা ফাজিল কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসন-এর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনি আক্তার তারানা রাষ্ট্রের পক্ষে সালাম গ্রহণ করেন।

এ সময় জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত মরহুমের মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে একই স্থানে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমকে দাফন করা হয়।

গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. ঈসরাইল মিয়া, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মোড়ল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, কটিয়াদী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বাবলুসহ কটিয়াদী সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মস্তোফা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ফেকামারা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, চার মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

মোছা. জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ২২ দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে)। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

শনিবার দুপুরে করিমগঞ্জ পৌরসভার নয়াকান্দি এলাকায় অবস্থিত ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ আঞ্চলিক অফিসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শহীদুজ্জামান ভূঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসকে কিশোরগঞ্জ-২ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. সজল মিয়া।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে এসএসসি উত্তীর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১২ হাজার টাকা করে এবং এইচএসসি উত্তীর্ণ সাতজন শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এ সময় বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা বিস্তারে সহায়তা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ডিএসকে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিজেদের উপকারভোগী সদস্যদের সন্তানদের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদেরও বৃত্তি দিয়ে থাকে।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, এ বছর জেলায় মোট ১৩১ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ পূর্ব জোনে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সারাদেশে ডিএসকের শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় মোট এক কোটি ১০ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।