সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পরিকল্পিত হামলায় রিকশাচালক নিহত, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পরিকল্পিত হামলায় রিকশাচালক নিহত, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

কিশোরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতা ও মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রিকশাচালক আঃ ছালামকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মো. মতিউর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নিহতের স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সংবাদ সম্মেলনে মো. মতিউর রহমান বলেন, আমার বাবা আঃ ছালাম ছিলেন একজন সাধারণ রিকশাচালক। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্যায় ও অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১ মামলাটি আমলে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার কয়েক মাস আগে অভিযুক্তদের একজন নিহতের পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার জেরে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে নিহত আঃ ছালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষণ করে এবং একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

মামলার এজাহার ও সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ৫টার পরে কিশোরগঞ্জ শহরের লতিবাবাদ দক্ষিণপাড়া এলাকায় হিমাগার রোডে হারুনের বাড়ির উত্তর পাশে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আঃ ছালাম কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর জন্য খাবার নিয়ে সাইকেলযোগে যাওয়ার পথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার গতিরোধ করে। এরপর তাকে ঘিরে ধরে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা একপর্যায়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আঃ ছালামকে টেনে-হেঁচড়ে হাইওয়ে রোডে নিয়ে গিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় আঃ ছালামকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নেওয়ার পথে তিনি হামলার বিস্তারিত বিবরণ দেন বলে দাবি করেন স্বজনরা। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ২৬ নভেম্বর ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. শহীদ মিয়া (৫০), মো. সাদেক মিয়া (২২), মো. সোহেল মিয়া (৩৫), মো. সুজন মিয়া (৪০), মো. এরশাদ মিয়া (৩৫) ও উজ্জল মিয়া (৪৫)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারটির দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার না হলে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর এক প্রবাসীর মৃত্যু

কটিয়াদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কটিয়াদীর এক প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন (২৮) উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের গাববাড়ি এলাকার মো. রমজান আলীর ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানোর উদ্দেশ্যে আলমগীর হোসেন সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি রিয়াদ শহরের আল লিয়ান কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের ছোট ভাই মো. রুবেল মিয়া জানান, শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে যাওয়ার পথে পেছন দিক থেকে একটি গাড়ি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

তার এ অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

শেরপুরে ৪ জন সহ র‍্যাবের হাতে কিশোরগঞ্জের ৫ আসামী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
শেরপুরে ৪ জন সহ র‍্যাবের হাতে কিশোরগঞ্জের ৫ আসামী গ্রেপ্তার
কিশোরগঞ্জে পৃথক হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলার ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) ভোররাত ও দুপুরে পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার একটি হত্যা মামলার ৪ আসামিকে বগুড়া জেলার শেরপুর থানার খানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মো. সাব্বির হোসেন (২২), মজিবুর রহমান (৫৫), মো. সজিব মিয়া (২৬) ও শাহ আলম (৫২)। রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে র‍্যাব-১২ সিপিএসসি, বগুড়ার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হত্যা চেষ্টা মামলার আসামি জাহেদ (৩৮)কে একই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে সদর থানার নিয়ামতপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, ইটনা উপজেলার মধ্যগ্রামে নিহত আইয়ুব আলী (৬৮)-এর বোনের জমি নিয়ে আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আইয়ুব আলী একটি মুরগির খামারে মুরগি কিনতে গেলে আসামিরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কামরুল হাসান (৪৩) বাদী হয়ে ইটনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৮, তারিখ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫; ধারাঃ ১৪৩/৩৪১/৩০৭/৩২৩/৩২৫/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার তেরহাসিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১১ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জাহেদসহ অন্যান্য আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইকরামুল হাসান অনিক (১৮)-এর বসতবাড়িতে হামলা চালায়।

হামলায় অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিকের বাবা আবু কালাম (৪৬)সহ আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় সদর থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৩২, তারিখ: ১২ মার্চ ২০২৬; ধারাঃ ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪/৩৪ দণ্ডবিধি)।

র‍্যাব জানায়, উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-১৪ সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন

“সময়মতো টিকা দিন, হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধ করুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সিভিল সার্জন ডা. অভিজিৎ শর্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. দিদারুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মো. আজিজুল হক তানজিলসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বক্তারা জানান, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, দেশব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদানের হার বৃদ্ধি, অরক্ষিত শিশুদের সুরক্ষার আওতায় আনা এবং হাম-রুবেলার সংক্রমণ প্রতিরোধই মূল লক্ষ্য। এজন্য অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকাকেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।