রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ডেভিল হান্ট ফেজ–২: কুলিয়ারচরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ পদধারীসহ গ্রেফতার ৬

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৪১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ডেভিল হান্ট ফেজ–২: কুলিয়ারচরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ পদধারীসহ গ্রেফতার ৬

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’-এর অংশ হিসেবে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ছয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত কুলিয়ারচর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নূরুন্নবী।

থানা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা হলেন—ছয়সূতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হীরা মিয়া সরকার, কুলিয়ারচর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমরান মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহ আলম, ছয়সূতী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন, ফরিদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ খান এবং ছয়সূতী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. শরীফ।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও অস্ত্র আইনে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাদের কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গতকাল রাতে গ্রেফতার হওয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমরান মিয়াকে একই আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আজ আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নূরুন্নবী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’-এর আওতায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলায় ইউপি নির্বাচন

আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউপি নির্বাচন হবে আগামী ১২ নভেম্বর।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলায় তিনটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, এ দুই জেলায় উপজেলার সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া যেসব জেলায় ১০টি বা তার বেশি উপজেলা রয়েছে, সেসব জেলার দুটি করে উপজেলায় প্রথম ধাপে ভোট হবে। এসব মিলিয়ে প্রথম ধাপে মোট ৮০টি উপজেলা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আদালতের রায়ের কারণে দুটি উপজেলায় নির্বাচন করতে হবে। আর বাকি উপজেলাগুলো বেশি সংখ্যক উপজেলা থাকা জেলাগুলোতে আনুপাতিক হারে সমন্বয় করে প্রথম ধাপে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপকে অপেক্ষাকৃত হালকা রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, দ্বিতীয় ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ২৭ মে।

গ্রাম আদালত নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কিশোরগঞ্জে সমন্বয় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
গ্রাম আদালত নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কিশোরগঞ্জে সমন্বয় সভা

কিশোরগঞ্জে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও উপসচিব জেবুন নাহার শাম্মী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, গ্রাম আদালতের ক্ষমতায়ন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। সাধারণ মানুষ যাতে গ্রাম আদালতে সঠিক বিচার পায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম অতি দ্রুত সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ব্যাপক ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, গ্রাম আদালতে সাধারণ মানুষ বিচার না পাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়। এতে করে মামলা দিনে দিনে প্রচুর পরিমাণে বাড়ছে, যা বিচার কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় হলো ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা।

বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের ইপসা, কিশোরগঞ্জ জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হাফিজা আক্তারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস শাকিব খান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ স্বাগত সাম্য, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম শামীম, কিশোরগঞ্জ খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো. ইমরুল কায়েস এবং গ্রাম আদালতের সদর ও হোসেনপুরের সমন্বয়কারী মো. কবির উদ্দিন।

এ সময় বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি এবং উপজেলার সমন্বয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফুটপাত নেই, নান্দাইল থানা মোড় যেন মৃত্যুফাঁদ

আমিনুল ইসলাম কায়েস প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
ফুটপাত নেই, নান্দাইল থানা মোড় যেন মৃত্যুফাঁদ

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল থানা মোড়। নান্দাইল শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল। কিন্তু পথচারীদের নিরাপদে হাঁটার জন্য নেই পর্যাপ্ত ফুটপাত। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের একেবারে পাশ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে থানা মোড় এলাকায় পথচারীদের জন্য নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় একদিকে পথচারী, অন্যদিকে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় এ এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে থানা, মসজিদ, বাজার ও আশপাশের প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী মানুষকে বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু দুর্ভোগই নয়, ফুটপাতের অভাবে এই স্থানটি এখন অনেকের কাছে আতঙ্কের নাম। তাদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে নান্দাইল থানা মসজিদের একজন মুয়াজ্জিনও রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অগণিত মানুষ। তবে নিহত ও আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং দুর্ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, একটি ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবেই। কোনো কোনো সময় পথচারীদের পাশ দিয়ে অত্যন্ত কাছ ঘেঁষে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলে যায়। এতে সামান্য অসতর্কতা কিংবা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বলেন, নান্দাইল থানা মোড় শুধু স্থানীয় মানুষের চলাচলের জায়গা নয়; ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের মধ্যে চলাচলকারী বিপুলসংখ্যক যানবাহনও এই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে এখানে পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তাদের দাবি, মহাসড়কের ওই অংশে দ্রুত টেকসই ফুটপাত নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সড়কবাতি, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, জেব্রা ক্রসিং এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা দরকার। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের প্রশ্ন—আর কত প্রাণ গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে?

নান্দাইলবাসীর প্রত্যাশা, কোনো দুর্ঘটনার পর সাময়িক ব্যবস্থা নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফুটপাত নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে নান্দাইল থানা মোড়কে পথচারীবান্ধব ও নিরাপদ করে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।