রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুর পরিষ্কারে পৌরসভা ও বাপা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুর পরিষ্কারে পৌরসভা ও বাপা

পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা ও পলিতে ভরে ভাগাড়ে পরিণত হওয়া পুকুরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পুনরায় ব্যবহারোপযোগী করার লক্ষ্যে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

‘সুস্থ, সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পৌরসভার অর্ধশতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। তারা পুকুর থেকে কচুরিপানা, প্লাস্টিক, পলিমাটি ও বছরের পর বছর জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণে কাজ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর ধরে পুকুরটিতে কার্যকর কোনো সংস্কার বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সেখানে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় জলাশয়টি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ, কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় পুকুরটি শুধু নান্দনিকতা হারায়নি, বরং আশপাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই দূষিত পানি উপচে সড়কে চলে আসায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলাকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি পুরো কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মিজানুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ, বাপা কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন,

“ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ির আঙিনা, ছাদ, জলাশয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি জলাশয় সংরক্ষণ কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলার সরকারি জলাশয়গুলো দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত ও ব্যবহারোপযোগী রাখতে জেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জেবুন নাহার শাম্মী বলেন,

“নগুয়া হোয়াইট হাউজ সংলগ্ন সরকারি পুকুরটি দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন থাকায় এটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এটি পরিষ্কারের মাধ্যমে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়তে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।”

তিনি জানান, পৌর এলাকার সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করা হবে। সম্প্রতি খরমপট্টি এলাকার একটি সরকারি পুকুরও একইভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগুয়া এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি দুর্গন্ধ ও ময়লার কারণে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে এটি পরিষ্কার হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছেন।

তারা প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শুধু নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ পুকুর নয়, কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার সব জলাশয় ও জনপরিসরই পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং নাগরিকদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

লাল মাটির মধুপুর থেকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
লাল মাটির মধুপুর থেকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান

কিশোরগঞ্জের নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন পেয়েছেন ৩০তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করা হয়। আগামী ২৫ আগস্টের মধ্যে তাঁকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান কর্মজীবনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগে প্রায় চার বছর রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চিকিৎসাসেবায় তাঁর নেতৃত্বে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তাঁর দায়িত্বকালেই মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। সীমিত জনবল ও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে তিনি কাজ করেন। তাঁর উদ্যোগে একদল তরুণ চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব কার্যক্রম আরও গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়।

মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান ও বিভিন্ন কর্মদক্ষতার সূচকে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আসে তাঁর দায়িত্বকালে। স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষস্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর তালিকায় স্থান অর্জন করে। এ কৃতিত্ব মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তিনবার অর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

টাঙ্গাইলের ‘লাল মাটির উপজেলা’ হিসেবে পরিচিত মধুপুর ভৌগোলিকভাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার। অন্যদিকে মধুপুর থেকে জামালপুর ও ময়মনসিংহের দূরত্বও প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। তিন দিকের জেলা শহর থেকে তুলনামূলক দূরত্বের কারণে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার রোগীদের চিকিৎসার জন্য আসতে হয়। ফলে হাসপাতালটিতে রোগীর চাপও তুলনামূলক বেশি।

এই বাস্তবতায় সীমিত জনবল নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা এবং হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়নে ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

টাঙ্গাইলের মেধাবী এই চিকিৎসক ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তিনি টাঙ্গাইলের সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ভর্তি হন ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে ৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মজীবন শুরু করেন।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন হিসেবে তাঁর পদায়নে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি আসবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

দুই এলএনজি টার্মিনাল সচল, তবু কাটছে না গ্যাস-সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
দুই এলএনজি টার্মিনাল সচল, তবু কাটছে না গ্যাস-সংকট

আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সংকট কাটছে না। নতুন একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর পর গতকাল শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি চালু হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশীয় সামিট গ্রুপের ভাসমান টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ফলে দুটি টার্মিনাল সচল থাকলেও আজ রোববার সকাল থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ছিল শিল্পকারখানা, আবাসিক গ্রাহক ও পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের। কিন্তু দুটি টার্মিনাল একসঙ্গে সচল হওয়ার পরও সরবরাহ বেড়েছে সামান্যই। ফলে দীর্ঘদিনের গ্যাস-সংকট থেকে দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি।

পেট্রোবাংলার ক্রয় বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে ১১টি কার্গো প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আসছে মাত্র পাঁচটি। ফলে আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি এখন বেশ এলোমেলো। কবে নাগাদ এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করে সরকার। টার্মিনাল দুটি নিজেরা এলএনজি আমদানি করে না। আমদানি করা এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করাই এসব টার্মিনালের মূল কাজ।

এর আগে টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল। পরে ত্রুটি মেরামত করে টার্মিনাল চালু করা হয়। বর্তমানে টার্মিনাল সচল থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না পাওয়ায় সরবরাহে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল যখন এলএনজি-সংকটে ভুগছিল, তখন সামিটের টার্মিনাল তার সক্ষমতার চেয়েও বেশি—সর্বোচ্চ প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত—গ্যাস সরবরাহ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে সামিটের টার্মিনালও কার্গো-সংকটে পড়েছে। ফলে সরকারি নির্দেশনায় ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, রোববার সকাল ১০টায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। টার্মিনালটির সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

অন্যদিকে, সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমিয়ে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট করা হয়েছে। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সামিটের টার্মিনাল সচল থাকলেও সাগরে বর্তমানে কোনো এলএনজিবাহী জাহাজ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই সরবরাহ কমাতে হয়েছে। নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে এলএনজি কেনার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র বা তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে এলএনজি না কিনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ডিপিএমের আওতায় অনুমোদিত কোনো এলএনজিবাহী জাহাজও এখন পর্যন্ত দেশে পৌঁছায়নি।

এ অবস্থায় সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনার চেষ্টা করছে। তবে সেখান থেকেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। ফলে দুটি ভাসমান টার্মিনাল সচল থাকার পরও জাতীয় গ্রিডে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আবাসিক ও পরিবহন খাতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকটের মধ্যে নতুন করে এলএনজি-সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নজরদারি বাড়াচ্ছে মাউশি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নজরদারি বাড়াচ্ছে মাউশি

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষক-কর্মচারীদের পোস্ট, মন্তব্য, ছবি, ভিডিওসহ বিভিন্ন কনটেন্ট নতুন পদ্ধতিতে মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করেছে মাউশি।

গত ১৭ আগস্ট মাউশি অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা ও সরকারি আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা আবশ্যক। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ জারি করা হয়েছে।

মাউশির চিঠিতে আরও বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করছেন কি না, তা পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, মাউশির আওতাধীন শিক্ষা পরিবারের কোনো সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি নির্দেশিকা পরিপন্থী, আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর, অসত্য, নেতিবাচক কিংবা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কোনো স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ছবি, ভিডিও, পোস্ট বা অন্য কোনো কনটেন্ট প্রকাশ বা প্রচার করলে তা নজরে এলে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

এরপর বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটি’র আহ্বায়ককে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

মাউশির চিঠিতে এ ধরনের কনটেন্টের তথ্য কমিটির আহ্বায়কের ই-মেইলে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

মাউশির এ উদ্যোগের মাধ্যমে অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষক-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকা ও আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কনটেন্টের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।