নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুর পরিষ্কারে পৌরসভা ও বাপা
পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা ও পলিতে ভরে ভাগাড়ে পরিণত হওয়া পুকুরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পুনরায় ব্যবহারোপযোগী করার লক্ষ্যে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
‘সুস্থ, সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পৌরসভার অর্ধশতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। তারা পুকুর থেকে কচুরিপানা, প্লাস্টিক, পলিমাটি ও বছরের পর বছর জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণে কাজ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর ধরে পুকুরটিতে কার্যকর কোনো সংস্কার বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সেখানে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় জলাশয়টি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ, কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় পুকুরটি শুধু নান্দনিকতা হারায়নি, বরং আশপাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই দূষিত পানি উপচে সড়কে চলে আসায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলাকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি পুরো কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মিজানুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ, বাপা কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন,
“ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ির আঙিনা, ছাদ, জলাশয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, সরকারি জলাশয় সংরক্ষণ কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলার সরকারি জলাশয়গুলো দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত ও ব্যবহারোপযোগী রাখতে জেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জেবুন নাহার শাম্মী বলেন,
“নগুয়া হোয়াইট হাউজ সংলগ্ন সরকারি পুকুরটি দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন থাকায় এটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এটি পরিষ্কারের মাধ্যমে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়তে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।”
তিনি জানান, পৌর এলাকার সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করা হবে। সম্প্রতি খরমপট্টি এলাকার একটি সরকারি পুকুরও একইভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগুয়া এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি দুর্গন্ধ ও ময়লার কারণে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে এটি পরিষ্কার হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছেন।
তারা প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শুধু নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ পুকুর নয়, কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার সব জলাশয় ও জনপরিসরই পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং নাগরিকদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর পরিবেশ নিশ্চিত হবে।







