রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুর পরিষ্কারে পৌরসভা ও বাপা

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুর পরিষ্কারে পৌরসভা ও বাপা

পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্ন নগর গঠন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ সংলগ্ন সরকারি পুকুরে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা ও পলিতে ভরে ভাগাড়ে পরিণত হওয়া পুকুরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পুনরায় ব্যবহারোপযোগী করার লক্ষ্যে শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১১টায় এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

‘সুস্থ, সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে পরিচালিত এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল জলাশয় থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে পৌরসভার অর্ধশতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। তারা পুকুর থেকে কচুরিপানা, প্লাস্টিক, পলিমাটি ও বছরের পর বছর জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণে কাজ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৭ বছর ধরে পুকুরটিতে কার্যকর কোনো সংস্কার বা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। এ সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সেখানে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় জলাশয়টি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ, কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় পুকুরটি শুধু নান্দনিকতা হারায়নি, বরং আশপাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই দূষিত পানি উপচে সড়কে চলে আসায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলাকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। তিনি পুরো কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শফিকুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মিজানুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ, বাপা কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন,

“ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ির আঙিনা, ছাদ, জলাশয় ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি জলাশয় সংরক্ষণ কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়; এটি জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জেলার সরকারি জলাশয়গুলো দখলমুক্ত, দূষণমুক্ত ও ব্যবহারোপযোগী রাখতে জেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) জেবুন নাহার শাম্মী বলেন,

“নগুয়া হোয়াইট হাউজ সংলগ্ন সরকারি পুকুরটি দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন থাকায় এটি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এটি পরিষ্কারের মাধ্যমে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা হবে, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়তে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।”

তিনি জানান, পৌর এলাকার সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয়গুলো পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সংস্কার করা হবে। সম্প্রতি খরমপট্টি এলাকার একটি সরকারি পুকুরও একইভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগুয়া এলাকার বাসিন্দারা। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি দুর্গন্ধ ও ময়লার কারণে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে এটি পরিষ্কার হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি পেয়েছেন।

তারা প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও জলাশয় ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তাদের মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শুধু নগুয়ার ‘হোয়াইট হাউজ’ পুকুর নয়, কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার সব জলাশয় ও জনপরিসরই পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং নাগরিকদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগর পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সুস্বাস্থ্য কামনায় মহিনন্দে দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সুস্বাস্থ্য কামনায় মহিনন্দে দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) বাদ আসর কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের মহিনন্দ ভাস্করখিলা মিচবাহুল উলুম মাদ্রাসায় এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মহিনন্দ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফায়জুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আশরাফ আলী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র মিলাদ শরিফ পাঠ করা হয়। পরে জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত রোগমুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতের আগে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফায়জুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া প্রার্থনা করেন।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহিনন্দ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) মাহতাবুদ্দিন, অ্যাডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা, মহিনন্দ ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি নাসির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, মাইজখাপন ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহিনুর রহমান, যুবদলের সদস্যসচিব মো. টিটু মিয়া, মহিনন্দ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ এবং মহিনন্দ ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ।

এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ, প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী, ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মাহফিলে অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তার সুস্থতার জন্য দোয়া করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তারা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দ্রুত কর্মজীবনে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

হোসেনপুরে এলজিইডি–পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় বেহাল সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে এলজিইডি–পৌরসভার সমন্বয়হীনতায় বেহাল সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া–ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের হোসেনপুর পৌর এলাকার দ্বীপেশ্বর অংশে প্রায় ৩০ ফুটজুড়ে বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার না হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, যানবাহনের চালক, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সড়কের এই অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চললেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হোসেনপুর–বাসকান্দা–পাকুন্দিয়া সড়কটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বাসকান্দা থেকে ঢাকার মহাখালীগামী ‘জলসিঁড়ি পরিবহন’-এর বাসসহ যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু পৌর এলাকার এ অংশটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির পৌর এলাকার অংশের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পৌরসভার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি সংস্কার করা হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকুন্দিয়ার তারাকান্দি বাজার থেকে সবজি কিনে বাসকান্দায় ফিরছিলেন ব্যবসায়ী আমিন মিয়া। পথে দ্বীপেশ্বর এলাকার বড় গর্তে পড়ে তাঁর বহনকারী অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এতে চালক মোখলেছুর রহমান গাড়ির নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাহাব উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, মফিজ উদ্দিন, মো. সুবল মিয়া ও সৃজন মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বড় গর্তের কারণে ইতোমধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, গর্তটি একদিনে সৃষ্টি হয়নি; এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পৌর প্রকৌশলীকে দ্রুত গর্তটি ভরাট করে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে গর্তটির আকার আরও বড় হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই জনস্বার্থে এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

করিমগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একাধিক বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একাধিক বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একাধিক বাড়িঘর ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেহুন্দা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সুজন ও শহিদুল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার মৃত লাল মাহমুদের ছেলে কামাল হোসেনের প্রায় ছয় থেকে সাত বছর ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ জমির মধ্যে তাদের প্রায় ৪৩ শতাংশ জমি কামাল হোসেন দখলে নিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধ চলমান থাকার মধ্যেই গত শুক্রবার কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ‘মাদক ব্যবসায়ী’ আখ্যা দিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সেখানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাও ভেঙে ফেলে।

তাদের আরও অভিযোগ, একই সময়ে হামলাকারীরা দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাজু এবং ইউপি সদস্য মনজিলা বেগমের বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় মৃত লাল মাহমুদের ছেলে কামাল হোসেন ছাড়াও মৃত ফুল মাহমুদের ছেলে মন্নান ও ফাইজুল, জুবায়ের হোসেনের ছেলে ডালিম, মৃত মনসুর আলীর ছেলে বাবলু, মুখলেস ও বিপুল, বাবলুর ছেলে টিপু, মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে কামরুল ইসলাম, মুসলিমের ছেলে মনজিল এবং হেলাল উদ্দিনের ছেলে শান্ত ও প্রান্তসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত কামাল হোসেন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। যাদের বাড়িতে ভাঙচুর হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।”

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট থানার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।