বিজয়ের মুখে অন্ধকার ছায়া: বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের শেষ মুহূর্তে, যখন পুরো দেশের মানুষ চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল, ঠিক তখনই দেশীয় নরঘাতক রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ চালায়। স্বাধীনতা অর্জনের প্রাক্কালে বাঙালিকে মেধাশূন্য করার এ নৃশংস নিধনযজ্ঞ সারা জাতি এবং বিশ্বকে হতবিহ্বল করে দিয়েছিল।
দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দুই দিন আগে, রাতের অন্ধকারে ঢাকায় প্রায় দেড়শ বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার কৃতী মানুষকে চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটখোলায় তাদের বিক্ষিপ্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। অনেকের শরীর বুলেটবিদ্ধ বা অমানবিক নির্যাতনের কারণে ক্ষতবিক্ষত ছিল। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত সংকলন অনুযায়ী, নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১,০৭০।
এই বুদ্ধিজীবীরা মুক্তিসংগ্রামের সময় দেশের মানুষের স্বাধীনতার প্রতি উন্মুখ উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিলেন। তাদের লেখা, মেধা ও চিন্তা জাতিকে সংগ্রামে প্রেরণা জুগিয়েছে। স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মকে বাধাগ্রস্ত করতে চক্রটি এই হত্যাযজ্ঞ চালায়।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস প্রতিবারে ১৪ ডিসেম্বর শোকের আবহে পালিত হয়। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকে এবং কালো পতাকা উড়ানো হয়। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর ও রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন ও বেতার অনুষ্ঠান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরবে।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array