বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: নিবন্ধিতদের মধ্যে ভোটে নেই ৯টি, দুর্বল ছোট দলগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: নিবন্ধিতদের মধ্যে ভোটে নেই ৯টি, দুর্বল ছোট দলগুলো

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না ৯টি দল। অংশগ্রহণকারী ২৯টি দলের মধ্যে অধিকাংশই ১ থেকে সর্বোচ্চ ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তবে ১০০টি আসনের বেশি প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি দল। উল্লেখ্য, যেসব দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক ১৪ দল অংশ নিচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ভোটের আমেজ ফিরলেও এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নিবন্ধিত অনেক ছোট দল অংশ নিতে না পারা এবং প্রার্থী সংকটে ভোগার বিষয়টি প্রমাণ করে যে বড় দলগুলোর বাইরে শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে উঠছে না।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েই বিতর্ক রয়েছে। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ জোট ও বাম দলগুলো অংশ নেয়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও সেটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। একই সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ছাড়া ১৪ দলের অন্যান্য শরিক দলগুলোও নির্বাচনের বাইরে রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ভোটের মাঠে নেই ৯টি দল। দলগুলো হলো—তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন।

নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে ২৩টি দলের প্রার্থী সংখ্যা ১ থেকে ১০টির মধ্যে সীমাবদ্ধ। বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ৩৩১টি, জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি, জাতীয় পার্টি ২২৪টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১০০টির বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে গণঅধিকার পরিষদ। তবে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সমীকরণে এই সংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অধিকাংশ দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সীমিত থাকলেও নির্বাচনের সময় তারা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি বলেন, “কমপক্ষে ৩০টি দলের ১০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দেওয়া উচিত ছিল। বাস্তবে তা দেখা যায় না। ফলে আমাদের দেশে প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে ওঠেনি। দুই-তিনটি দলের বাইরে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল নেই।” তিনি আরও বলেন, দল নিবন্ধনের সময় শর্ত পূরণ করলেও অনেক দল পরবর্তী সময়ে তা নিয়মিতভাবে বজায় রাখে না।

তিনি প্রস্তাব করেন, যদি বছরে অন্তত একবার মাঠপর্যায়ে দলগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা বিধিমালায় যুক্ত করা হয়, তবে দলগুলোকে সংগঠন ও কার্যক্রম সচল রাখতে বাধ্য হতে হবে।

অন্যদিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অনেক দল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করে সুযোগ-সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। আবার কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত পরিচিতি বাড়ানোর একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন।

এবার জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততা ছাড়া কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক দল গঠনের প্রবণতা ভোটারদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পাকিস্তানে হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তানে হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, প্রাণ গেল ১৪ নবজাতকের

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিমস) গায়নোকোলজি ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ডে থাকা অন্তত একজন নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজডন-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভোর ৭টার দিকে পিমসের গায়নোকোলজি ওয়ার্ডের নবজাতক রাখার অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। ইসলামাবাদ প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডটি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত।

পিমসের মুখপাত্র ডা. আনীজা জলিল ডনকে জানান, ওই ওয়ার্ডে ১৫ জন শিশু ছিল। আগুন লাগার পর একজন চিকিৎসক অন্তত একটি শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে শর্ট সার্কিটের কথা বলা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে এয়ার কন্ডিশনারে বিস্ফোরণ বা ত্রুটির বিষয়টিও উঠে এসেছে।

ইসলামাবাদ প্রশাসন জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয়টি ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায়। উদ্ধারকারীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। তবে ১৪ নবজাতককে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইসলামাবাদ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার জেনারেলের নেতৃত্বে এ কমিটি তদন্ত করবে।

এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় নবজাতক ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত কর্মী উপস্থিত ছিলেন না এবং উদ্ধার কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। এসব অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তানে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

‘আমাদের খেলোয়াড়রাই ছিল ভুক্তভোগী’- ফাইনালের সংঘর্ষে মুখ খুললেন স্পেন কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
‘আমাদের খেলোয়াড়রাই ছিল ভুক্তভোগী’- ফাইনালের সংঘর্ষে মুখ খুললেন স্পেন কোচ

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ ব্যবধানে জয়ের পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর দাবি, ওই ঘটনায় স্পেনের খেলোয়াড়রা কোনো দোষ করেননি; বরং তারাই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।

গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের পর দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্তের পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি গত শুক্রবার সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা করে।

ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। নাহুয়েল মোলিনাকে সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা, থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা এবং সহকারী কোচ রবের্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। স্পেনের গাভিকেও এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।

ফিফার শাস্তির প্রতিক্রিয়ায় দে লা ফুয়েন্তে ঘটনাটিকে ‘অসহনীয়’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

স্পেনের কোচ বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়রা ভুক্তভোগী ছিল। ওই সংঘর্ষগুলোর কোনোটিতেই তাদের কোনো দায় ছিল না। শেষ পর্যন্ত তারাই এসব পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তবে ঘটনার পর আর্জেন্টিনার পক্ষ থেকে যে সৌজন্য দেখানো হয়েছে, সেটিও তুলে ধরেছেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি জানান, আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে বার্তা পাঠিয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ও স্পেন দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, ফুটবল কেবল প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়; এটি সমাজে মূল্যবোধ, ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তাও দেয়। তাই মাঠের এমন নেতিবাচক ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ফুটবলের মাধ্যমে তরুণদের শিক্ষা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। সে কারণে খেলাটির স্বার্থেই এমন ঘটনাগুলো সামনে এনে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

ফাইনালের সংঘর্ষের শাস্তির পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (AFA) বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় মোট ৩ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ডলার বৈষম্যবিরোধী কর্মসূচিতে ব্যয়ের নির্দেশ দিয়েছে ফিফা। এছাড়া আর্জেন্টিনার পরবর্তী দুটি ঘরের ম্যাচে দর্শকসংখ্যা ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফিফার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি ফিফার বিধি অনুযায়ী আপিল করতে পারবে।

কটিয়াদীর প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
কটিয়াদীর প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সঙ্গে কটিয়াদী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কটিয়াদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে উপজেলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

সভায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষক ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের মূল ভিত্তি। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয়ে আনন্দময় ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম ও সার্বিক পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুর রহমান সজল সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা, সুধীজন এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত যত শক্তিশালী হবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তত বেশি দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।