বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী। নবজাতকদের মধ্যে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে। নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া চার নবজাতকের কারও ওজনই প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। তাদের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নবজাতকদের মা তিশা খাতুন রাজশাহী নগরের সিপাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী নয়ন ইসলাম।

স্বজনেরা জানান, প্রসববেদনা ওঠায় সোমবার বিকেলে তিশা খাতুনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে তাঁর অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান সেকশন) করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতকদের হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, চার নবজাতকের মধ্যে দুজনের ওজন ১ কেজি করে। অন্য দুজনের ওজন যথাক্রমে ১ কেজি ১০০ গ্রাম ও ১ কেজি ৩০০ গ্রাম।

তিনি বলেন, ‘এটা প্রত্যাশিত ওজন নয়। দেড় থেকে দুই কেজি ওজন হলে কিছুটা স্বাভাবিক ধরা যায়। তারা নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নিয়েছে। শারীরিক অবস্থা ভালোও নয়, খারাপও নয়। এ কারণে তাদের চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

ডা. শেখ শামীম আহমেদ আরও জানান, উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য আজই চার নবজাতককে স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিটে (স্ক্যানু) স্থানান্তর করা হবে।

তিশার স্বামী নয়ন ইসলাম বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে একসঙ্গে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে দিয়েছেন। তারা যেন সুস্থ থাকে, এটাই আমার চাওয়া। বড় হয়ে তারা যেন ভালো মানুষ হয়।’

চার নবজাতকের জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে এবং কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ায় নবজাতকদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন।

কটিয়াদীতে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আদালতের ১৪৪ ধারা জারির পরও একটি জমি দখলের চেষ্টা এবং স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিকপক্ষের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আদালতের আদেশের পরও দখলচেষ্টা অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পূর্ব ভিটাদিয়া গ্রামের রইছ উদ্দীন ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে হাজী আবুল হাসেম, মো. আব্দুল মোতালিব ও মো. আবদুর রাশিদের কাছে মোট ৩৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরবর্তী সময়ে ওই জমি আবুল হাসেম গং বা হাজী আবুল হাসেমের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।

১৯৯১ সালে হাজী আবুল হাসেম ওই জমি থেকে ১৫ শতাংশ তমিজ উদ্দীন, রমিজ উদ্দীন ও মো. হাফিজ উদ্দীনের কাছে এওয়াজের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। পরে ১৯৯২ সালে ওই ১৫ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ জমি রমিজ উদ্দীন ও হাফিজ উদ্দীন মো. রুহুল আমীনের কাছে বিক্রি করেন। বাকি ৫ শতাংশ তমিজ উদ্দীন ও তাঁর ওয়ারিশরা ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রুহুল আমীনের ১০ শতাংশ এবং তমিজ উদ্দীনের ৫ শতাংশের মধ্য থেকে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি ২০২২ সালে হুমায়ুন কবির ক্রয় ও দানপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে নামজারি ও জমা খারিজ করেন। এরপর থেকে তিনি ওই জমিতে গাছপালা রোপণসহ ভোগদখল করে আসছেন। ব্যবসায়িক কারণে হুমায়ুন কবির নরসিংদীতে বসবাস করায় তাঁর বড় ভাই মো. আসাদ মিয়া জমিটি দেখভাল করে আসছেন।

জমির মালিকপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী বাজারসংলগ্ন আচমিতা পূর্ব ভিটাদিয়া গ্রামের মৃত ফালু মিয়ার ছেলে খুর্শিদ উদ্দীন এবং তাঁর তিন ছেলে সিদ্দিক মিয়া, কালাম মিয়া ও মকবুল হোসেন ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন দুপুরে জমিতে কাজ করার সময় হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মো. আসাদ মিয়ার সঙ্গে খুর্শিদ উদ্দীন ও তাঁর তিন ছেলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে প্রতিবেশী মৃত আবদুল আউয়ালের ছেলে জাকির হোসেন, হানিফা এবং মৃত সুলতান উদ্দীনের ছেলে বাবুল মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় জমির মালিক হুমায়ুন কবির ও তাঁর ভাই রতন মিয়াও সেখানে উপস্থিত হন।

মালিকপক্ষের দাবি, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে তাঁদের হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁরা জমি জোর করে দখলে নেবেন এবং কেউ বাধা দিলে প্রয়োজনে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন জমির মালিকপক্ষের সদস্যরা।

পরে গত ২৯ জুন কিশোরগঞ্জ জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দীনের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রসিডিং স্থাপনের আবেদন করেন আসাদ মিয়া। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, এর পরদিন ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শামীম মিয়ার সামনেই দখলচেষ্টাকারীরা বাদীপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মালিকপক্ষের আরও অভিযোগ, আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ সময়ে সময়ে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় দায়িত্বহীনতার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে জমির দখল ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার এএসআই শামীম মিয়া বলেন, “ইতিমধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। দুই পক্ষই নিজেদের জায়গায় অনড় থাকায় জমি নিয়ে বিরোধটি জটিল আকার ধারণ করেছে। প্রতিবেদন দেখে আদালত যে আদেশ দেবেন, পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ কাজ করবে। বিষয়টি নিয়ে আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

এদিকে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আসাদ মিয়া, হুমায়ুন কবিরসহ তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হোক।

‘একটি স্কুল দেখে যেতে চাই’- তাড়াইলের দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
‘একটি স্কুল দেখে যেতে চাই’- তাড়াইলের দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। দুই গ্রামের জনসংখ্যা চার হাজারের বেশি। ফলে প্রায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে কুন্দ্রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কার্তিকখিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুই গ্রামের শিশুদের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে এ ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। কাদামাখা ও দুর্ভোগপূর্ণ সড়ক পেরিয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না; কমে যায় উপস্থিতির হারও।

তাড়াইল উপজেলায় মোট ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তবে এর কোনোটিই ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া গ্রামের শিশুদের জন্য সহজে যাতায়াতযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কোমলমতি শিশুদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে যাতায়াত করা সম্ভব হলেও বর্ষায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। কাদামাখা রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় শিশুদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। ফলে বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতির হারও কমে যায় বলে জানান অভিভাবকেরা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্বের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বাড়ির কাছাকাছি গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাঁদের মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়ে কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

বান্দুলদিয়া গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ হাজী রমজান আলী বলেন, ‘জীবন সায়াহ্নে এসে এখনও স্বপ্ন দেখি, এই গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হবে। আমাদের ছেলেমেয়েদের যেন আর কষ্ট করে দূরের স্কুলে যেতে না হয়। আমরা অনেক বছর ধরে এই দাবি করে আসছি। জীবিত থাকা অবস্থায় যদি এই গ্রামের শিশুদের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখে যেতে পারি, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।’

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নতুন নয়। এ দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর পক্ষে ইদিলপুর গ্রামের আবদুল কদ্দুস ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়।

একই দাবিতে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষে বান্দুলিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডেট কলেজ কর্মকর্তা শাহ আবুল হাশেম (মানিক) ঢাকার শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের অনুলিপি তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আবেদনের পরও সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর থেকে তাঁরা এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সাড়া পাননি।

ইদিলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রযোজক সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নী বলেন, ‘আমাদের দুই গ্রামের শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে দূরের বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে কাদামাখা রাস্তা পেরিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘আমিও স্বীকার করি, ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়া—এই দুটি গ্রামের মাঝামাঝি একটি বিদ্যালয় থাকা দরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে সরকারিভাবে নতুন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। তবে নতুন করে কিন্ডারগার্টেন করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমার যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, আমি করব।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, চার হাজারের বেশি মানুষের বসবাস এবং প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুযোগ না থাকলে অন্তত একটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চান তাঁরা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বছরের পর বছর আবেদন-নিবেদনের পর এবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। এতে ইদিলপুর ও বান্দুলদিয়ার কোমলমতি শিশুদের দীর্ঘদিনের শিক্ষা-ভোগান্তির অবসান হবে। আর হাজী রমজান আলীর মতো প্রবীণদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নও একদিন বাস্তবে রূপ নেবে।

ছাদ-বিমে ফাটল, খসে পড়ছে আস্তর; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
ছাদ-বিমে ফাটল, খসে পড়ছে আস্তর; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান

কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসার জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ একাডেমিক ভবনেই চলছে পাঠদান। প্রায় এক দশক আগে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এতে আতঙ্কে রয়েছেন প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ছাদ ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও খসে পড়েছে আস্তর। ভবনের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় এটি এখন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই ভবনটি পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে বলা হয়, একাডেমিক ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চলছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, ১৬ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলও সন্তোষজনক। কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।

মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী চিত্রামনি ও মোহাম্মদ ওমা বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভবনেই ক্লাস করতে হয়। কখন যে বিম বা ছাদের কোনো অংশ ভেঙে মাথায় পড়ে যায়, সেই ভয় সব সময় কাজ করে। আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হয়।’

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. খাদিজা বলেন, ‘এই শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে আমাদের খুব ভয় হয়। এর আগেও ছাদের আস্তর ভেঙে পড়েছে। সব সময় মনে হয়, কখন কী হয়।’

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল খায়ের সানাউল্লাহ বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় এটি একমাত্র দাখিল মাদ্রাসা। এখানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী, ১৬ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী রয়েছেন। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ। ২০১৬ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার আবেদন করা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নগুয়া আয়েশা আহাদ দাখিল মাদ্রাসায় দ্রুত নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হোক।’

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছু নাহার মাকসুদা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।’

জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে যাব। এরপর যত দ্রুত সম্ভব ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে সেখানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41