কটিয়াদীতে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজ অব্যাহত
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আদালতের ১৪৪ ধারা জারির পরও একটি জমি দখলের চেষ্টা এবং স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিকপক্ষের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। আদালতের আদেশের পরও দখলচেষ্টা অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পূর্ব ভিটাদিয়া গ্রামের রইছ উদ্দীন ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে হাজী আবুল হাসেম, মো. আব্দুল মোতালিব ও মো. আবদুর রাশিদের কাছে মোট ৩৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। পরবর্তী সময়ে ওই জমি আবুল হাসেম গং বা হাজী আবুল হাসেমের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।
১৯৯১ সালে হাজী আবুল হাসেম ওই জমি থেকে ১৫ শতাংশ তমিজ উদ্দীন, রমিজ উদ্দীন ও মো. হাফিজ উদ্দীনের কাছে এওয়াজের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। পরে ১৯৯২ সালে ওই ১৫ শতাংশের মধ্যে ১০ শতাংশ জমি রমিজ উদ্দীন ও হাফিজ উদ্দীন মো. রুহুল আমীনের কাছে বিক্রি করেন। বাকি ৫ শতাংশ তমিজ উদ্দীন ও তাঁর ওয়ারিশরা ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রুহুল আমীনের ১০ শতাংশ এবং তমিজ উদ্দীনের ৫ শতাংশের মধ্য থেকে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি ২০২২ সালে হুমায়ুন কবির ক্রয় ও দানপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে নামজারি ও জমা খারিজ করেন। এরপর থেকে তিনি ওই জমিতে গাছপালা রোপণসহ ভোগদখল করে আসছেন। ব্যবসায়িক কারণে হুমায়ুন কবির নরসিংদীতে বসবাস করায় তাঁর বড় ভাই মো. আসাদ মিয়া জমিটি দেখভাল করে আসছেন।
জমির মালিকপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী বাজারসংলগ্ন আচমিতা পূর্ব ভিটাদিয়া গ্রামের মৃত ফালু মিয়ার ছেলে খুর্শিদ উদ্দীন এবং তাঁর তিন ছেলে সিদ্দিক মিয়া, কালাম মিয়া ও মকবুল হোসেন ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন দুপুরে জমিতে কাজ করার সময় হুমায়ুন কবিরের বড় ভাই মো. আসাদ মিয়ার সঙ্গে খুর্শিদ উদ্দীন ও তাঁর তিন ছেলের বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে প্রতিবেশী মৃত আবদুল আউয়ালের ছেলে জাকির হোসেন, হানিফা এবং মৃত সুলতান উদ্দীনের ছেলে বাবুল মিয়া ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় জমির মালিক হুমায়ুন কবির ও তাঁর ভাই রতন মিয়াও সেখানে উপস্থিত হন।
মালিকপক্ষের দাবি, এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে তাঁদের হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁরা জমি জোর করে দখলে নেবেন এবং কেউ বাধা দিলে প্রয়োজনে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন জমির মালিকপক্ষের সদস্যরা।
পরে গত ২৯ জুন কিশোরগঞ্জ জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দীনের মাধ্যমে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রসিডিং স্থাপনের আবেদন করেন আসাদ মিয়া। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, এর পরদিন ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শামীম মিয়ার সামনেই দখলচেষ্টাকারীরা বাদীপক্ষকে হুমকি-ধমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মালিকপক্ষের আরও অভিযোগ, আদালতের ১৪৪ ধারার আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ সময়ে সময়ে ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় দায়িত্বহীনতার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে জমির দখল ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার এএসআই শামীম মিয়া বলেন, “ইতিমধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিন উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। দুই পক্ষই নিজেদের জায়গায় অনড় থাকায় জমি নিয়ে বিরোধটি জটিল আকার ধারণ করেছে। প্রতিবেদন দেখে আদালত যে আদেশ দেবেন, পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ কাজ করবে। বিষয়টি নিয়ে আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
এদিকে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আসাদ মিয়া, হুমায়ুন কবিরসহ তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হোক।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array