শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএসটিআই পরীক্ষায় মানহীন ১০ পণ্য, বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিএসটিআই পরীক্ষায় মানহীন ১০ পণ্য, বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা, বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

একই সঙ্গে এসব পণ্যের বিপরীতে বিএসটিআইয়ের দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কিনতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

সম্প্রতি নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় অধিকাংশ পণ্যের মান সন্তোষজনক পাওয়া গেলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলার মান নির্ধারিত মানদণ্ডের নিচে পাওয়া যায়।

পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে দুধের চর্বি বা ‘মিল্ক ফ্যাট’ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত পাঁচ ধরনের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

ব্যর্থ হওয়া পণ্যগুলো হলো—কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ-এ)।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাংলাদেশ মানের চেয়ে নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ।

এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট পণ্য হলো—বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘি, অরুন বাঘাবাড়ী ব্র্যান্ডের ঘি, নিউ রাঁধুনী ও সিটি ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন পরামিতি নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআই কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইয়ের হটলাইন ১৬১১৯-এ কল অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানানোর অনুরোধ জানান মহাপরিচালক।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির সাথে থাকছে বোয়েসেলও

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠাতে ২৫ এজেন্সির সাথে থাকছে বোয়েসেলও

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আবারও চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে নতুন নীতিমালার আলোকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নানা অনিয়ম ও জটিলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ার বিদ্যমান আইন, শর্ত ও নীতিমালার সঙ্গে সর্বোচ্চ সমন্বয় রেখে বাংলাদেশের স্বার্থ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়া সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নির্বাচন ও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, মালয়েশিয়া সরকারের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশটিতে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আগের সরকার অনুমোদিত ৪২০টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা নিয়ে পরবর্তীতে নানা প্রশ্ন ও জটিলতা তৈরি হয়। নতুন নীতিমালার আলোকে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ছয় মাস ধরে বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক অনুসরণের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে শ্রমবাজারে বিশেষ সুযোগ দিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেল—এর মাধ্যমেও কর্মী পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, বিদ্যমান বহুপক্ষীয় নিয়মকানুনের পাশাপাশি এককভাবে সরকারি রিক্রুটিং সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তুলনামূলক স্বচ্ছ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে অবৈধ, প্রতারণামূলক ও ক্ষতিকর কার্যক্রম বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক করা এবং বিদেশগামী কর্মীদের হয়রানি প্রতিরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্ক স্থাপনের কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ায় বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হলে তা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, মেডিকেল টেস্ট বা পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

সচ্ছলতার আশায় রাশিয়ায়, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ভৈরবের জাকিরের

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
সচ্ছলতার আশায় রাশিয়ায়, বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ভৈরবের জাকিরের

রাশিয়ায় একটি গ্যাস কোম্পানিতে বিস্ফোরণে নিহত কিশোরগঞ্জের ভৈরবের জাকির হোসেনের (৩৫) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আৎকাপাড়া গ্রামের পরিবেশ। একমাত্র বড় ছেলে ও স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবারটি। জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

নিহত জাকির কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আৎকাপাড়া গ্রামের সেলিম প্রধানের বাড়ির মৃত রতন মিয়ার বড় ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক।

স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় দেড় বছর আগে ধারদেনা করে রাশিয়ায় পাড়ি জমান জাকির। সেখানে আমর এলাকায় অবস্থিত সিনাফেক্স কোম্পানিতে চাকরি নেন তিনি। চাকরি করে প্রতি মাসে দেশে টাকা পাঠাতেন। সেই টাকা দিয়ে ধারদেনা পরিশোধের পাশাপাশি কোনো রকমে সংসারের খরচ চালাচ্ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর জাকিরের পদোন্নতিও হয়েছিল। এতে পরিবারে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। স্বজনরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে। কিন্তু সেই আশা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিন আগে রাশিয়ার আমর এলাকায় সিনাফেক্স কোম্পানিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে জাকিরও নিহত হন।

গতকাল তাঁর গ্রামের বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে পরিবার ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। জাকিরের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী, সন্তান, মা-ভাইসহ স্বজনেরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন।

জাকিরের জেঠা আক্কাস মিয়া বলেন, “জাকির আমার ছোট ভাইয়ের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে সে সবার বড়। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে রাশিয়ায় গিয়েছিল। সেখানে চাকরি করে যে টাকা পাঠাত, তা দিয়ে দেনা পরিশোধ করে কোনো রকমে সংসার চলছিল। রাশিয়ায় বিস্ফোরণে সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এখন আমাদের দাবি, সরকার যেন আমার ভাতিজার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। আমরা যেন নিজের হাতে তার দাফন করতে পারি।”

স্বজনেরা জানান, বিদেশে যাওয়ার পর জাকির নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তাঁর পাঠানো অর্থেই পরিবারের আর্থিক সংকট কিছুটা কমছিল। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি আবারও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এলাকাবাসীও জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে জাকিরের মৃত্যুতে স্বজনেরা বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, “আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়ে তাঁর লাশ কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”

পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জাকিরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। শেষবারের মতো স্বজনেরা তাঁকে দেখতে এবং নিজ হাতে দাফন করতে চান।

চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা

‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চীনের জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ শুক্রবার এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক ফ্যান হংহুই যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পেই হংওয়েই ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে সচিব মো. দাউদ মিয়া ও প্রফেসর ঝেং পেংউ ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। চীনের আধুনিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।”

মন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অবশ্যই শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে হবে।

এ জন্য পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক সুযোগে পরিণত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”

সম্মেলনে জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে শিল্প-শিক্ষা সংযোগ জোরদার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

নতুন এ সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।