শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব ইয়াসের খান চৌধুরীর, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব ইয়াসের খান চৌধুরীর, টাঙ্গাইল-নরসিংদীতে শরীফুল আলম

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টন করেছে সরকার। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ের তদারকি জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই দায়িত্ব বণ্টনে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি দুই জেলার আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টনের কথা জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কিশোরগঞ্জের প্রশাসনিক কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হলো।

কিশোরগঞ্জ জেলার জন্য এ দায়িত্ব বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি সেবার মান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোথাও ধীরগতি, অনিয়ম, দুর্নীতি বা সমন্বয়হীনতা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোকাবিলায় এই তদারকি ব্যবস্থা কাজে আসতে পারে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা।

এ ছাড়া সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকি ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের থাকবে।

সরকারের টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূলের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে এই তদারকি ও সমন্বয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কিশোরগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ইয়াসের খান চৌধুরীর সামনে জেলার সরকারি কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয়ের একটি বিস্তৃত দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম এবং জনসেবার মান পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণেও সমন্বয়মূলক ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে।

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।

দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর নিয়মিত তদারকি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সরকারের নতুন দায়িত্ব বণ্টনে দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জেলা পর্যায়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জেও মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এই দায়িত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর তদারকির আওতায় থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যরা সংশ্লিষ্ট জেলার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব করতে পারবেন না।

অর্থাৎ এই দায়িত্ব মূলত সরকারের সার্বিক কার্যক্রমের তদারকি ও সমন্বয়মূলক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব এখতিয়ার বহাল থাকবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ একটি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন, আবার কেউ একাধিক জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন।

এর অংশ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী পেয়েছেন কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর জেলার দায়িত্ব।

অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের আরেক সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমকে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে একই গেজেটের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের এই সংসদ সদস্যের জন্য এটি নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে অতিরিক্ত জেলা তদারকির দায়িত্ব।

ফলে কিশোরগঞ্জের দুইজন সংসদ সদস্য ও সরকারের দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের আওতায় জেলার বাইরের চারটি জেলার সরকারি কার্যক্রমও যুক্ত হলো—ইয়াসের খান চৌধুরীর দায়িত্বে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর এবং মো. শরীফুল আলমের দায়িত্বে টাঙ্গাইল ও নরসিংদী।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতি নির্মূল বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাসহ এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা নিজ নিজ জেলার কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন জেলার সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও এই দায়িত্ব বণ্টনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

কিশোরগঞ্জের দায়িত্ব পাওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এখন কিশোরগঞ্জে সরকারের এই নতুন তদারকি কাঠামো কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন, প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় এবং উন্নয়ন ও সরকারি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর।

চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সমঝোতা

‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চীনের জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে’ শুক্রবার এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ঝেং পেংউ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক ফ্যান হংহুই যৌথভাবে ‘চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার’ উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পেই হংওয়েই ‘বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার’ উদ্বোধন করেন। একই অনুষ্ঠানে সচিব মো. দাউদ মিয়া ও প্রফেসর ঝেং পেংউ ‘বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। চীনের আধুনিক অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।”

মন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অবশ্যই শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে হবে।

এ জন্য পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষায় বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, “আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক সুযোগে পরিণত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”

সম্মেলনে জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে শিল্প-শিক্ষা সংযোগ জোরদার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে টেকসই অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

নতুন এ সহযোগিতা প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ভাষা শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে মাইক্রোবাস, মিলল ৯ বস্তা গাঁজা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে মাইক্রোবাস, মিলল ৯ বস্তা গাঁজা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে গাঁজাবাহী একটি মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে গেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে পুকুরে পড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটি থেকে ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে গাড়িতে থাকা চালক ও এক পাচারকারী সাঁতরে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মাইক্রোবাস ও উদ্ধার করা গাঁজা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে কসবা থানার একটি দল উপজেলার সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস পুলিশের অভিযানের এলাকায় প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পুলিশ গাড়িটিকে থামার সংকেত দিলে চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ গাড়িটিকে ধাওয়া করে।

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে পালাতে থাকে। একপর্যায়ে খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

পুলিশের ভাষ্য, মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যাওয়ার পর গাড়িতে থাকা গাঁজার প্যাকেটগুলো পানিতে ভেসে ওঠে। এ সময় গাড়িতে থাকা চালক ও এক পাচারকারী সাঁতরে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইক্রোবাসটি জব্দ করে এবং ভেতর থেকে ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করে।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় একটি মাইক্রোবাস ও ৯ বস্তা গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। ৯ বস্তায় মোট কত পরিমাণ গাঁজা রয়েছে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গুজাদিয়ায় দর্গাহ্ কান্দা গোল্ড কাপের ফাইনাল শনিবার, প্রধান অতিথি ড. ওসমান ফারুক

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
গুজাদিয়ায় দর্গাহ্ কান্দা গোল্ড কাপের ফাইনাল শনিবার, প্রধান অতিথি ড. ওসমান ফারুক

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়ায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘দর্গাহ্ কান্দা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার। বিকেল ৪টায় দর্গাহ্ কান্দা মাঠে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মহিউদ্দিন মাখন ফুটবল একাডেমি ও করিমগঞ্জ ফুটবল একাডেমি। বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরেও স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

টুর্নামেন্টের ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়বে দুই শক্তিশালী দল মহিউদ্দিন মাখন ফুটবল একাডেমি ও করিমগঞ্জ ফুটবল একাডেমি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই ম্যাচে কে শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলবে, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ম্যাচটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা মনে করছেন, দুই দলের লড়াইয়ে জমে উঠবে ফাইনাল ম্যাচ। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, দলীয় সমন্বয় ও কৌশলই জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মেজবাহ উদ্দিন টুটুল।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ফাইনাল ম্যাচটি শুধু দর্শকদের বিনোদনই দেবে না, স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে গুজাদিয়া ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। শনিবার বিকেলে দর্গাহ্ কান্দা মাঠে স্থানীয় দর্শকদের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টের জমজমাট সমাপ্তি ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।