শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

নিকলীতে প্রায় এক দশক পর ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিকলীতে প্রায় এক দশক পর ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় প্রায় এক দশক পর অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এ নৌকা বাইচকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা সদরের সুয়াইজনি নদীসংলগ্ন চলিহাতি হাওরে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালের পর নিকলীতে এই প্রথম বড় পরিসরে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজক ও স্থানীয়রা জানান। ভাটি অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত নৌকা বাইচ একসময় এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিনোদন ও আনন্দের উৎস ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর সেই ঐতিহ্য ফিরে আসায় প্রতিযোগিতা দেখতে হাওরপাড়ে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরুল মোমেন মিঠু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুল ইসলাম তালুকদার হেলিম, কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এ এম সাজ্জাদুল হক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরিফসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রতিযোগিতায় তিন পর্বে বিভিন্ন নৌকা অংশ নেয়। প্রতিটি পর্বে প্রতিযোগীদের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। হাওরের পানিতে নৌকার ছন্দময় গতি, মাঝিদের সম্মিলিত বৈঠার টান এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি ফ্রিজ, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে একটি এলসিডি টেলিভিশন এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য নৌকার মাঝিদেরও আয়োজকদের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণ শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল বলেন, নৌকা বাইচ ভাটি অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের লোকজ সংস্কৃতি দীর্ঘদিন অবহেলিত না রেখে প্রতিবছর নৌকা বাইচের আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, নৌকা বাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে ভাটি অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব।

নৌকা বাইচ শেষে উপজেলা সদরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে পুরোনো শহীদ মিনার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নৌকা বাইচের আয়োজনের পাশাপাশি স্থানীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কার্যক্রমও শুরু হলো।

দীর্ঘ বিরতির পর নৌকা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় দর্শনার্থীরা জানান, নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।

বই-ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি

রেজাউল হক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
বই-ভালোবাসায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি

‘শিক্ষা একটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুদের জন্য পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি (GHS)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ পাঠদান কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। এতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা অংশ নেয়।

কার্যক্রমে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, বর্ণমালা ও বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে পাঠদান করা হয়। শুধু পড়াশোনার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সময় কাটানো, তাদের কথা শোনা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতেও কাজ করেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

আয়োজকদের মতে, একটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু একটি বই দেওয়া নয়; বরং তার স্বপ্ন দেখার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করা। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা কিংবা পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো শিশু যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়- এই লক্ষ্যেই GHS-এর এ উদ্যোগ।

গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক মো. আশিকুজ্জামান আশিক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ তার পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। প্রতিটি শিশুরই শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমাদের এই উদ্যোগ হয়তো ছোট পরিসরে শুরু হয়েছে, কিন্তু আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আমরা চাই কিশোরগঞ্জের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়াতে এবং তাদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত করতে। আজ যে শিশুটি এখানে বই হাতে বসেছে, আগামী দিনে সে-ই হয়তো সমাজ ও দেশের জন্য বড় কিছু করবে। আমরা শুধু তাদের পড়াতে চাই না, আমরা তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখাতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটির কাজ কোনো একদিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে আমরা এই পাঠদান কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে চাই।’

GHS-এর সদস্যসচিব আশরাফুল ইসলাম নাদিম বলেন, ‘এই শিশুদের অনেকেরই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা নেই। আমরা চাই তাদের সেই সুযোগটা তৈরি করে দিতে। একটি শিশুকে শুধু বই দেওয়া নয়, নিয়মিত তার পাশে থাকা এবং শেখার পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের সামর্থ্য হয়তো সমান নয়, কিন্তু একটি শিশুর জন্য একটু সময়, একটি বই কিংবা সামান্য সহযোগিতাও তার জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা সমাজের সবাইকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।’

পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এক শিশু আনন্দ প্রকাশ করে বলে, ‘আজকে আমাদের বই নিয়ে পড়ানো হয়েছে। এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। আমরা নিয়মিত পড়তে চাই এবং বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে চাই।’

আরেক শিশু বলে, ‘আগে এভাবে একসঙ্গে বসে পড়ার সুযোগ হতো না। আপু-ভাইয়ারা আমাদের খুব সুন্দর করে পড়িয়েছেন। আমরা আবারও এখানে পড়তে চাই।’

গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি জানিয়েছে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। পর্যায়ক্রমে শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বিকাশেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির প্রত্যাশা, সমাজের সচেতন মানুষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে কিশোরগঞ্জের আরও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

GHS-এর বার্তা—‘শিক্ষা হোক সবার অধিকার, কোনো শিশু থাকুক না শিক্ষার বাইরে।’

আয়োজনে ছিল গ্রিন হিউম্যানিটি সোসাইটি (GHS)। সংগঠনটির স্লোগান—‘সবুজ পৃথিবী, মানবতার জন্য’।

র‌্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি ও এপিবিএন বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
র‌্যাব বিলুপ্ত, এসআরবি ও এপিবিএন বিল পাস

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তদন্ত ক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পৃথক একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিল দুটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয়।

বিল দুটি গত ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল। পরে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী দলের সদস্যদের ভিন্নমতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসআরবি বিলের মাধ্যমে ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ থেকে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিধানগুলো বাদ দিয়ে নতুন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠার বিধান করা হয়েছে। ওই অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই র‌্যাব গঠনের আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

২০০৪ সালে সংশোধিত অধ্যাদেশের আওতায় র‌্যাব গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গুমের অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে র‌্যাব সমালোচনার মুখে পড়ে। এখন সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে এসআরবি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি দ্রুত বিবেচনার জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং পাসের আগে জনমত নেওয়ার দাবি জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন, মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, নুরুল ইসলাম ও মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মোজিবুর রহমান ইকবাল আলোচনায় অংশ নেন।

বিলে পুলিশের অধীনে একটি এসআরবি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মকর্তা, সশস্ত্র সদস্য বা কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে এ ইউনিট গঠন করা হবে।

এসআরবি সদস্যদের পদমর্যাদার কাঠামো, নিয়োগ পদ্ধতি ও চাকরির শর্তাবলি বিধির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এ ইউনিটের নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও নির্ধারিত ইউনিফর্ম থাকবে।

এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নন—এমন একজন কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হবে।

বিল অনুযায়ী, র‌্যাবের জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংক স্থিতি, দায়-দেনা, চুক্তি, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, রেজিস্টার, নথিপত্র এবং অন্যান্য দলিল এসআরবির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নতুন আইনের অধীনে বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০০৫ সালের বিধিমালার আওতায় র‌্যাব-সংক্রান্ত বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম ও আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি পরিচালনা, গ্রেপ্তার এবং সম্পত্তি জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ইউনিটের অধীনে আটক রাখার স্থান, গুদাম ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখারও বিধান রয়েছে।

নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে। ইউনিটের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করা বিএনপির একটি অঙ্গীকার এবং বিলটি পাসে বিলম্ব হলে র‌্যাবকে বিদ্যমান রাখারই সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনমত গ্রহণের জন্য এটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ নিষ্পত্তির কাজ অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি করবে।

তিনি বলেন, আইন পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব বিলুপ্ত হবে এবং পরবর্তী সময়ে এসআরবি নামে নতুন একটি ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে র‌্যাবের কাছে থাকা সম্পদ ও সরঞ্জাম অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, কারণ এগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি।

তিনি বলেন, নতুন সংস্থার কাছে এসব সম্পদ ও সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হলে নতুন করে অপ্রয়োজনীয় ক্রয় করতে হবে না।

এসআরবি বিল পাসের পর জাতীয় সংসদ ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ও পাস করে। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

বিলে পুলিশের অধীনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য অঞ্চলের ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইন সাপেক্ষে এপিবিএন কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি পরিচালনা, সম্পত্তি জব্দ এবং গ্রেপ্তার করতে পারবে।

এ ছাড়া উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া এপিবিএনের কোনো সদস্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্রে কোনো তথ্য বা নথি প্রকাশ করতে বা প্রকাশে সহায়তা করতে পারবেন না—এমন বিধানও রাখা হয়েছে।

বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো এবং জনমত নেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে এপিবিএন বিল পাস করা হয়।

অবসরজীবনে গুরুদয়াল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান

রেজুওয়ানুল হক পূর্ণ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
অবসরজীবনে গুরুদয়াল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান

কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসানের কর্মজীবনের শেষ কর্মদিবস পালিত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাঁর শেষ কর্মদিবস পালনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পর তিনি অবসরজীবনে পদার্পণ করছেন।

অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান ফেনীর কৃতী সন্তান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম ব্যাচের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত থাকার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তিনি একজন অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও আন্তরিক শিক্ষক-প্রশাসক হিসেবে পরিচিত।

অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসানের সহধর্মিণীও একজন শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ এবং ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পারিবারিক জীবনেও অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান একজন সফল ও গর্বিত অভিভাবক। চিকিৎসক সামরিক কর্মকর্তা একমাত্র কন্যা, চিকিৎসক জামাতা এবং প্রকৌশলী পুত্র ও পুত্রবধূকে নিয়ে তাঁর পারিবারিক জীবন।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসানের অবসরজীবনের সুস্বাস্থ্য, সুন্দর ও আনন্দময় জীবন কামনা করেছেন।

অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসানের অবসরজীবন শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সাফল্যে পরিপূর্ণ হোক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর সহকর্মী, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।