শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই ঘণ্টায় ‘সংশোধন’ থেকে ‘বাতিল’, পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দুই ঘণ্টায় ‘সংশোধন’ থেকে ‘বাতিল’, পাসপোর্ট আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি

কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের আবেদন করে বিপাকে পড়েছেন মো. অপু মিয়া। একই দিনে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর মুঠোফোনে প্রথমে ‘সংশোধনের প্রয়োজন’ এবং পরে ‘আবেদন বাতিল’- সংক্রান্ত দুটি এসএমএস আসে। আবেদন বাতিলের কারণ হিসেবে আগের একটি পাসপোর্টের তথ্য গোপনের কথা জানানো হলেও, ওই পাসপোর্টের তথ্যের সঙ্গে আবেদনকারীর নাম, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানার কোনো মিল নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর মো. অপু মিয়া কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য ও আঙুলের ছাপ দেন। কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পর ওই দিন বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ‘ইপাসপোর্টবিডি’ থেকে তাঁর মুঠোফোনে একটি এসএমএস আসে।

এসএমএসে বলা হয়, ‘প্রিয় গ্রাহক, ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের পাসপোর্ট আবেদনটির ক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে পুনরায় কাজ বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।’

সংশোধনের বিষয়টি জানার চেষ্টা করার আগেই প্রায় দুই ঘণ্টা পর, একই দিন বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তাঁর মুঠোফোনে আরেকটি এসএমএস আসে।

দ্বিতীয় এসএমএসে বলা হয়, ‘প্রিয় মো. অপু মিয়া, ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের পাসপোর্ট আবেদনটি কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিস কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে।’

একই দিনে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরস্পরবিরোধী দুটি বার্তা পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়েন মো. অপু মিয়া। আবেদনটি প্রথমে সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানোর কথা জানিয়ে পরে কেন বাতিল করা হলো—তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে আবেদন বাতিলের কারণ জানতে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যান মো. অপু মিয়া। তাঁর দাবি, সেখানে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম তাঁকে জানান, তাঁর নামে আগে এ০৯৫২৩৩২০ নম্বরের একটি পাসপোর্ট রয়েছে।

আগের পাসপোর্টের তথ্য গোপন করে নতুন আবেদন করায় বর্তমান আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়। একই সঙ্গে আগের পাসপোর্টটি হারিয়ে থাকলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করতে বলা হয় বলেও জানান তিনি।

তবে এ০৯৫২৩৩২০ নম্বরের পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন মো. অপু মিয়া। তাঁর ভাষ্য, ওই পাসপোর্টে নাম রয়েছে ‘হৃদয়’। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৫১২৩১৯২৩৬০ এবং জন্মতারিখ ১ অক্টোবর ১৯৯৯ উল্লেখ রয়েছে।

ওই পাসপোর্টে পিতার নাম মো. কবির হোসেন এবং মাতার নাম মোছা. রুমা খাতুন উল্লেখ রয়েছে বলে জানান মো. অপু মিয়া। স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে দেওয়া রয়েছে ফুলবাড়ী, ঝিকরগাছা, কায়েমখোলা বাজার-৭৪২০, যশোর।

মো. অপু মিয়ার দাবি, ওই পাসপোর্টে থাকা নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যের কোনো মিল নেই।

আবেদন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম বলেন, ‘পুনরায় কাজ বা সংশোধনের প্রয়োজন’ সংক্রান্ত এসএমএস যাওয়ার পর আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

বর্তমান আবেদন বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক চালানও বাতিল হবে বলে মো. অপু মিয়াকে জানানো হয়েছে। নতুন করে পাসপোর্টের আবেদন করলে নতুন চালান দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়।

আগের চালানের টাকা ফেরতের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও কিছু অভিযোগের কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও আবেদনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো আবেদনকারীর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর আবেদনে ঐচ্ছিক থাকলেও তা দিতে বলা হচ্ছে। পেশা ‘প্রাইভেট সার্ভিস’ উল্লেখ থাকলে পেশাগত পরিচয়পত্র চাওয়া হচ্ছে। আবার বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে আবেদনকারীর নামের অমিল থাকলে কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নামের বানানে পার্থক্য থাকলেও আবেদন ফেরত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, একটি আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় একই ব্যক্তির নামে আরেকটি আবেদন করার সুযোগ না থাকায় তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন। পরবর্তীতে হয়রানির কারণে কেউ আবেদন বাতিল করতে চাইলে সেখানেও বিভিন্ন জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল করে পরদিন নতুন করে আবেদন নিয়ে আসতে বলা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কোনো আবেদন গ্রহণের পর নির্ধারিত দিনে বায়োমেট্রিক তথ্য ও ছবি দিতে না পারলে আবেদনটি পরবর্তী সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় বলে আবেদনকারীদের জানানো হচ্ছে। তখন আলাদাভাবে আবেদন বাতিলের জন্য আবেদন না করলেও আগের আবেদন আর কার্যকর থাকে না এবং পরদিন নতুন করে আবেদন করতে হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এতে একদিকে আবেদনকারীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও দূরবর্তী এলাকার মানুষকে বারবার পাসপোর্ট অফিসে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

সরকারি ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমে পেশা, বৈবাহিক অবস্থা ও আবেদনকারীর বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত রয়েছে। তবে এসব তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোন কোন কাগজপত্র বাধ্যতামূলক এবং কোন পরিস্থিতিতে আবেদন ফেরত বা বাতিল করা হবে—এ বিষয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা ও আবেদন যাচাইয়ের নিয়ম যদি আগে থেকেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে একই আবেদন বারবার ফেরত দেওয়া হচ্ছে কেন? কোনো ত্রুটি থাকলে তা একবারে জানিয়ে সংশোধনের সুযোগ না দিয়ে কেন আবেদনকারীদের পুনরায় আবেদন করতে হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

পাশাপাশি প্রতিদিন ফেরত যাওয়া আবেদনের প্রকৃত সংখ্যা, কী কারণে আবেদনগুলো ফেরত দেওয়া হচ্ছে এবং নির্ধারিত দিনে বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে আবেদন বাতিলের বিষয়ে প্রচলিত নিয়ম কী—এসব বিষয় যাচাই করে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মো. অপু মিয়ার দাবি, তাঁর ওআইডি১০৩৮১৩৪৬২৬ নম্বরের আবেদনটি কেন বাতিল করা হলো, অন্য একটি পাসপোর্টের তথ্য কীভাবে তাঁর আবেদনের সঙ্গে যুক্ত হলো এবং প্রথমে সংশোধনের বার্তা পাঠানোর মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে আবেদন বাতিলের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ৭, জামালপুরে শোকের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ৭, জামালপুরে শোকের ছায়া

ময়মনসিংহে বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় জামালপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত সাতজনেরই বাড়ি জেলার সদর উপজেলার রানাগাছা ও শরীফপুর ইউনিয়নে। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের চারজনসহ রয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী।

নিহতরা হলেন সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন লেবু, তাঁর মা রাশিদা বেগম, মেয়ে মর্জিনা ও মর্জিনার ছেলে শিশু মিনান। এ ছাড়া বীর গোবিন্দবাড়ী গ্রামের সুজন আলী এবং শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামের আক্রাম আলী ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগম নিহত হয়েছেন।

স্বজনেরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল হোসেন লেবু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও এক ছেলেকে নিয়ে গাজীপুরের হুতাপাড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন। মা রাশিদা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনানকে গাজীপুরের বাসায় নিয়ে যেতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। পরে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। নান্দিনা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন।

একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুতে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম চলছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

নিহত লেবুর ছোট ভাই মোবারক হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে মরদেহগুলো রাতে জামালপুরে নেওয়া হবে। আগামীকাল সকাল ১০টায় নিজ নিজ বাড়িতে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

স্বজনদের দাবি, গত ২০ মাসে রাজীব পরিবহনের বাসের কারণে নয়টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

বিন্নাটীতে কাবাডির জমজমাট আসর, বুড়িরচরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
বিন্নাটীতে কাবাডির জমজমাট আসর, বুড়িরচরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠমুখী করার প্রত্যয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিন্নাটী আব্দুল মজিদ মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় বুড়িরচর একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিন্নাটী একাদশ।

খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে বিপুলসংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটে। দুই দলের খেলোয়াড়দের কৌশল, ক্ষিপ্রতা, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিপক্ষকে ছোঁয়ার প্রচেষ্টায় পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। প্রতিটি আক্রমণ ও প্রতিরোধের মুহূর্তে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল। বক্তব্যে তিনি পড়াশোনা ও খেলাধুলার সমন্বয়ের মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত বিন্নাটী ও মাদকমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “পড়াশোনা ও খেলাধুলার মধ্য দিয়েই সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে হবে।” মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। মাদক নির্মূলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বিন্নাটী একাদশের জন্য পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় একটি খাসি। রানার্সআপ বুড়িরচর একাদশ পায় সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি মোবাইল ফোন। খেলা শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ী ও পরাজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আয়োজকদের এ উদ্যোগ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা। হাডুডু নামেও পরিচিত এ খেলাটি একসময় গ্রামীণ মানুষের বিনোদন, শারীরিক সক্ষমতা প্রদর্শন ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম ছিল। দুই দলের সাতজন করে খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে আয়তাকার মাঠে অনুষ্ঠিত এ খেলায় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ছুঁয়ে নিজের কোর্টে ফিরে আসতে প্রয়োজন হয় দম ধরে রাখার ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা, কৌশল ও সাহসিকতার।

নগরায়ণ, খেলার মাঠের সংকট এবং আধুনিক বিনোদনের বিস্তারের কারণে অনেক এলাকায় ঐতিহ্যবাহী এ খেলাটির চর্চা আগের তুলনায় কমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিন্নাটীতে কাবাডি প্রতিযোগিতার আয়োজন গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণ সঞ্চারের পাশাপাশি তরুণদের মাঠমুখী করতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।

আয়োজনটির স্লোগান ছিল- “মাদক ছেড়ে মাঠে চল, সুন্দর জীবন গড়ে তোল।” স্লোগানটির মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনচর্চায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার বার্তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লা। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন উজ্জ্বল।

এ ছাড়া সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিন্নাটী ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক শেখ সবুর খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলী হোসেন গন্ধীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিপুল লোকসমাগম, দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ঐতিহ্যবাহী কাবাডির চর্চা বাড়বে, তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলায় আগ্রহী হবে এবং মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা আরও জোরদার হবে।

মিঠামইনে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
মিঠামইনে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে মাছ ধরা ও রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্যের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিনের বিরোধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আলোচনা শুরুর আগেই দুই পক্ষের লোকজন দা, বল্লম ও টেটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের ইমামনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমামনগর গ্রামের হাওরে মাছ ধরা এবং রিং জাল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি সদস্য হান্নান মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল লতিফের স্বজন ও অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাও ছিল।

দীর্ঘদিনের এ বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সালিশে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দা, বল্লম ও টেটা নিয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।