“একজন দূরদর্শী পৌর প্রশাসক, জনগণের সত্যিকারের সেবক”— মোহসী মাসনাদ–এর ৯ মাসের কর্মযজ্ঞকে এভাবেই মূল্যায়ন করছেন স্থানীয়রা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগর উন্নয়ন, ভূমি সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকায় পৌরসভা হয়ে উঠছে আরও সুন্দর, সুসংগঠিত ও বাসযোগ্য।
পৌরসভার উন্নয়নে মোহসী মাসনাদের অবদানকে অসামান্য বলছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁর নেতৃত্বে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প দৃশ্যমান অগ্রগতি পেয়েছে। নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর দক্ষতায় হোসেনপুর পৌরসভা এখন দৃষ্টিনন্দন ও জীবনযাপনের উপযোগী হয়ে উঠছে।
একজন পৌরবাসী এ কে এম শফিকুল হক শফিক বলেন, “আগে পৌরসভায় কাজ করাতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হতো। এখন পৌর প্রশাসক নিজে শুনেন, দ্রুত সমাধান দেন। তিনি সত্যিকারের জনবান্ধব প্রশাসক।”
হোসেনপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে সরকার, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন মোহসী মাসনাদ। ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করায় পৌর শহর অনেকটাই যানজটমুক্ত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে।
গত শীতে তীব্র শীত থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে রক্ষা করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেন তিনি। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই প্রশাসক।
পৌরসভায় নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে প্রশাসন, জনগণ ও গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন মোহসী মাসনাদ। অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাসেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি সংযোজন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রতিটি হোল্ডিংধারীর মধ্যে ডাস্টবিন বিতরণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য এনেছেন তিনি। নিয়মিত ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার করায় নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে।
এর ফলে দুর্গন্ধ, রোগবালাই ও পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন পৌরবাসী। সরকার, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই উন্নয়ন শহরের জীবনযাত্রার মান অনেক বাড়িয়েছে।
মোহসী মাসনাদের উদ্যোগে পৌরসভায় নিয়মিত ফগিং ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পৌর প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা দিয়েছেন তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও তিনি হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করায় ভূমি অফিসে এসেছে স্বস্তি। তাঁর সহজলভ্যতা ও অহংকারবর্জিত আচরণে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা বলেন, “তিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেন। যে কোনো সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ান। এমন প্রশাসক পেয়ে আমরা গর্বিত।”