চরআলগীতে মাদক–জুয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক কারবারি, জুয়া, গরু চুরি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় চরফরাদী ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামবাসীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী–পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী এনামুল, রমিজ, কাশেম, ইপেল, মোস্তাকিম ও রিপনসহ কয়েকজন এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও তারা ছিনতাই, ডাকাতি, ইভটিজিং, মোটরসাইকেল–গরু চুরি ও জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের বিরোধিতা করায় সাধারণ মানুষ হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, এসব অপকর্মের প্রতিবাদে গত ৬ নভেম্বর পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে এলাকাবাসী একটি সভার আয়োজন করলে এনামুল, রমিজ, কাশেম, ইপেল, মোস্তাকিম ও রিপনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে খুরশিদ উদ্দীনের ছেলে স্বপন মিয়াসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। ওইদিন রাতেই স্বপনের ভাই সুজন বাদী হয়ে ৮ জনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় অভিযোগ করেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, হামলার ঘটনার পর উল্টো সন্ত্রাসী এনামুলের ভাই রুবেল বাদী হয়ে এলাকার ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে সেটিকে থানায় এফআইআর করা হয়, কিন্তু সুজনের অভিযোগটি এফআইআর করা হয়নি। বিক্ষোভকারীরা মিথ্যা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় মধ্যপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি মজনু মিয়া, পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি রহিম উদ্দীন, ইমাম আলামিন মুন্সি, সাবেক শিক্ষক নুরুল ইসলাম, সমাজসেবক জুয়েল রানা, কৃষক আবুল হোসেন, সবুজ মিয়া ও শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন প্রমুখ।
পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোবারক হোসেন বলেন, “চরআলগী গ্রামের সচেতন জনগণ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে যে মানববন্ধন করেছে, আমরা তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। মাদক, জুয়া ও গরু চুরি প্রতিরোধে পুলিশ আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং জনগণকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।”




