সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ

আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) কিশোরগঞ্জ-০১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর)  বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম-এর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তৃণমূল বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেন।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন জননেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল রোগে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি। এমতাবস্থায়, দল-মত নির্বিশেষে দেশ যখন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় ও সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল করছে, হঠাৎ দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে  আরও ৩৬ আসনে মনোনয়ন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এতে অধিকাংশ আসনে নেতাকর্মীদের মধ্যে খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়, এতে করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। মাজহারুল ইসলাম একজন কর্মীবিমুখ নেতা। তিনি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বিএনপির জেলা সভাপতি শরিফুল আলমের মদদপুষ্ট হিসেবে সমালোচিত। অনেকের মতে, অনৈক্যের সূচনাকারী মাজহারুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ঐক্যের ভং  দেখায়। তারপরও কোন যোগ্যতায়(?) তিনি মনোনয়ন পান এটি তৃণমূলের কাছে বড় প্রশ্ন।

তৃণমূলের প্রাণপ্রিয় নেতা, গত ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, রাজপথের নেতা, নির্বাচনী এলাকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল (ভিপি সোহেল), আজ শনিবার কিশোরগঞ্জে আগমনের পর নেতাকর্মীদের  জোরাজুরিতে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। ওইখানে কিশোরগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। তারা কেন্দ্রের  ঘোষিত মনোনয়ন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে পরিবর্তনের জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং পরবর্তীতে আরও জোরালো আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সিনি. সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন মাসুদ সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা যুববদলের সিনি. সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহীন, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম গোলাপ, যুগ্ন  সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমীন উজ্জ্বল। ইউনিয়ন সভাপতিদের মধ্যে ছিলেন রশিদাবাদের সিরাজুল ইসলাম, মহিনন্দের খোকন, যশোদলের জালালুদ্দীন, মারিয়ার আবুল কাশেম, বিন্নাটীর ইব্রাহীম মোল্লা, চৌদ্দশতর হাজী নজরুল ইসলাম, কর্শাকড়িয়াল আঃ সাত্তার, দানাপাটুলী রাসেল আহমেদ। সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মারিয়ার রফিকুল ইসলাম, লতিবাবাদের মুকুল, মাইজখাপনের শাহীন, বৌলাইয়ের সহ-সাধারণ সম্পাদক আঃ করীম। এছাড়াও কয়েক শতাধিক তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকলে সামনে কর্মীদের নিয়ে আর জোড়াল আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত বলে জানান দেন।

হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
হোসেনপুর পৌর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ

নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (২ মার্চ) দুপুরে হোসেনপুর পৌর বাজারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহসীন মাসনাদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে পৌর বাজারের কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে মূল্যতালিকা যাচাই করা হয়। পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কের ওপর স্থাপিত অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়।

দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে যানজট এড়াতে চারটি প্রবেশমুখ দিয়ে শহরের ভেতরে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর সদস্যরা। তাদের সহযোগিতায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে বলে জানায় প্রশাসন।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসীন মাসনাদ বলেন, “সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো ও বাজারব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ফুটপাত দখল ও যানজট নিরসনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। বিএনসিসি সদস্যরা প্রশংসনীয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।”

পৌর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখার দাবি জানিয়েছেন।

হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বিএনপি নেতার পিতা-মাতার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিকের পিতা ও মাতার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) হোসেনপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত হোসেনপুর মডেল মসজিদে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পারিবারিক ও দলীয় উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে মরহুম পিতা ও মরহুমা মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে হোসেনপুর উপজেলার উন্নয়ন, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। এ সময় এ.কে.এম. শফিকুল হক শফিক তাঁর পিতা-মাতার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
বৈধ কাগজপত্র থাকলেও নদীর মধ্যে স্থাপনা নয়: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, মালিকরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারলেও নদীর মধ্যে কোনো স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না। গত রোববার(১ মার্চ) তিনি এমন কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসুন্দা নদীতে কেউ কেউ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, পৌরসভা কীভাবে এসব স্থাপনার প্ল্যান পাস করল? প্রয়োজনে জমির মালিকদের উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করা হবে; তবে নদীর মধ্যে স্থাপনা করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

কিশোরগঞ্জের নানামুখী উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে থাকা কিশোরগঞ্জ টেক্সটাইল মিলস ও নিটোল মোটরসের কাছে বিক্রি করা কালিয়াচাপড়া চিনিকল পরিদর্শন করবেন। এসব প্রতিষ্ঠান চালু করা সম্ভব না হলেও সেখানে বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসুন্দা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হোসেনপুরের কাউনা বাঁধ খুলে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন, সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
এছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ অভিজিৎ শর্মা, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ সিদ্দিকুল্লাহ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, কিশোরগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন দিলু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলার আমীর মোঃ রমজান আলী, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এ কে নাসিম , হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ মবিন মিয়া, কিশোরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক , কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া সহ অনেকে।