হোসেনপুরে জমি বিরোধে হামলা: নারীসহ আহত ৪, দোকান ভাঙচুর-লুটপাট
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দোকানপাট ভাঙচুর ও লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফজলুল করিম হোসেনপুর থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাধখলা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মো. ফজলুল করিম (৬৫) জানান, তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে পুকুরের মাটি ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে প্রতিবেশী কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিজেদের দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস হলেও বিবাদীরা তা মানেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফজলুল করিমের জমিতে অবস্থান নেয়। এতে বাধা দিলে তারা গালিগালাজ করে এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে মারধর করে আহত করে।
এ সময় ফজলুল করিমের স্ত্রী মোছা. আঙ্গুরা খাতুন (৫২) এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের মেয়ে মোছা. লাকী আক্তার (৩২) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা নির্মাণাধীন দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং ভাড়াটিয়া দোকানদারের মালামাল নষ্ট করে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি করে। এছাড়া বিভিন্ন মালামাল লুটপাটসহ আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার জিনিসপত্র নিয়ে যায়। দোকানের সামনে থাকা প্রায় ৪২ হাজার টাকার কাঠও তারা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া একটি দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিছানা, আলমারি, আসবাবপত্রসহ আনুমানিক ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয়। একই সঙ্গে নগদ ৮ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগে উল্লেখিত জমির বিবরণ অনুযায়ী, মৌজা—মাধখলা; খতিয়ান নম্বর ৬১৮; এসএ দাগ ১৬৭৭ এবং আরএস দাগ ৩৪৪৪, ৩৪৪৫ ও ৩৪৪৬; জমির শ্রেণি কান্দা।
ভুক্তভোগী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।










