বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের চাঞ্চল্যকর আনোয়ার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. মহরম আলী (৬০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কটিয়াদী থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বাতাঘাট ইউনিয়নের গুরুপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৈত্রিক বসতভিটা ও জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন (৩০) উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মহরম আলী সম্পর্কে তার আপন চাচা।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন আনোয়ার হোসেন নিজ বসতঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মহরম আলী ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা আনোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উত্তর পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফেলে রাখা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে না পারে, সে জন্য হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয় এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এতে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কটিয়াদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা শিরিনা খাতুন বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়। মামলা নম্বর-১৮; তারিখ: ১৬ মে ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৮/৩০২/৫০৬/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে চলে যায়। পরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় কটিয়াদী থানার এসআই মো. রতন মিয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।

অভিযানের একপর্যায়ে গত ২৩ মে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার গুরুপাড়া গ্রামে বাতাঘাট ফাঁড়ি পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মহরম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহরম আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

এদিকে বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সকল ধরনের অপরাধ দমনে সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরবিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরবিষয়ক পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে কৃষি ও গ্রামীণ রূপান্তরের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কংগ্রেসে কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং অংশীজনদের সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, কৃষির টেকসই উন্নয়ন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তর করতে হলে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন এবং বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাজিতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম।

এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তন্ময় বিশ্বাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসির উদ্দিন মুন্সী, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

আলোচনা সভায় কৃষির আধুনিকায়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রকল্পের সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, কৃষি উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও পুষ্টি সংবেদনশীল কৃষি ব্যবস্থার বিকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

কংগ্রেস শেষে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

কক্সবাজারের মাদক পাচারচক্রের চার সদস্য কিশোরগঞ্জে গ্রেপ্তার, উদ্ধার বিপুল ইয়াবা

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজারের মাদক পাচারচক্রের চার সদস্য কিশোরগঞ্জে গ্রেপ্তার, উদ্ধার বিপুল ইয়াবা

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৭ হাজার ৬৯০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার বিন্নাটি বাজার এলাকায় ঈশাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৬০১ নম্বরের ‘সাগরিকা’ পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযানে ওই বাসে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে বাসের বিভিন্ন আসনে বসা চার যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- দেলুয়ারা বেগম (৩৪), আব্দুল গফুর (৩৯), রশিদা বেগম (৩৮) ও আব্দুল আজিজ (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার দক্ষিণ সিপাহীর পাড়া (দক্ষিণ নলবিলা) এলাকায়।

অভিযানকালে দেলুয়ারা বেগমের কাছ থেকে ৪ হাজার পিস, আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ১ হাজার পিস, রশিদা বেগমের কাছ থেকে ১ হাজার পিস এবং আব্দুল আজিজের কাছ থেকে ১ হাজার ৬৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবা বিশেষ কৌশলে শরীর ও পোশাকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে অভিযানকারী দল।

উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ৭৯৬ গ্রাম। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে চারটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মো. ওবায়দুল্লাহ খান এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১০(ক), ১০(খ) এবং ৪১ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পরের আত্মীয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহন ও সংরক্ষণ করছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত আলামত থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি আলামতও যথাযথ প্রক্রিয়ায় সিলগালা করে বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও মাদক চক্রের সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে মাদকের উৎস, সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাজিতপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে কিশোরীদের হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে ব্র্যাকের উদ্যোগে কিশোরীদের হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

কিশোরীদের আত্মকর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ক এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি এবং ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে প্রকল্পভুক্ত ‘স্বপ্নসারথী’ দলের ১৪ জন কিশোরী অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বাজিতপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তিনি কিশোরীদের হাঁস-মুরগি পালনকে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা কার্যক্রম হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।

প্রশিক্ষণে হাঁস-মুরগির রোগব্যাধি প্রতিরোধ, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, খামার পরিচালনা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজারজাতকরণ কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা আগ্রহের সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে নিজেদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও বাস্তবমুখী পরামর্শ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির অফিসার মো. জুয়েল মিয়া এবং কমিউনিটি অর্গানাইজার কহিনুর আক্তার।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত থেকে কিশোরীদের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মিজানুর রহমান এবং শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. আব্দুল মান্নান।

বক্তারা বলেন, কিশোরীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা পরিবার ও সমাজে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার মাধ্যমে তারা বাল্যবিবাহ, শিক্ষাঝরে পড়া এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় অধিক সক্ষম হয়ে উঠবে।

তারা আরও বলেন, দক্ষতা উন্নয়নমূলক এ ধরনের প্রশিক্ষণ কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে, যা তাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের উদ্যোগে হাঁস-মুরগি পালন শুরু করতে আগ্রহী। ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলে তারা উপকৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।