দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৮৭
দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৮৭ শিশু।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক হাজার ২২১ শিশুর। এছাড়া পরীক্ষার মাধ্যমে ৬৬ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে একদিনেই হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৮৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকায় চার শিশু, চট্টগ্রামে এক শিশু, ময়মনসিংহে এক শিশু এবং খুলনা বিভাগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৯ জনে। একই সময়ে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬২০ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে মোট ৭৯ হাজার ১২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ হাজার ২৬৩ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ৬০ হাজার ৮৪ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে শিশুদের সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সব শিশুর পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।













