সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
৯ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত

দেশের অন্তত ৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ শনিবার (২০ জুন) অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

শনিবার ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য প্রকাশিত বিশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। তবে এ সময়ে আবহাওয়া প্রায় শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ঢাকায় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। শুক্রবার রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর শনিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়নি বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য: ট্রাইব্যুনালে বডিগার্ডের বিস্তৃত জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য: ট্রাইব্যুনালে বডিগার্ডের বিস্তৃত জবানবন্দি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত কথিত গুম ও হত্যাকাণ্ডসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর সাবেক বডিগার্ড ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। জবানবন্দিতে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

রোববার (২১ জুন) বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলার পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর সেনানিবাসে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত। এ সময় অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস দাবি করেন, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে মেজর জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ ও সাইফসহ মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। তবে কাকে গাড়িতে তোলা হবে, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িতে অবস্থানকালে জিয়াউল আহসান বিভিন্ন স্থানে ফোন করে ‘টার্গেট’ কখন আসবেন, সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আসবেন না। এরপর তিনি জিয়াউল আহসানকে বাসায় পৌঁছে দেন এবং পরদিন নয় দিনের ছুটিতে বাড়ি চলে যান।

ইমরুল কায়েস আরও বলেন, ছুটিতে থাকা অবস্থায় ১৮ এপ্রিল বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পারেন।

সাক্ষ্যে তিনি আরও দাবি করেন, ২৩ এপ্রিল ছুটি শেষে র‌্যাব সদর দপ্তরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি কর্মস্থলে অস্বাভাবিক পরিবেশ লক্ষ্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টায় রোল-কল হতো, সেখানে ১৮ এপ্রিলের পর কয়েক দিন সকাল ৭টায় রোল-কল অনুষ্ঠিত হয় এবং জিয়াউল আহসানও নিয়মিত ভোরে অফিসে আসতেন।

তিনি আরও দাবি করেন, একদিন জিয়াউল আহসান ফোনে কথা বলার সময় আরেকটি কল আসে এবং পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয়।

ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালে দাবি করেন, ওই ফোনালাপের একপর্যায়ে জিয়াউল আহসান বলেন, “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দেন।”

এ ছাড়া তাঁর অভিযোগ, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর র‌্যাব সদর দপ্তরের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় এক বছর তিন-চার মাস জিয়াউল আহসানের বডিগার্ড বা রানার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন ঘটনায় “১৫০ থেকে ২০০ জনকে বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে” বলে প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত সাক্ষ্য ও দাবি, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে।

জবানবন্দি শেষে ইমরুল কায়েস আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো বিচারাধীন হিসেবে বিবেচিত হবে।

নিকলীর হাওরে বজ্রপাতে স্টিলবডি নৌকার মাঝির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ
নিকলীর হাওরে বজ্রপাতে স্টিলবডি নৌকার মাঝির মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে বজ্রপাতে বাবুল সরকার (৪৫) নামে এক নৌকার মাঝির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উলাবাইরা চর হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত বাবুল সরকার নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার নারাজ গ্রামের বাসিন্দা এবং কাছু মিয়ার ছেলে। তিনি একটি স্টিলবডি নৌকার মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল সরকারসহ কয়েকজন যাত্রী আশুগঞ্জ থেকে ধান বিক্রি করে স্টিলবডি নৌকায় নিজ এলাকায় ফিরছিলেন। পথে হাওরে প্রবেশের পর আকস্মিক বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে নৌকায় থাকা অন্য যাত্রীরা নিরাপত্তার জন্য পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেন।

তবে নৌকার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মাঝি বাবুল সরকার নৌকার ওপরেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পরে নৌকার গতিবিধি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পাটাতনের নিচে আশ্রয় নেওয়া যাত্রীরা ওপরে উঠে বাবুল সরকারকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানা মজুমদার মুক্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে একজন নৌকার মাঝির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নৌযান চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ভৈরবে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ মামলার আসামি ইমন গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে র‌্যাবের অভিযানে ১৩ মামলার আসামি ইমন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অভিযান চালিয়ে হত্যা, দস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মোট ১৩টি মামলার আসামি এবং একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ইমন (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৪, ভৈরব ক্যাম্প।

রোববার (২১ জুন) দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে ভৈরবের নাটালের মোড় এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ইমন ভৈরব উপজেলার আড়াই ব্যাপারীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং মাসুদ মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের পাঠানো এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইমন কিশোরগঞ্জের সদর, কুলিয়ারচর ও ভৈরবসহ আশপাশের এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দস্যুতা, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ভৈরব থানার মামলা নং-২২(২)/২৫-এর ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। মামলাটিতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৮৫, ৩৮০, ৪২৭, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, দস্যুতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

র‌্যাবের তথ্যমতে, গত ১৮ মার্চ ২০২৬ গভীর রাতে কুলিয়ারচর থানার দাড়িয়াকান্দি-কুলিয়ারচর বাজার সড়কের রেলক্রসিং এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৌশলে রেলগেটের ব্যারিয়ার ফেলে একটি মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের মারধর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়া হয়।

ওই ঘটনায় অষ্টগ্রাম উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফ খান বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে ইমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইমনকে কুলিয়ারচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।