‘মাদকসেবী বা মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’
‘এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, রাতের ভোটের নয়’- এমপি জালাল উদ্দিন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষার লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে মুগদিয়া বাজারে মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
মসূয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস রতন ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই সরকার জনগণের সরকার। এটি বিনা ভোটের সরকার নয়, রাতের ভোটের সরকারও নয়। জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও ভোটে নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছে।”
তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অপরাধ নির্মূলে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মাদক বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এমপি জালাল উদ্দিন আরও বলেন, “মাদকসেবী ও মাদক কারবারি যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।”
তিনি জানান, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত আইনে মাদকসংক্রান্ত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে জামিন সীমিত করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে ডোপ টেস্টের মাধ্যমেও মাদকসেবী ও কারবারিদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা সাধারণ মানুষের মতো সমাজে চলাফেরা করলেও তাদের চিহ্নিত করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলামে মাদক হারাম ঘোষিত হয়েছে। তাই একজন মুসলমান হিসেবে মাদক থেকে দূরে থাকা সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি ধর্মীয় দায়িত্বও।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের কেউ যদি মাদকসেবন বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সভাপতি ওই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। এসব কমিটির মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার করা হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখা প্রয়োজন। পরিবার থেকেই মাদকবিরোধী সচেতনতার সূচনা হতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ভিপি কামাল উদ্দিন, কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদল।
এ সময় উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।













